স্বপ্নের পদ্মা সেতু

বাউফলে ছাত্রলীগের মিছিলে হামলা,ঘটনার সময় ঢাকা,পুলিশের চার্জসিটে আসামী  

বাউফল সংঘর্ষের দিন এলাকায় না থেকে পুলিশের চার্জশিটে আসামী

বাউফল প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর বাউফলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলের নেতৃত্ব থাকা ছাত্রলীগের ২১ ফেব্রুয়ারি শ্রদ্ধাঞ্জলী তোড়া ভাঙার প্রতিবাদ মিছিলের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ঘটনায় স্থানীয় এমপি আ.স.ম ফিরোজ গ্রুপ ও মেয়র গ্রুপের ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়গ্রুপের কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়। আহতের ঘটনায় উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান (এমপি আ.স.ম ফিরোজ গ্রুপ) বাদী হয়ে মেয়র জুয়েলের নিকটতম আত্মীয়স্বজন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ৩৪ জনকে আসামি করে বাউফল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২৮ তারিখ ২২.০২.২১ইং।

ওই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত না এমন ব্যক্তিদের নামে অধিকতর তদন্ত ছাড়াই বাদীকে খুশি রেখে গোপনে এজাহারে উল্লেখিত ৩৪ জনের নামেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌর সভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলের নেতৃত্ব থাকা বাউফল উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের ২১ ফেব্রুয়ারী শ্রদ্ধাঞ্জলী তোরা ভাঙার প্রতিবাদ মিছিলের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ঘটনায় স্থানীয় এমপি আ.স.ম ফিরোজ গ্রুপের ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের (মেয়র গ্রুপ) মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

আহতের ঘটনায় উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান (এমপি গ্রুপ) বাদী হয়ে পৌর মেয়র জুয়েলের নিকটতম আত্মীয়স্বজন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ৩৪ জনকে আসামি করে বাউফল থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা অধিকতর তদন্ত না করেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মেয়র জুয়েলকে রাজনৈতিক ভাবে কোনঠাসা করে রাখার জন্য স্থানীয় এমপি আসম ফিরোজ ও বাদীকে খুশি করতে ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের জড়িয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বাউফল থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক শেখ জাহিদুল ইসলাম। সঠিক তদন্ত না করেই শুধু মাত্র বাদী পক্ষের কথিত মতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই ঢাকা অবস্থানরত বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পৌর কাউন্সিল ও পৌর মেয়রের নিকটতম আত্বীয়-স্বজন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময়ে ঘটনাস্থলে ছিলোনা এমন অনেককেই অভিযোগপত্রে আনা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্র্শক শেখ জাহিদুল ইসলাম। তার নামের আগে শেখ থাকায় তিঁনি গোপালগঞ্জের লোক বলে বাউফলে জনশ্রুতি ও প্রভাব রয়েছে।

জানা গেছে, অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে তার মধ্যে পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান আরিফ ঘটনার ১ মাস আগ থেকে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

আরিফ খানের ভাই পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হাসান খান বলেন, আমার ভাই (আরিফ) দীর্ঘদিন যাবত ঢাকায় অবস্থান করছে। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারী বিকেলে তিনি যাত্রাবাড়ি থানাতে গিয়েছিলেন আমাদের ব্যক্তিগত কাজে। প্রশাসন চাইলে যাত্রাবাড়ি থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেন। তাছাড়া আমার ভাইয়ের কললিস্ট নেটওয়ার্ক চেক করতে পারে। আমরা বারবার বলার পরেও পুলিশ আমার ভাইকে জড়িয়ে দিয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.