স্বপ্নের পদ্মা সেতু

পটুয়াখালী’তে অলস সময় কাটাচ্ছেন কামার পল্লী

মোঃ আরিফ হোসেন টিটু,
পটুয়াখালীতে পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে ঘিরে অন্যান্য বছর কামার পল্লীতে তুমুল ব্যস্ততা চোখে পড়লেও এবার দৃশ্যপট কিছুটা বদলে গেছে কামারপট্রি এলাকায়। তেমন কাজের চাপ নেই,এছাড়াও ক্রেতার সমাগমও নেই। তাই হতাশ কামার পেশায় জড়িত কামারীরা। ঈদ আসতে মাত্র চারদিন বাকি থাকলেও অবসর সময় কাটচ্ছেন তারা। এদিকে পটুয়াখালী জেলার পূরানবাজার ও কাটপর্টি, ফটিকপর্টি, হেতালিয়া সহ কামার পল্লী ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে দেখা যায় প্রায় ৩০টিরও অধিক দোকান নিয়ে গড়ে উঠেছে কামার পল্লী। সারাবছরই শহর ও এর আশ পাশের এলাকার মানুষজন ছুরি, বটি, দা, টাক্কল কিনতে ও শান দিতে দোকানগুলোতে ভিড় জমান। তবে ঈদ সামনে রেখে কামার পল্লীতে ক্রেতাদের ভিড় তেমন একটা চোখে পড়ছেনা। অল্প কয়েকজন ক্রেতা আসছেন, তাদের কেউ কেউ ছুরি-বটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে এসেছেন পুরনো দা ছুরি শান দেওয়ার জন্য। কামার পাড়ায় ছুরি, বটি কিনতে আসা রিয়াজ বলছেন, আগের তুলনায় দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। আর বিক্রেতারা বলছেন, ছুরি চাকু টাক্কল বটি দা তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে এসব পণ্যের দাম।

তবে আগে এক বস্তা কয়লার দাম ২ শত থেকে তিন শত টাকা থাকলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ শত টাকা। এছাড়াও লোহার দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। কামার পল্লীর ফটিকপর্ট্রির সভাপতি পরিতোশ কর্মকার,সন্তোশ কর্নকার ব্যবসায়ী বলেন,বাজারে লোকজনের সমাগম একেবারেই কম। তাই বেচা-বিক্রিও আগের থেকে অনেক কম। অন্যান্য সময়ে যে পরিমাণ বিক্রি হতো ঈদের আগে যেনো তা আরো কমে গেছে। একেবারেই কাজ নেই, তাই বেকার সময় কাটাতে হচ্ছে। আরেক দোকানি পিজুস কর্মকার বলেন, সবকিছুরই দাম বেড়েছে।

এছাড়াও দা-ছুরি বানাতে যে লোহা-কয়লা লাগে তার দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে আমাদেরকেও দা ছুরি বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে যে ছুরি ৮০ টাকায় বেচতাম, তা এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ১০০ টাকায়। ৪০০ টাকার টাক্কল এখন বেড়ে ৬ শত থেকে সাড়ে ৬ শত টাকা হয়ে গেছে। ফলে অনেক ক্রেতা এসে জিজ্ঞেস করে আবার ফিরে যাচ্ছেন। তারপর বেচা-কেনা মোটামুটি ভালো হচ্ছে। তবে যতোটা আশা করেছিলাম, সে রকম হচ্ছে না।

তবে অনেকে পুরানো লোহা ব্যবহৃত পুরানো দা’ বা বটি সমন্বয় করে নিয়ে নতুন করে দা, বটি,ছুরি তৈরি করে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অনেক কম মূল্য দিতে হচ্ছে। বছরের এ মৌসুমে কামারদের দিন ভাল কাটলেও সারা বছর দিন কাটাতে হয় অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। সরকারি ভাবে কোনো সুযোগ সুবিধা পেলে তাদের অভাব মোছন হবে বলে জানালেন কর্মকার সম্প্রদায়ের লে লোকেরা।

পটুয়াখালীর সবুজ বাগ এলাকা থেকে কোরবানির গরুর হাড্ডি কাটারজন্য টাক্কল বানাতে আসা মো,ইউনুস মিয়া তিনি বলেন, টাক্কল কিনতে এসেছিলাম। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম বানিয়ে নিয়ে যাই, পণ্যটা মজবুত পাওয়া যাবে। দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবকিছুরই দাম বেড়েছে কিআর বলব। কিছুটা ক্ষোপপ্রকাশ করলেন তিনি।।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.