জেলা পরিষদ নির্বাচনে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও জনপ্রিয়তায় এগিয়ে সুলতান মৃধা।

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ মোঃ আরিফ হোসেন টিটু সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা করায় আবারও নির্বাচনী হাওয়া বইছে জেলা ও উপজেলা শহর গুলোতে। এবারও জেলা পর্যায়ে সবোর্চ্চ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দলীয় প্রতীকে। তাই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাপ।
তবে, জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটা হচ্ছেন স্থানীয় ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। সরাসরি জণসাধারণের ভোটাধিকার না থাকায় প্রান্তিক পর্যায়ে আনন্দ না থাকলেও রয়েছে নানান গুঞ্জন। অধির আগ্রহ নিয়ে সকলে এ নির্বাচন উপভোগ করবেন।
আসন্ন পটুয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌরসভা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এ্যাড. মোঃ সুলতান আহমেদ মৃধা। জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা করায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
দলের সকল পর্যায়ের নেতা ও কর্মীদের কাছে সুলতান আহমেদ মৃধা দলের একজন সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত, বিচক্ষন, ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত। বিগত দিনের বিভিন্ন নির্বাচন পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ভোটের রাজনীতিতে পটুয়াখালীতে অনেকের চেয়ে এগিয়ে আছেন এ্যাড. মোঃ সুলতান আহমেদ মৃধা। জেলায় তাকে সবাই জনবান্ধব নেতা হিসেবে চেনেন। সকলের সাথে সদালাপি এবং সুখে দুঃখে সব সময় সকলের পাশে থাকেন। যে কোন সময় দলীয় নেতা কর্মীরা ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন এবং খোজ খবর রাখেন।
সুলতান আহমেদ মৃধা দলীয় মনোনয়ন পেলে পূর্বের তুলনায় জেলা পরিষদের মাধ্যমে জেলায় সার্বিক উন্নয়ন হবে বলে মনে করেন দলীয় নেতা-কর্মী সহ সাধারন জনগন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন।
শিক্ষা জীবন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাথে সমৃক্ত হয়। ১৯৬৬ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে জীবন বাজী রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধো ঝাপিয়ে পরছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সনে পটুয়াখালী সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে সাহিত্য ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়। তারপর ১৯৯৪ সন থেকে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগে অন্তর্ভূক্তি হয়ে আজ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শেও উপর অটল থেকে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
সুলতান আহমেদ মৃধা ১৯৭০ সনে যশোর বোর্ডের অধীন পটুয়াখালী লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী থেকে এস,এস,সি পাশ, ১৯৭২ সনে যশোর বোর্ডের অধীন পটুয়াখালী সরকারী কলেজ থেকে এইচ,এস,সি পাশ, ১৯৭৪ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পটুয়াখালী সরকারী কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। ১৯৭৬ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (হাজী মোহাম্মদ মহসীন হল) থেকে এম, এ পরীক্ষায় পাশ এবং ১৯৭৮ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (সেন্ট্রাল ‘ল’ কলেজ, ঢাকা) থেকে ‘ল’ পাশ করেন।
সুলতান আহমেদ মৃধা বর্তমানে সক্রিয় ও নিবেদিত হয়ে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিনিয়ত দলীয় ও সরকারী কর্মসূতিতে রয়েছে তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি। তার রাজনৈতিক জীবনে সফলতা ও সচ্ছতার সাথে ১৯৯৩ সন থেকে ১৯৯৯ সন পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরসভা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব এবং ২০০৯ সন থেকে ২০১৪ সন পর্যন্ত পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষায় অবদানের জন্য ২০১২ সালে জেলায় শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক দুরদর্শিতার কারনেই ১০ম জাতীয় সংসদে তার স্ত্রী মিসেস লুৎফুন নেছাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। তিনি দলের সিদ্ধান্তের পরিপন্থি কোন কার্যকাপাল করেননি।
১৯৯৩ সন থেকে ১৯৯৯ সন পর্যন্ত সময়ে বরিশাল বিভাগে ৬জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ৫জন ছিল বিএনপি থেকে নির্বাচিত। একমাত্র সুলতান আহমেদ মৃধা আওয়ামীলীগ থেকে ব্যাপক ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। আওয়ামীলীগের রাজনীতি করার কারণে ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালিন সময় বিএনপি সরকার তাকে করারুদ্ধ করেছিল। এছাড়াও ২০০১ সালে আলতাফ চৌধুরী সময় মামলা দিয়ে ২মাস ১৪ দিন হাজতবাস করিয়েছে।
সুলতান আহমেদ মৃধার পটুয়াখালীর সামাজ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে রয়েছে গুরুত্বপূর্ন অবদান। প্রতিষ্ঠা করেছেন হাজী হামেজ উদ্দিন মৃধা ডিগ্রি কলেজ। এছাড়াও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন লোহালিয়া ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, পটুয়াখালী টাউন উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ মাহমুদুর রহমান পলাশ বৃত্তি প্রদান ফাউন্ডেশন, হোসাইনিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও চন্দনবাড়ীয়া জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব এবং কার্যকরি কমিটির সদস্য হিসেবে আব্দুল করিম মৃধা কলেজ, উপদেষ্টা হিসেবে থেকে টাউন জৈনকাঠী জৈনপুরী হুজুরের খানকায়ে হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও পুরান বাজার জামে মসজিদ মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের উন্নয়নে অবর্ননীয় ভূমিকা রেখেছেন।
এছাড়াও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের পটুয়াখালীর সদস্য, ১৯৯৪ সন থেকে সু্্ইড বাংলাদেশ পটুয়াখালী শাখার সভাপতি, ১৯৯১ সন থেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সদস্য, আজীবন সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজি: গ্রাজুয়েট সদস্য। রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি পটুয়াখালী ইউনিটের ভাইস-চেয়ারম্যান, পটুয়াখালী ডায়েবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি, পটুয়াখালী বি,এন,এস,বি চক্ষু হাসপাতাল ও পরিবার পরিকল্পনা সমিতির আজীবন সদস্য। পটুয়াখালী জেলা আইনজীবি সমিতি, আয়কর আইনজীবি সমিতি ও পটুয়াখালী ক্লাবের সদস্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য। পটুয়াখালী শেরে-ই-বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য। ২০১৫ সন থেকে সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন পটুয়াখালী জেলা শাখা। সভাপতি হিসেবেও কাজ করছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে গণমাধ্যমের বিকাশের রয়েছে তার অবদান। নিজে প্রকাশক ও সম্পাদকে দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা করেন দৈনিক পটুয়াখাল

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.