ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

সাভারে ত্রাস সৃষ্টি করা সিরিয়াল কিলার সাইকো সম্রাট এর মৃত্যু


মোঃ রানা
মোঃ রানা
| ফটো কার্ড

সাভারে ত্রাস সৃষ্টি করা সিরিয়াল কিলার সাইকো সম্রাট এর মৃত্যু

ঢাকার সাভারের জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’ (আসল নাম সবুজ শেখ) মারা গেছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে সাভারের অপরাধ জগতের এক বীভৎস ও অন্ধকার অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

​কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় সম্রাট হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​যেভাবে আলোচনায় আসে ‘সাইকো সম্রাট’

সাভার পৌর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনকে ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত করেছিল এই খুনি।

গত ১৮ জানুয়ারি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধারের পর তার নৃশংসতার চিত্র সামনে আসে। এর আগে একই ভবন থেকে আরও তিনটি এবং মডেল মসজিদের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটকে নিজের কাঁধে করে মরদেহ বহন করতে দেখা যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সম্রাট একে একে ৬টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। গত ১৯ জানুয়ারি আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিল।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্রাটের আসল নাম সবুজ শেখ, বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায়। ২০১৪ সালে সাভারের তেঁতুলঝোরায় প্রথম খুনের মাধ্যমে তার অপরাধ জগতে হাতেখড়ি। এরপর বিভিন্ন সময় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে মোট ৭টি হত্যা ও ২টি মাদক মামলা বিচারাধীন ছিল। পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সে ধারাবাহিকভাবে নারী ও পুরুষদের শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো জঘন্য কাজ করত।

​সম্রাটের হাতে নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল তরুণী তানিয়া আক্তারের হত্যাকাণ্ড। সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটকে একটি মরদেহ নিয়ে যেতে দেখা গেলেও শুরুতে তানিয়ার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও দেখে রাজধানীর উত্তরখান থেকে তার পরিবার সাভারে এসে মরদেহ শনাক্ত করে। মেয়ের শেষ পরিণতি জানতে পেরে ও খুনি শনাক্ত হওয়ায় তানিয়ার পরিবার পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল।

​খুনি সম্রাটের মৃত্যুর সংবাদ শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত তানিয়ার মা জুলেখা বেগম ও বোন নাসরিন আক্তার ফারিয়া।

তারা জানান, খুনি বেঁচে থাকলে হয়তো আবারও কারো বুক খালি করত, সৃষ্টিকর্তা তার বিচার করেছেন।

​ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ এন্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম জানান, সম্রাটের মৃত্যুতে আইন অনুযায়ী তাকে মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


সাভারে ত্রাস সৃষ্টি করা সিরিয়াল কিলার সাইকো সম্রাট এর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

ঢাকার সাভারের জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’ (আসল নাম সবুজ শেখ) মারা গেছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে সাভারের অপরাধ জগতের এক বীভৎস ও অন্ধকার অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

​কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় সম্রাট হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​যেভাবে আলোচনায় আসে ‘সাইকো সম্রাট’

সাভার পৌর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনকে ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত করেছিল এই খুনি।

গত ১৮ জানুয়ারি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবন থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধারের পর তার নৃশংসতার চিত্র সামনে আসে। এর আগে একই ভবন থেকে আরও তিনটি এবং মডেল মসজিদের সামনে থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটকে নিজের কাঁধে করে মরদেহ বহন করতে দেখা যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, সম্রাট একে একে ৬টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। গত ১৯ জানুয়ারি আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিল।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্রাটের আসল নাম সবুজ শেখ, বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায়। ২০১৪ সালে সাভারের তেঁতুলঝোরায় প্রথম খুনের মাধ্যমে তার অপরাধ জগতে হাতেখড়ি। এরপর বিভিন্ন সময় মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তার বিরুদ্ধে মোট ৭টি হত্যা ও ২টি মাদক মামলা বিচারাধীন ছিল। পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সে ধারাবাহিকভাবে নারী ও পুরুষদের শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো জঘন্য কাজ করত।

​সম্রাটের হাতে নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল তরুণী তানিয়া আক্তারের হত্যাকাণ্ড। সিসিটিভি ফুটেজে সম্রাটকে একটি মরদেহ নিয়ে যেতে দেখা গেলেও শুরুতে তানিয়ার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও দেখে রাজধানীর উত্তরখান থেকে তার পরিবার সাভারে এসে মরদেহ শনাক্ত করে। মেয়ের শেষ পরিণতি জানতে পেরে ও খুনি শনাক্ত হওয়ায় তানিয়ার পরিবার পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল।

​খুনি সম্রাটের মৃত্যুর সংবাদ শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত তানিয়ার মা জুলেখা বেগম ও বোন নাসরিন আক্তার ফারিয়া।

তারা জানান, খুনি বেঁচে থাকলে হয়তো আবারও কারো বুক খালি করত, সৃষ্টিকর্তা তার বিচার করেছেন।

​ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ এন্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম জানান, সম্রাটের মৃত্যুতে আইন অনুযায়ী তাকে মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত থাকবে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান________ নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত