ঢাকা   রোববার, ২৪ মে ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে পুনর্বহাল ও এস আলমের বহিষ্কারের দাবিতে চিটাগাং রোডে মানববন্ধন



ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে পুনর্বহাল ও এস আলমের বহিষ্কারের দাবিতে চিটাগাং রোডে মানববন্ধন

​ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও গ্রাহক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ২৪ মে রবিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ  চিটাগাং রোড মুক্তি স্মরণি এলাকায় ঢাকা- চট্টগ্রাম হাইওয়ে রোডে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করেছে ‘নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় ঐক্য পরিষদ’।

​স্মারকলিপিতে ব্যাংকের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি জরুরি দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহকরা।

​স্মারকলিপিতে গ্রাহকরা উল্লেখ করেন, একসময় দেশের সবচেয়ে আস্থাশীল ও শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংক ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং বহুল আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে আজ ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। বিশেষত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ব্যাংকটির সুশাসন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে, বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয় এবং ব্যাংকখাতে নজিরবিহীন আর্থিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়।

​গ্রাহক প্রতিনিধি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন  জানান, বর্তমানে ব্যাংকের ভেতরে পুনরায় অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা এবং গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় বহু গ্রাহক আমানত উত্তোলন শুরু করেছেন, যা ব্যাংকের সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।

​স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জনাব ওমর ফারুক খানকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ফলে ব্যাংকের ডিপোজিট বা আমানত অব্যাহতভাবে কমে যাচ্ছে। তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলে ব্যাংকের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির জন্য কর্তৃপক্ষকেই দায়ী থাকতে হবে।

​সংকট উত্তরণে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় ঐক্য পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত ৪টি দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে:  আতঙ্কিত গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং চলমান অস্থিতিশীলতা রোধে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব ওমর ফারুক খানের ছুটি অবিলম্বে বাতিল করে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। 

একই সাথে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে এবং সব ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।  এস আলম গ্রুপের দখলে থাকা ব্যাংকের শেয়ার দ্রুত নগদায়নের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেই অর্থ দিয়ে তাদের ব্যাংকঋণ ও দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।  ব্যাংক খাতে সংঘটিত নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং এস আলম গ্রুপের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।  

ব্যাংকের ভেতরে এস আলমের দোসর, ক্ষমতালোভী, বিভিন্ন অনিয়মের ইন্ধনদাতা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিনষ্টকারী এএমডি কামালুদ্দিন জসীমসহ অন্যান্য কুচক্রীদের অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।  স্মারকলিপির শেষে গ্রাহক সমন্বয় ঐক্য পরিষদের পক্ষে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, দেশের কোটি গ্রাহকের আমানত ও আস্থার প্রতীক এই ব্যাংকটিকে বাঁচাতে অতিসত্ত্বর উপরিউক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এই দাবি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হলে, ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে তাদের পদত্যাগ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে পুনর্বহাল ও এস আলমের বহিষ্কারের দাবিতে চিটাগাং রোডে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

​ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও গ্রাহক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে ২৪ মে রবিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ  চিটাগাং রোড মুক্তি স্মরণি এলাকায় ঢাকা- চট্টগ্রাম হাইওয়ে রোডে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করেছে ‘নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় ঐক্য পরিষদ’।


​স্মারকলিপিতে ব্যাংকের বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি জরুরি দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন গ্রাহকরা।


​স্মারকলিপিতে গ্রাহকরা উল্লেখ করেন, একসময় দেশের সবচেয়ে আস্থাশীল ও শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংক ধারাবাহিক রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং বহুল আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে আজ ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। বিশেষত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ব্যাংকটির সুশাসন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে, বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়া হয় এবং ব্যাংকখাতে নজিরবিহীন আর্থিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়।


​গ্রাহক প্রতিনিধি মুহাম্মদ জামাল হোসাইন  জানান, বর্তমানে ব্যাংকের ভেতরে পুনরায় অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা এবং গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় বহু গ্রাহক আমানত উত্তোলন শুরু করেছেন, যা ব্যাংকের সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।


​স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জনাব ওমর ফারুক খানকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ফলে ব্যাংকের ডিপোজিট বা আমানত অব্যাহতভাবে কমে যাচ্ছে। তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলে ব্যাংকের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির জন্য কর্তৃপক্ষকেই দায়ী থাকতে হবে।


​সংকট উত্তরণে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় ঐক্য পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত ৪টি দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়েছে:  আতঙ্কিত গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং চলমান অস্থিতিশীলতা রোধে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব ওমর ফারুক খানের ছুটি অবিলম্বে বাতিল করে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে। 




একই সাথে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে এবং সব ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।  এস আলম গ্রুপের দখলে থাকা ব্যাংকের শেয়ার দ্রুত নগদায়নের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেই অর্থ দিয়ে তাদের ব্যাংকঋণ ও দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।  ব্যাংক খাতে সংঘটিত নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং এস আলম গ্রুপের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।  



ব্যাংকের ভেতরে এস আলমের দোসর, ক্ষমতালোভী, বিভিন্ন অনিয়মের ইন্ধনদাতা এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিনষ্টকারী এএমডি কামালুদ্দিন জসীমসহ অন্যান্য কুচক্রীদের অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।  স্মারকলিপির শেষে গ্রাহক সমন্বয় ঐক্য পরিষদের পক্ষে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, দেশের কোটি গ্রাহকের আমানত ও আস্থার প্রতীক এই ব্যাংকটিকে বাঁচাতে অতিসত্ত্বর উপরিউক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। এই দাবি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হলে, ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে তাদের পদত্যাগ করতে হবে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত