ঢাকা   সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বাংলার শিরোনাম

সর্বশেষ

মাদকসেবীদের আটক করে পুকুর পরিষ্কার করালেন স্থানীয়রা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের বক্তারমুন্সী বাজারের মাঝখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের ডাকবাংলা সংলগ্ন জসিম ব্রিকস ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক দুজন হলেন—সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের বগাদানা গ্রামের কালা সর্দার বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সাকিব (৪০) এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহাম্মদপুর গ্রামের আব্দুল হাদির ছেলে জাহেদ আলম (৩৮)।স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় তারা মাদক সেবন করছিলেন। খবর পেয়ে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনারের নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেন। পরে তাদের বক্তারমুন্সী বাজার এলাকায় নিয়ে আসা হয়।সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুকুরটিতে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে থাকায় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। মাদকবিরোধী সামাজিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার বলেন, “দুই ব্যক্তি ব্রিক ফিল্ডে গাঁজা সেবন করছেন—এমন খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে সেখানে যাই। পরে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয়দের পরামর্শে বক্তারমুন্সী বাজারের দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনায় ভরা পুকুরটি পরিষ্কার করানো হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আগেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। জামিনে বের হওয়ার পর পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে স্থানীয়দের পরামর্শে এবার তাদের দিয়ে পুকুর পরিষ্কার করানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মাদক সেবন না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাদক সেবন, মাদক কেনাবেচা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিকভাবেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে আটক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে তারা মনে করেন।এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই যুবককে পুকুর পরিষ্কার করার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।তবে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়টি আইনগতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আইনগত দিকটি আরও স্পষ্ট হবে।

দালালমুক্ত ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তৎপর নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা ও ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী আজ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত "গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।" দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।”বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।” তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।”সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।মন্ত্রী '৭১ ও '২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

মুছাপুরে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে অতিথি ফ্যাসিস্ট: এমপি পূত্র আশা'র ফ্যাসিস্ট বিরোধী বক্তব্যে বিব্রত জনগন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী আজ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত "গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।" দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।”বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।” তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।”সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।মন্ত্রী '৭১ ও '২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব- আবদুল জব্বার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী আজ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত "গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।" দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।”বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।” তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।”সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।মন্ত্রী '৭১ ও '২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

বাংলার শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বান্টির নানা অপকর্মের আমল নামা

নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বান্টির নানা অপকর্মের আমল নামা

সিদ্ধিরগঞ্জের আখির হানি ট্র্যাপের ফাঁদে তরুনরা

সিদ্ধিরগঞ্জের আখির হানি ট্র্যাপের ফাঁদে তরুনরা

কাশিমপুর ভূমি অফিসের তহসিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত করলেন ডিসি

কাশিমপুর ভূমি অফিসের তহসিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত করলেন ডিসি

বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ ‎

বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ ‎

তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের নতুন একাডেমিক ভবনের যাত্রা শুরু

তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের নতুন একাডেমিক ভবনের যাত্রা শুরু

সিদ্ধিরগঞ্জে পশুর হাটের ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে! মন্তুর অস্বীকার

সিদ্ধিরগঞ্জে পশুর হাটের ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে! মন্তুর অস্বীকার

গলাচিপায় সরকারি খাল দখল, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

গলাচিপায় সরকারি খাল দখল, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

মটরসাইকেল চালক থেকে রাতারাতি সাংবাদিক! মঠবাড়িয়ায় শাহজাহানের চাঁদাবাজির চালচিত্র

মটরসাইকেল চালক থেকে রাতারাতি সাংবাদিক! মঠবাড়িয়ায় শাহজাহানের চাঁদাবাজির চালচিত্র

তেঁতুলতলা বাজারে ৬ নং ডাকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুজ্জামান বাবু মল্লিকের গণসংযোগ

তেঁতুলতলা বাজারে ৬ নং ডাকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুজ্জামান বাবু মল্লিকের গণসংযোগ

