বাউফলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অযত্নে অবহেলায় ঝাড়জংগল, নেই তদারকি

বাউফলে প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার যেন একটা বোঝা। পড়ে আছে অযত্নে অবহেলায়, নেই কেউ দেখার। চোখের নাগালে থাকলেও যেন কারও চোখে পড়ছেনা এই শহীদ মিনার। করছেনা কেউ দেখভাল তদারকি। পড়ে আছে এতিমের মতো করে।

মঙ্গলবার (৩১ আগষ্ট ) দুপুরের দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ( বাউফল পাবলিক ফিল্ড ) পৌর শহরের শেখ রাসেল মিনি ফুটবল মাঠের পশ্চিম পাশে অবস্থিত শহীদ মিনারের শ্রদ্ধার বেদিতে ছাগল শুয়ে আছে। পুরো শহীদ মিনারের বেদি সহ সিড়িতে গোমূত্র, ছাগলের বিষ্টা ও কাদামাটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। স্থানীয় মহিলারা শহীদ মিনারের বেদিতে হলুদ মরিচ শুকাচ্ছে আপন মনে। শহীদ মিনারের সামনে রয়েছে কাদা মাটি পানি। মিনারের পিছনে ও দুপাশে রয়েছে নর্দমার ময়লা পানি সাথে ঝাড়জংগল। মনে হয় না এটা শহীদ মিনার নাকি অন্য কিছু।

১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার জন্য ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে স্বৈরাচার পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে শহীদ হন রফিক, সফিক, সালাম, জব্বার ও বরকত। সেই থেকে বাংলাদেশ তথা বহির্বিশ্ব ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। শহীদের স্মরনে ও তাদের আত্মাকে শ্রদ্ধা জানাতে সকল মানুষের পুষ্পঅর্পনের মাধ্যমে প্রতি বছর এ পালিত হয় মাতৃভাষা দিবস।

স্থানীয়রা জানান, আমরা কোথাও দেখিনি যে এভাবে অযত্নে অবহেলায় শহীদ মিনার পড়ে থাকতে। প্রতিবছরই ২১ শে ফেব্রুয়ারি কোনও রকম পয়-পরিস্কার করে বেদিতে ফুল দিয়ে হয়ে যায় লাপাত্তা। আগের মতোই আবার পড়ে থাকে শহীদ মিনারটি। আজকে যদি শহীদ মিনারটি দেখভাল করা হতো অথবা চারপাশে বেষ্টনী থাকতো তাহলে এরকম কখনই হতো না।

পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ও তারুণ্যের বাউফল গ্রুপের এডমিন ও উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজ সেবক ফিরোজ আলম বলেন, এই অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা শহীদ মিনারটি রক্ষনাবেক্ষনের জন্য যদি উপজেলা প্রশাসন এগিয়ে আসে তাহলে আমরাও আমাদের এই সামাজিক সংগঠন তারুণ্যের বাউফল পরিবার তাদের সাথে ঐক্য হয়ে শহীদ মিনারটি ভালো রাখার উপায়ে কাজ করবে।

এদিকে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এনায়েত খান সানা বলেন, আসলেই শহীদ মিনারটি অযত্নে অবহেলিত ভাবে পড়ে আছে। অনেকেরই দেখা যায় ওই শহীদ মিনারে জুতা পায়ে দিয়ে উঠে বসে বা ছবি তুলে। এর কারন হলো শহীদ মিনারটি গোমুত্র, ছাগলের বিষ্টা সহ কাদা মাটি ময়লা পানি থাকায় কেহ জুতা না খুলেই উঠে। আজকে যদি য়-পরিস্কার থাকতো তাহলে কেউই এটা করতো না। আমরা উপজেলা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি যাতে শহীদ মিনারটিকে দেখভাল তদারকি করে ভালো রাখা হয়। আমরাও এব্যাপারে প্রশাসনকে সহযোগীতা করব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *