পটুয়াখালীতে শালিশীতে বসে, নারীর হাত ভেঙ্গে দেয় স্থানীয় মেম্বার সরোয়ার

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ মোঃ আরিফ হোসেন টিটু, পটুয়াখালী’র মির্জাগঞ্জে ভাই ভাই বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ ব্যবস্থার নাটক সাজিয়ে সুমনা আক্তার (৪০) নামের এক নারীর হাত ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার সরোয়ারে বিরুদ্ধে।

গত ৩০( জুলাই) শনিবার সন্ধা ৬ টার দিকে মির্জাগঞ্জ থানার ৪নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘটকের আন্দুয়া নামক স্থানে এই ঘটনাটি ঘটে।

এবিষয় ভুক্তভোগী সুমনা আক্তারের স্বামী নয়ন মাঝি বলেন, গত ২৮ জুলাই আমার মেয়ে সুরমাকে বিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য ঘটকসহ ছেলে পক্ষের দু’একজন আমার বাড়ি আসে। বাড়িতে ঢুকার পথে আমার চাচাতো ভাই সোহরাবের স্ত্রী সালমা বেগম আমার মেয়েকে গরু বলে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে আগত অতিথিদের সাথে। বিষয়টি নিয়ে পরের দিন আমি ভাই সোহরাবের ঘরে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের উদ্দেশ্য জানতে গেলে তাকে ঘরে না পেয়ে আমি চলে যাই। এদিক ভাই সোহরাবের ঘরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অহেতুক উত্তেজিত হয়ে সোহরাব ও তার ছেলে ফয়সালসহ বেশ কয়েকজন আমি ও আমার মেয়ে সুরমাকে মারার উদ্দেশ্য বাড়ির সামনে দেশিও অস্ত্র সহ বেড়ি কেট দেয়। আমাদের চিৎকার চেচামেচিতে তারা স্থান ত্যাগ করে চলে যায়। পরেরদিন গত ২৯ (জুলাই) আমাদের ইউনিয়ন মির্জাগঞ্জের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার সরোয়ারের কাছে সালিশ ব্যবস্থার জন্য গেলে তিনি পরে দেখবেন বলে জানান।

ঘটনার দিন গত ৩০ (জুলাই) সন্ধা ৬ টায়
মেম্বার সরোয়ার হঠাৎ আমাকে ডেকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। সাথে মাখন গাইন ও রাসেল খাঁ ছিলেন
এবং এখন সালিশ ব্যবস্থা করবেন বলে আমাদের উভয় পক্ষকে ডাকেন। সালিশীর এক পর্যায় পূর্বের ন্যায় ভাই সোহরাব মেম্বারের সম্মুখে আমার কন্যা ও স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালমন্দ দেয়। এ সময় মেম্বার সরোয়ারের

আমরা এর প্রতিবাদ জানালে উল্টো মেম্বার সরোয়ার আমাদের শাসাতে থাকে। এবং দরাজ কন্ঠে বলেন ভোটের সময় তোরা আমার বিরোধিতা করেছিস্ এখন তোদের কিসের সালিসি। তোর মেয়ের কিসের বিয়ে। আরো বলেন, তোর মেয়ের বিয়ে দেয়ার আগে আমরা সবাই লাইন দিয়ে… করবো। একথা বলার পর আমার স্ত্রী সুমনা আক্তার মেম্বারের কুরুচিপূর্ণ ভাষার প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে মেম্বার আমার স্ত্রী সুমনাকে ব্যপক মারধর করে ঘরের মেজ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হাত ভেঙে দেয়। ওই রাতে আমার স্ত্রীকে নিয়ে মির্জাগঞ্জ ৫০ সয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। এখবর পেয়ে মেম্বার উল্টো প্রতিপক্ষকে দিয়ে নিজে স্বাক্ষী হয়ে মির্জগঞ্জ থানায় আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এবিষয়ে মেম্বার সরোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন। আমি কারো গায়ে হাত তুলিনি এটা আমার বিরুদ্ধে গভীর শরযন্ত্র।

এব্যপারে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে এরিয়ে যায়।সর্বিক বিষয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ্যাড. নাসির বলেন,বিষয়টি আপনাদের কাছে এই মাত্র জানতে পারলাম তবে মেম্বারদের সালিশ ব্যবস্থা করার এক্তিয়ার রয়েছে কিন্তু করো গায়ে হাত তোলা বে-আইনি। এবং এবিষয় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ভুক্তভোগী সুমনা আক্তার বলেন, এখন আমার মেয়েটি নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় রয়েছি। যেকোনো মুহূর্তে মেম্বার ও তার পেটোয়া বাহিনী আমার মেয়ের সর্বনাশ করতে পারে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মারামারি এই ঘটনাটি নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *