বাউফলে এমপি’র ইন্দোনে বগার চেয়ারম্যান উপর হামলা,আবদুল মোতালেব

বাউফল প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায়,সংঘর্ষে ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষেদের চেয়ারম্যান, ছাত্রলীগ, যুব লীগকর্মী ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

গুরুতর আহত বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসান (৩৫), বগা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জসিম (৩৪), মিজান মোল্লা (৪০), বগা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সুমন (৩০) ও বগা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি আশ্রাফকে (২৮) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে আওয়ামী লীগ কার্যলয় জনতা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, আসন্ন বাউফল পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী বাছাই’র উদ্দেশ্যে আজ ২৮ ডিসেম্বর সোমবার বিকাল ৩টায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় জনতা ভবনে বিশেষ বর্ধিত সভা আহবান করা হয়। ওই সভায় স্থানীয় এমপি আসম ফিরোজ, দলের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফারুকসহ কয়েকশ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে চন্দ্রদ্বিপ ইউনিয়ের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক আলকাস মোল্লা বক্তব্য শুরু করেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদের মোবাইলে কল করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার ইচ্ছে পোশন করেন। তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার চেয়ারম্যান এনামুল হক আলকাস মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,‘ আপনিতো বহিস্কৃত নেতা । আপনার বক্তব্য দেয়ার প্রয়োজন নেই।’এখন মোবাইল ফোনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বক্তব্য দিবেন। আপনি বসেন।’

এসময় আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে ও বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসানকে আওয়ামী লীগ কার্যালয় জনতা ভবনের ভিতর থেকে টেনেহেচরে বাইরে নামিয়ে এলাপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। তখন চেয়ারম্যান হাসানের লোকজন তাকে উদ্ধার করতে এলে তাদেরকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে।

মারামারিরর দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে মাইটিভির বাউফল প্রতিনিধি ও বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অহিদুজ্জামান ডিউক ও যুগান্তর প্রতিনিধি জিএম মশিউর রহমান মিলন, কালাইয়া ইউনিয় যুবলীগের সভাপতি মিজান মোল্লাসহসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

ওই সময় সাংবাদিক মিলনের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে ধারণকৃত ভিডিও মুছে ফেলে। পরে মোবাইল ফোনটি ফেরৎ দেয় । এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন,‘ এমপি আসম ফিরোজের ইন্দোনেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমার নেতাকর্মীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে হামলা করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে এমপি আসম ফিরোজকে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি বলে জানা যায়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *