ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
সংবাদ শিরোনাম ::

সোনারগাঁওয়ের অবহেলিত মানুষের উন্নয়নের ভরসা মারুফুল ইসলাম ঝলক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

মারুফুল ইসলাম ঝলক

দীর্ঘ ১০ বছর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি না থাকায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে আছে সংগঠনটি। এর ফলে এলাকাবাসীও উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে। এই জায়গা থেকে এবার দল ও সোনারগাঁওয়ের মানুষের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছেন তরুণ নেতৃত্ব মারুফুল ইসলাম ঝলক।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারও কায়সার হাসনাতকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়ার পরও তাঁর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা ও তাঁর চাচাত ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোবারক হোসেনের ছেলে এরফান হোসেন দ্বীপ। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক এ এইচ মাসুদ দুলাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের একই পরিবারের তিনজন ও অপর দুজন প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের পুরো সুযোগ চলে যাবে জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকার ঘরে। এর আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগে কোন্দলের কারণে পরপর দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন লিয়াকত হোসেন খোকা। ফলে দিনের পর দিন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বিভক্তি বেড়েছে।

যদিও এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের জনপ্রিয় কোনো নেতা নির্বাচন করলে সেক্ষেত্রে দল তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না। দলের এই সিদ্ধান্তের কারণে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

নিজের স্বতন্ত্র প্রার্থীতার বিষয়ে তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মারুফুল ইসলাম ঝলক বলেন, ‘আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘ ৫৯ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা কখনো কোনো পদ বা পদবির জন্য লড়াই করিনি। বছরের পর বছর তৃণমূলের নেতাদের অবমূল্যায়নের কারণে তৃতীয় পক্ষের ঘরে চলে যাচ্ছে উন্নয়নের সুফল। তাই নিজ দল ও এলাকাবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে এবার আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাড়িয়েছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারুফুল ইসলাম ঝলক বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে আছেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের আর্থিক অন্তর্ভূক্তি এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি তিনি দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এসেছন। ফলে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে এলাকাবাসী তাঁর কাছে প্রত্যাশা রাখে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাঁর মা সোনারগাঁওয়ের বৌ হিসেবে নারায়ণঞ্জের মহিলা শিক্ষাবিদ ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. শিরিন বেগমের ছেলে ঝলক। এছাড়াও তার বাবা-মা এবং তিনি ওসমান পরিবারের একরকম অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জে সুপরিক্ষিত। কিছুদিন আগেও উনার একটি ইন্টারভিউতে উনি বলেন ‘শামীম ওসমান চাচা আমার রাজনৈতিনক অভিবাবক’।

সোনারগাঁওয়ের মানুষের উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হোসেন সোহাগ বলেন, ‘সোনারগাঁওয়ে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের এমপি নেই। যার কারণে তরুণ নেতৃত্ব ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে এলাকাবাসী মারুফুল ইসলাম ঝলককে বেছে নিতে চায়। এর পেছনে কারণ হিসিবে বলা যায়, সোনারগাঁওয়ের অধিকাংশ মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে নিজ দলের এমপি না থাকায়।’

দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অনৈক্য ছিল বছরের পর বছর। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর জমকালো আয়োজনে সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করার দিনও সম্মেলন মাঠে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার মনোনীত প্রার্থী কায়সার হাসনাত ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থকদের হামলায় আহত হয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সদস্য দিপক কুমার বনিক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সমর্থকেরা। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের কারণে বারবার নৌকা দিলেও আপনারা নৌকা ডুবিয়ে অন্য কাউকে নির্বাচিত করেন।

নির্বাচনের বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলে প্রতিযোগিতা থাকবেই। আমাদের মধ্যে কোন্দল নেই। প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ জানুয়ারি সোনারগাঁওয়ের মোট ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৮ জন ভোটার ১৩১টি কেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবে। জনপ্রিয় প্রার্থীকে নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী করবে সোনারগাঁওবাসী।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সোনারগাঁওয়ের অবহেলিত মানুষের উন্নয়নের ভরসা মারুফুল ইসলাম ঝলক