জুলাইয়ের শহীদদের যারা চেনে না, জনগণ তাদেরকেও চিনবে না: মাওলানা আবদুল জব্বার  ​

জুলাইয়ের শহীদদের যারা চেনে না, জনগণ তাদেরকেও চিনবে না: মাওলানা আবদুল জব্বার ​

বন্দরে ট্রাক উল্টে ১ জন নিহত: গুরুতর আহত দোকানমালিক সেলিমের খোঁজ নেয়নি কেউ, বিচার ও সহায়তার দাবি

বন্দরে ট্রাক উল্টে ১ জন নিহত: গুরুতর আহত দোকানমালিক সেলিমের খোঁজ নেয়নি কেউ, বিচার ও সহায়তার দাবি

সিদ্ধিরগঞ্জে পানির জন্য তীব্র হাহাকার: সাড়ে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর প্রকৌশলীর আশ্বাসে যান চলাচল

সিদ্ধিরগঞ্জে পানির জন্য তীব্র হাহাকার: সাড়ে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর প্রকৌশলীর আশ্বাসে যান চলাচল

নারায়ণগঞ্জে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি থেকে বিদেশি পি স্ত ল উ দ্ধা র

নারায়ণগঞ্জে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি থেকে বিদেশি পি স্ত ল উ দ্ধা র

পরিকল্পিত নগর হবে জঙ্গল সলিমপুর: ডিসি জাহিদ

পরিকল্পিত নগর হবে জঙ্গল সলিমপুর: ডিসি জাহিদ

নারায়ণগঞ্জ সদরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল ইউনিয়নে মশক নিধন অভিযান

নারায়ণগঞ্জ সদরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল ইউনিয়নে মশক নিধন অভিযান

বন্দরের ইস্পাহানি-তালতলা সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন

বন্দরের ইস্পাহানি-তালতলা সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন

জামায়াতের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত

জামায়াতের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নতুন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের শুভ উদ্বোধন

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের নতুন এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের শুভ উদ্বোধন

প্লাস্টিক দূষণ রোধে নারায়ণগঞ্জ সদরে  শিক্ষার্থীর মাঝে পরিবেশবান্ধব পানির বোতল বিতরণ

প্লাস্টিক দূষণ রোধে নারায়ণগঞ্জ সদরে শিক্ষার্থীর মাঝে পরিবেশবান্ধব পানির বোতল বিতরণ

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ৭ গোলের ঝড়

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার ৭ গোলের ঝড়

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধামে ৬ বন্ধুর স্মরণীয় ভ্রমণ

কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটল নারায়ণগঞ্জের ছয় বন্ধুর একটি বিশেষ দিন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হঠাৎ সিদ্ধান্তে তারা ঘুরে এলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালিগাঁও এলাকার দোষরপাড়া পদ্মহেম ধাম (লালনের আখড়া বা বাউল বাড়ি)।নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে যোহরের নামাজের পর একসাথেই যাত্রা শুরু করেন ছয় বন্ধু। যাত্রাপথে বক্তাবলী থেকে সংগ্রহ করেন স্থানীয় মিষ্টি ও নিমকি। এরপর মিশনপাড়া মোড় থেকে অটোরিকশায় চড়ে ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ট্রলারে নদী পার হন তারা। সেখান থেকে পুনরায় অটোরিকশায় মিষ্টি-নিমকির স্বাদ নিতে নিতে আড্ডার ছলে পদ্মহেম ধামের উদ্দেশে রওনা দেন।​বিকাল চারটার দিকে পদ্মহেম ধামে পৌঁছান ভ্রমণকারীরা। অটোরিকশা থেকে নেমে বাটার বান, কলা ও জসিম ভাইয়ের বিশেষ তদারকিতে সেদ্ধ করা ডিম খেয়ে কিছুটা ক্লান্তি দূর করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও ইছামতী নদীতে নৌকায় ঘোরার ইচ্ছা দমে যায়নি তাদের। বন্ধু ইউসুফ দরদাম করে আধা ঘণ্টার জন্য একটি ছোট নৌকা ভাড়া করেন। চলন্ত নৌকায় ধীরগতিতে ভেসে দুই তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নদীতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য তাদের ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।​নৌকা ভ্রমণ শেষে পদ্মহেম ধামের ছোট্ট টিনের মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন ছয় বন্ধু। স্থানীয় একটি দোকানে চা পানের পর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে তারা ফেরার পথ ধরেন। সন্ধ্যার আজানের সময় ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ঘাটের পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং স্থানীয় বাজার থেকে দই খেয়ে আবার পথ চলেন।​ফেরার পথে বালিগাঁও এলাকায় কাশফুলের নরম ছোঁয়া ভ্রমণের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করে। দিনের এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে কাশফুলের সঙ্গে দলবেঁধে বেশ কিছু ছবি তুলে ফ্রেমবন্দি হন বন্ধুরা। বৃষ্টিভেজা পথ, নদী পারাপার, ইছামতীতে নৌকাভ্রমণ, নামাজ, আড্ডা ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদে ছয় বন্ধুর একদিনের এই সফর হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না সেই সরকারের দরকার নেই : ডা. শফিকুর রহমান এমপি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, আমরা বিরোধীদলে থাকলেও আমাদেরও দায়িত্ব আছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নয়, কার্যত দেশের সকল প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, বীমা করপোরেশন, শেয়ারবাজার মাটির সাথে হামাগুড়ি খাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে দিনে দুপুরে বিভিন্ন রকম অপকর্ম খোদ রাজধানীতেই চলছে- যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। রাজধানীর অবস্থা থেকে বুঝা যায় সারা দেশের অবস্থা কী? যা খুবই উদ্বেগজনক। আজ ৪ অক্টোবর সকাল ৯টায় রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ মাঠে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত ৪ থেকে ১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকায় বিমানবন্দরে সীমাহীন দুর্নীতি, অপকর্মের প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেদিন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। আখতারুজ্জামানকে উত্যক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান কথা বলেছেন ভুক্তভোগী ও দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য। যাদের ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়। তিনি এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। অপমান করার জন্য হেলমেট পরানো হয়েছে। আমরা এসবের নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নয়, সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন। আখতারুজ্জামান বলেছেন, আমি প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেফতার হয়েছি-তা দেশের ১৮ কোটি মানুষ জানুক। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসী এ বিষয়টি হালকাভাবে নেবে না। প্রবাসীরাও হালকাভাবে নেবে না। সরকারকে সাবধান করে দিচ্ছি- পারেন না মুরোদ নাই, একটি মেডিকেল সেন্টার রাতের অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেয়া হলো, সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে আবডালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। অথচ জনগণের চোখে ধুলো দেয়ার জন্য একজন সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করিয়েছেন। কিন্তু সেই দুষ্কৃতিকারীকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করেননি। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনেননি। আরও যারা দুষ্কৃতিকারী তাদেরও গ্রেফতার করা হয়নি। জনগণকে বোকা ভাববেন না, আড়াল করতে পারবেন না। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার অতীতের সরকারকে দায় দিয়েছে। কিন্তু এ সরকার গত সাত মাসে কি করল? এখনো হামে ও ডেঙ্গুতে লোক মরে কেন? ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বে ডেঙ্গুর টিকা আছে। কিন্তু আমাদের সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারিভাবে সে টিকা আনার যদি উদ্যোগ না থাকে, তাহলে বেসরকারিভাবে আনার রাস্তা খুলে দেন। এতে অন্তত মানুষ বাঁচার জন্য উপকরণ হাতে পাবে। সরকার নিজেও আনবে না বাজারও খুলে দেবে না। আর যদি তারা আনেও, তাহলে ঘাটে ঘাটে কমিশন বসিয়ে জনগণের পয়সা চুরি করবে।