ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ

মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল রাজশাহীঃ

রাজশাহীর মোহনপুরে জমিজমা সংক্রান্ত জের ধরে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ধুরইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।

মোহনপুর থানা কর্মকর্তা ওসি বলেছেন, যারা ব্যবসায়ী হালিমের উপর হামলা চালিয়েছে অফিসার পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে ধুরইল ইউনিয়ন উত্তরপাড়া গ্রামের হোটেল ব্যবসায়ী হালিম ও আবু বাক্কার সিদ্দিকের মধ্য জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের নিষ্পত্তি করতে মোহনপুর থানা চত্বরে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিবাদমান জমি নিয়ে আদালতে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

অভিযোগ শুনানির তারিখ আগামী মাসের ১৩ অক্টোবর ধার্য আছে।নির্ধারিত তারিখের আগে ওই জমিতে যাতে কোন পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আগেই থেকেই সতর্ক করেছেন মোহনপুর থানা কর্মকর্তা ওসি। ওসির নির্দেশনা অমান্য ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমি দখলে নামে মহব্বতের পক্ষে তার মেয়ের জামাই প্রান্তের নেতৃত্বে ধুরইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শামীম, মোহাম্মদ আলী, ইউসুফ,রাজুসহ ২০/২৫ জনের একটি দল।

এদিকে জমি দখলে বাঁধা দেয় হালিম এসময় হালিমের সাথে মহব্বতপুরের ইউসুফ, শামিম, মোহাম্মদ আলীর ধ্বস্তাধস্তি হয়। তাদের মধ্য ধ্বস্তাধস্তি দেখে হালিমের সাথে প্রতিবাদে যোগ দেন ১০/১২ জনের স্থানীয় মহিলা।
অবস্থা বেগতিক দেখে পিছু হটে প্রান্ত তার দলবল।

এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মোহনপুর থানা ধুরইল ইউনিয়ন বিট অফিসার এসআই জাহেদ শেখ হালিমকে ওসি স্যার ডেকেছেন বলে থানায় আসতে বলেন, হালিম ওইদিন সন্ধ্যার পরে ধুরইল ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রাকিবুল ও সাধারণ সম্পাদক মিনারুলকে সাথে ওসি’র সাথে দেখা করেন। থানা থেকে বেরিয়ে আসা মাত্র আবারো প্রান্ত’র নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল হালিমকে ঘিরে ধরে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। এসময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি রাকিবুল উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি প্রভাষক আক্কাস আলীকে মুঠোফোনে কল দিয়ে ডাকেন। তিনি আসার পর প্রান্ত ও তার বাহিনী চলে যায়। এসময় প্রভাষক আক্কাস আলী হালিমসহ অন্যান্যদের বাড়িতে পৌছে দেন।

গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বর শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্ধ্যার পর দু’পক্ষকে নিয়ে মিমাংসায় বসেন ওসি। থানার কাজ শেষে হালিম বাড়ি ফেরার পথে মহব্বতপুর মায়ার মোড়ে চা খাওয়ার জন্য থামেন এসময় হালিমের সাথে ছিলেন তার চাচাতো ভাই সোহেল রানা, দোলেন ও আমরাইলের মুকুলসহ সেখানে উপস্থিত দোকানদারসহ অনেকেই। চা খাওয়া শেষে তারা বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেওয়ার আগে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ধুরইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শামিমসহ মোহাম্মদ আলী, ইউসুফ, মহব্বতের জামাই প্রান্তসহ অন্যান্যরা দেশীয় অস্ত্র লোহার রড়, সাইকেলের চেইন দিয়ে হালিমের মাথা ও বুকে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। তার মাথার বাম পাশ্বে কয়েকটি সেলাই দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। শামিম ও মোহাম্মদ হালিমকে ধরে রাখে আর ইউসুফ হালিমের বুকে কমপক্ষে ৭০/৮০ বক্সিম মারে। এসময় হালিম অঙ্গান হয়ে গেলে তাকে ফেলে সোহেলকে কিল ঘুসি লাথি মেরে চলে যায় হামলাকারীরা এমনই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা।

তারা মেরে চলে যাওয়ার পর ভাই রানা ও দোলেন মিলে হালিমকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ রাশেদুল ইসলামসহ অন্য চিকিৎসক তার মাথার জখম সেলাই করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, তার মাথা ও বুকে অনেক জোরে জোরে আঘাত কারণে হার্টে প্রভাব পড়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। শারিরিক পরীক্ষা শেষে তার বুকের ও মাথার অবস্থা জানা যাবে।
এদিকে মোহনপুর থানা পুলিশের এসআই জাহেদ শেখ হোটেল ব্যবসায়ি হালিমকে মারধোর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এবিষয়ে মোহনপুর থানা কর্মকর্তা ওসি মোহা.তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করেছি। তারা দু’পক্ষই রাজি হয়েছেন। আগামীতে তাদের নিয়ে আবারো বসার কথা ছিল। এরপরও যারা হালিমের উপর হামলা করেছে লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *