ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::

বন্দরে চাঁদার দাবীতে ৩ ভাইকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৩ ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

বন্দরে চাঁদার দাবীতে ৩ ভাইকে পিটিয়ে জখম

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে চাঁদার দাবীতে ছাত্র সমাজ নেতা সহ ৩ সহোদর ভাইকে পিটিয়ে আহত করেছে আওয়ামী লীগ নেতার ভাই ও সন্ত্রাসীরা। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।  এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) সকালে উপজেলার পুরান বন্দর নুরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
থানার অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, চিনারদী গ্রামের হাজী সামসুল হকের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও তার সহোদর ভাইয়েরা বিভিন্ন প্রজেক্টে ইট বালু সরবরাহের ব্যাবসা করেন। স্থানীয় ভুমিদস্যু তথা মৃত ফালান ব্যাপারীর ছেলে সামসুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন যাবত মোটা অংকের অর্থ দাবী করে আসছে। তাদেরকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
গত ১৮ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে একটি ভ্যান গাড়ি চুরির ঘটনা কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নুরপুর রাস্তায় রফিকুল ইসলাম কে একা পেয়ে বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.  তাজুল ইসলামের ভাই সামসুল ইসলাম ও তার ছেলে আরাফাত, একই এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম, রিপন মিয়ার ছেলে পাপ্পু, টুনু মিয়ার ছেলে সোহান সহ আরও কয়েকজন দেশীয় অশ্র নিয়ে পথরোধ করে এবং মারপিট করে।
খবর পেয়ে রফিকুল ইসলামের ভাই  উপজেলা ছাত্র সমাজ নেতা নয়ন সরদার, নাজমুল এবং নাসির উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়। এসময় তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং বিভিন্ন হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় আহত নয়ন সরদার বাদী হয়ে সামসুল ইসলাম সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শামীম মিয়া জানান, অনেক আগে থেকেই সামসুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা এলাকার নিরীহ মানুষের জমি দখল করে আসছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি তার ভাই এড. তাজুল ইসলাম বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সামসুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা।
এ বিষয় জানতে চাইলে এড. তাজুল ইসলাম বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ শহরে থাকি, বাড়িতে থাকি না। শুনেছি, মঙ্গলবার সকালে বন্দর উপজেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি নয়ন সরদার ও তার ভাইয়েরা মিলে আমার ভাই সামসুল ইসলাম ও তার ছেলে আরাফাত কে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুতই আইনী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন্দর থানার এস আই মফিজুর রহমান জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বন্দরে চাঁদার দাবীতে ৩ ভাইকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৩
নারায়ণগঞ্জ বন্দরে চাঁদার দাবীতে ছাত্র সমাজ নেতা সহ ৩ সহোদর ভাইকে পিটিয়ে আহত করেছে আওয়ামী লীগ নেতার ভাই ও সন্ত্রাসীরা। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।  এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) সকালে উপজেলার পুরান বন্দর নুরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
থানার অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, চিনারদী গ্রামের হাজী সামসুল হকের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও তার সহোদর ভাইয়েরা বিভিন্ন প্রজেক্টে ইট বালু সরবরাহের ব্যাবসা করেন। স্থানীয় ভুমিদস্যু তথা মৃত ফালান ব্যাপারীর ছেলে সামসুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন যাবত মোটা অংকের অর্থ দাবী করে আসছে। তাদেরকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয় সন্ত্রাসীরা।
গত ১৮ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে একটি ভ্যান গাড়ি চুরির ঘটনা কে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নুরপুর রাস্তায় রফিকুল ইসলাম কে একা পেয়ে বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.  তাজুল ইসলামের ভাই সামসুল ইসলাম ও তার ছেলে আরাফাত, একই এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম, রিপন মিয়ার ছেলে পাপ্পু, টুনু মিয়ার ছেলে সোহান সহ আরও কয়েকজন দেশীয় অশ্র নিয়ে পথরোধ করে এবং মারপিট করে।
খবর পেয়ে রফিকুল ইসলামের ভাই  উপজেলা ছাত্র সমাজ নেতা নয়ন সরদার, নাজমুল এবং নাসির উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেয়। এসময় তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং বিভিন্ন হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় আহত নয়ন সরদার বাদী হয়ে সামসুল ইসলাম সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শামীম মিয়া জানান, অনেক আগে থেকেই সামসুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা এলাকার নিরীহ মানুষের জমি দখল করে আসছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি তার ভাই এড. তাজুল ইসলাম বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সামসুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা।
এ বিষয় জানতে চাইলে এড. তাজুল ইসলাম বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ শহরে থাকি, বাড়িতে থাকি না। শুনেছি, মঙ্গলবার সকালে বন্দর উপজেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি নয়ন সরদার ও তার ভাইয়েরা মিলে আমার ভাই সামসুল ইসলাম ও তার ছেলে আরাফাত কে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুতই আইনী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন্দর থানার এস আই মফিজুর রহমান জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।