স্বপ্নের পদ্মা সেতু

বাউফলে আ,লীগ প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে দমন, একক রাজনৈতি করার ষড়যন্ত্র

সংবাদদাতা বাউফলঃপটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালে। সেই নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন ততকালীন কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক জুয়েল। এরপর থেকে তাঁর(জুয়েল) উন্নয়ন মূলক কাজের অঙ্গীকারে সন্তুষ্ট হয়ে এবং তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ মেয়র জুয়েলের সাথে একাত্বতা পোষণ করে রাজনীতি শুরু করেন। ২০১২ সালের অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি আ স ম ফিরোজের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয় পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র মোঃ জিয়াউল হক জুয়েলের। সেই থেকেই বাউফলে আওয়ামীলীগের দুটি সক্রিয় গ্রুপ বিদ্যমান। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় এমপি ফিরোজ ও অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন পৌর মেয়র জুয়েল।

২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুরু হয় দুই গ্রুপের মতের অমিল। মতের অমিলের জেরধরে বিরোধের চড়মে পৌছাতে থাকে স্থানীয় আওয়ামীলীগের এই দুই গ্রুপ। যার ফলশ্রুতিতে দুই গ্রুপের ভিতরে নানা বিষয় নিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষের ঘটনা। এই সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মী আহত ও নিহত হলেও ঘটনা গুলোকে কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিক মামলা দায়ের করতে থাকে এমপি পক্ষের নেতা-কর্মীরা। যে মামলাগুলোর কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বাকিগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে।

আওয়ামীলীগ সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত মেয়র জুয়েলের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ অঙ্গসংগঠনের কয়েকশত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে প্রায় দুই ডজন মামলা। এই মামলাগুলোর অধিকাংশতেই আসামি করা হয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের। উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মেয়র জুয়েলের অনুসারী। ‘ ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি সামান্য কথা-কাটাকাটির ঘটনাতেও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে বিভিন্ন ধারার মিথ্যা মামলা। ত্যাগী আওয়ামীলীগকে দাবিয়ে রাখতে এবং অবৈধ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। ‘

সম্প্রতি ২০২০ সালের ২৪ মে থানার সামনে তোরন নির্মাণ কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে ছুরিঘাতে আহত হয় ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী তাপস দাস এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তাপস স্থানীয় এমপি গ্রুপের কর্মী ছিলেন। তাপস দাস হত্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় পৌর মেয়র জুয়েলকে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আসা প্রথম আলোর সাংবাদিক এবিএম মিজানুর রহমানকেও আসামি করা হয় উক্ত মামলায়। এছাড়াও ওই মামলায় আসামি করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রাহাত জামশেদ সহ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থাকা নেতাদের।

সংবাদমাধ্যম, ‘পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৪ মে ২০২০ খ্রি. দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনার সময় তোরন নির্মাণের বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য বাউফল থানার কনফারেন্স রুমে আলোচনায় বসেছিলেন পৌর মেয়র জুয়েল, স্থানীয় এমপি ফিরোজ গ্রুপের উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম ফারুক, বাউফল থানার ততকালীন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, সার্কেল এসপি ফারুক হোসেন ও ততকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তাঁরা তাপসের আহতের খবর পেয়ে থানার ভিতর থেকে ঘটনা স্থলে আসেন। ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়নি পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলকে। ‘ তবুও তাপসের হত্যা মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়েছে কেন এমন প্রশ্ন আওয়ামী নেতাদের। ‘

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে আরো জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে অনিয়মের বিষয় নিয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসারেফ খাঁনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয় এমপি আ স ম ফিরোজের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের। এই দূরত্ব তৈরী হওয়ার কিছু দিনের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ১৫ আগষ্টের শোক ব্যানার ভাঙচুরের অভিযোগ এনে একটি মামলায় অভিযুক্ত করা হয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদারকে এবং তাঁর বড় ছেলে বগা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহমুদ হাসানকে। উক্ত মামলাটি দায়ের করেন স্থানীয় এমপি গ্রুপের বগা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মালেক মীর।

স্থানীয় আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এসকল মামলা দায়ের করা হচ্ছে। নিরপরাধ ও আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাদের এসকল মামলায় আসামি করে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত এই মামলার খেলা সমাধান না হলে চরম দুরবস্থা ও কর্মী সংকটে পরতে হবে বাউফল উপজেলা আওয়ামীলীগকে।

বাউফল পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি (একাংশ) ও প্যানেল মেয়র আব্দুল লতিফ খান বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাঁরা ধারাবাহিক ভাবে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। পৌর মেয়র মহোদয়কে মিথ্যা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার নয়া চাল। আমরা এই সকল মিথ্যা মামলার প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি। সুষ্ঠ সুন্দর রাজনৈতিক চর্চা করার জন্য তাঁদেরকে (এমপি গ্রুপ) আহবান জানাচ্ছি।

বাউফল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য জসিম উদ্দিন ফরাজী বলেন, মামলা হামলার রাজনীতি হইলো একটা প্রতিহিংসার রাজনীতি। ফিরোজ এমপি ১৯৭৯ সালে বাউফলের রাজনীতিতে আসে। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে চার বছর আওয়ামী রাজনীতিতে তাঁর কোন সম্প্রিক্ততা ছিলো না। ত্যাগী আওয়ামীলীগকে দাবিয়ে রাখা তাঁর পুরানো অভ্যাস। সে ৭৯ সালে বাউফলে আসার পরে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা উপজেলা আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গফুর মিয়া, ৭৫ এর পরবর্তী সময়ের সভাপতি ওয়াদুদ মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত মিয়া সহ বিভিন্ন পর্যায়ের মূল আওয়ামীলীগ নেতাদের সরিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের ও হাইব্রিড নেতাদের পদে বসিয়েছেন। সে কায়েমী স্বার্থবাদী রাজনীতি রাজনীতি করে। যার প্রমাণ দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজের ছেলে রায়হান সাকিবকে দিয়ে মনোনয়ন ফরম তোলা এবং টাকা দাখিল করা। যেখানে দলীয় সিদ্ধান্ত ছিলো আ স ম ফিরোজ যদি নির্বাচন করতে না পারে তাহলে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা রেজা খন্দকার নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করবে। তারপরে তাঁর ছেলের টাকা দাখিলকে কিভাবে দেখবেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের বাউফলের বিষয়ে সু-দৃষ্টি দেয়া উচিত অন্যথায় এভাবে দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কোনঠাসা করতে থাকলে বাউফলে আওয়ামীলীগ খুঁজে পাওয়া যাবে না।কায়েমী স্বার্থবাদী রাজনীতির জয় হবে।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.