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৩

দীর্ঘ ১০ বছর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি না থাকায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে আছে সংগঠনটি। এর ফলে এলাকাবাসীও উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে। এই জায়গা থেকে এবার দল ও সোনারগাঁওয়ের মানুষের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছেন তরুণ নেতৃত্ব মারুফুল ইসলাম ঝলক।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারও কায়সার হাসনাতকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়ার পরও তাঁর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা ও তাঁর চাচাত ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোবারক হোসেনের ছেলে এরফান হোসেন দ্বীপ। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক এ এইচ মাসুদ দুলাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের একই পরিবারের তিনজন ও অপর দুজন প্রার্থী থাকায় নির্বাচনের পুরো সুযোগ চলে যাবে জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকার ঘরে। এর আগে স্থানীয় আওয়ামী লীগে কোন্দলের কারণে পরপর দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন লিয়াকত হোসেন খোকা। ফলে দিনের পর দিন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বিভক্তি বেড়েছে।

যদিও এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত আছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের জনপ্রিয় কোনো নেতা নির্বাচন করলে সেক্ষেত্রে দল তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না। দলের এই সিদ্ধান্তের কারণে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

নিজের স্বতন্ত্র প্রার্থীতার বিষয়ে তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মারুফুল ইসলাম ঝলক বলেন, ‘আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘ ৫৯ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা কখনো কোনো পদ বা পদবির জন্য লড়াই করিনি। বছরের পর বছর তৃণমূলের নেতাদের অবমূল্যায়নের কারণে তৃতীয় পক্ষের ঘরে চলে যাচ্ছে উন্নয়নের সুফল। তাই নিজ দল ও এলাকাবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে এবার আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাড়িয়েছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারুফুল ইসলাম ঝলক বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে আছেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের আর্থিক অন্তর্ভূক্তি এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি তিনি দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এসেছন। ফলে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে এলাকাবাসী তাঁর কাছে প্রত্যাশা রাখে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাঁর মা সোনারগাঁওয়ের বৌ হিসেবে নারায়ণঞ্জের মহিলা শিক্ষাবিদ ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. শিরিন বেগমের ছেলে ঝলক। এছাড়াও তার বাবা-মা এবং তিনি ওসমান পরিবারের একরকম অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জে সুপরিক্ষিত। কিছুদিন আগেও উনার একটি ইন্টারভিউতে উনি বলেন ‘শামীম ওসমান চাচা আমার রাজনৈতিনক অভিবাবক’।

সোনারগাঁওয়ের মানুষের উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হোসেন সোহাগ বলেন, ‘সোনারগাঁওয়ে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের এমপি নেই। যার কারণে তরুণ নেতৃত্ব ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হিসেবে এলাকাবাসী মারুফুল ইসলাম ঝলককে বেছে নিতে চায়। এর পেছনে কারণ হিসিবে বলা যায়, সোনারগাঁওয়ের অধিকাংশ মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে নিজ দলের এমপি না থাকায়।’

দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অনৈক্য ছিল বছরের পর বছর। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর পর জমকালো আয়োজনে সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করার দিনও সম্মেলন মাঠে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নৌকার মনোনীত প্রার্থী কায়সার হাসনাত ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থকদের হামলায় আহত হয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সদস্য দিপক কুমার বনিক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বিরুর সমর্থকেরা। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের কারণে বারবার নৌকা দিলেও আপনারা নৌকা ডুবিয়ে অন্য কাউকে নির্বাচিত করেন।

নির্বাচনের বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো জনপ্রিয় দলে প্রতিযোগিতা থাকবেই। আমাদের মধ্যে কোন্দল নেই। প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা থাকলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ জানুয়ারি সোনারগাঁওয়ের মোট ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৮ জন ভোটার ১৩১টি কেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবে। জনপ্রিয় প্রার্থীকে নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী করবে সোনারগাঁওবাসী।’