তিনি বলেন, এ দুর্যোগে জামায়াত বসে থাকবে না, বসে থাকার সংগঠন নয়। দেশে যে দুর্যোগ এসেছে আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ নিয়ে নেমেছি। এক্ষেত্রে ডেঙ্গুকে আমরা মহামারি আকারে দেখছি। এজন্য আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষণা করেছি। আমরা জনগণকে সচেতন করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করবো। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সেলিম উদ্দিনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছি আমরা। তিনি খাল, নর্দমা যেখানে ডেঙ্গুর মশার চাষ হয় সেগুলো পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান শুরু করেছেন। দক্ষিণে সাদিক কায়েম আছে। গ্রাম পর্যন্ত আমাদের সহকর্মীরা জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে সরকারি বরাদ্দ নেই, আমরা নিজেদের ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেয়া টাকা নিয়ে নেমেছি। সরকার জনগণের টাকার দায়িত্বশীল, জনগণের ট্যাক্সের টাকার পাহারাদার। সরকারকে নামতে হবে জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকে ঘুমাতে দেবো না, ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেবো। সরকারের কাজ ঘুমানো নয়, জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে আর সরকার পাহারা দেবে-এটি সরকারের কাজ। সেই সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না সেই সরকারের দরকার নেই। যারা এটি পারবে তাদের হাতে দায়িত্ব যাবে। রাড্ডায় যেন মানুষের সেবা বন্ধ না হয় সেজন্য আমরা একটি অনুদান ঘোষণা করেছি। আমরা অপেক্ষায় আছি কখন কর্তৃপক্ষের গ্রিন সিগনাল পাবো। কিন্তু ধানাই পানাই শুরু করেছে সরকার, তারা নিজেরা করবে না আমাদেরও করতে দেবে না। এমনটা হলে আমরা জনগণকে জানিয়ে দেবো। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই লোক দেখানোর জন্য না। সেই কাজে জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবো ইনশাআল্লাহ। তিনি সরকারকে মানুষের জীবন রক্ষায় অতি দ্রুত মশা নিধনের বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণে আহ্বান জানান। সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও আক্রান্ত লোকদের সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কেউ অবহেলার শিকার না হয়। পরে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্বলিত লিফলেট ও ব্লিচিং পাউডার জনগণের মাঝে বিতরণ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার চরম ব্যর্থ হয়েছে। হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু রোগীর জায়গা হয় না। দেশবাসীকে ডেঙ্গু রোগ থেকে বাঁচাতে আমরা সারা দেশে কর্মসূচি পালন করছি। আমরা এ জাতির দায়িত্ব গ্রহণ ও পালনে জনগণের পাশে দাঁড়াবো। সরকার পারছে না, দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা দাঁড়াবার চেষ্টা করছি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াত শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এ দেশে ইনসাফ কায়েমের সুসংগঠিত প্রচেষ্টার নাম হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামষ্টিক সমস্যা সমাধানে জামায়াত ভূমিকা পালন করে। ডেঙ্গুতে মানুষ মারা যাওয়ার এ বিষয়ে জনসচেতনতা কর্মসূচি নিয়েছে জামায়াত। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজ, দখলবাজ দলে পরিণত হয়েছে। যুবদল নেতা সাইমন পিস্তলের বাট দিয়ে বাংলামোটরে একজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। অনতি বিলম্বে অস্ত্র উদ্ধার করে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াত আপাদমস্তক একটি জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দল। সমাজকল্যাণ, মানবতার জন্য সব সময় জামায়াত সচেতন আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। ডেঙ্গু এ শহরের মানুষের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা দেখছি না। এজন্য মানুষের মাঝে উদ্বেগ কাজ করছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মানুষের প্রতি যে করণীয় তা ভুলে যাননি। এক সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আমরা ঢাকায় জনগণকে সচেতন করতে সমস্ত জনশক্তিকে সাথে নিয়ে রাতদিন কাজ করবো। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব আব্দুর রব; কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা ও সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান; কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ইয়াসিন আরাফাত; কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার,মুহিবুল্লাহ,এডভোকেট জিল্লুর রহমান ও ফজলে আহমেদ প্রমুখ।

সব বিভাগের খবর

ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে মুসলিম নির্যাতন বৃদ্ধি এবং সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৫ মে) বিকালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে দোআর মাধ্যমে শেষ হয়।​সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজ-এর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ।​মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, "পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের ওপর যে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। অন্যদিকে, সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, ভারতের এই আগ্রাসী মনোভাব ও মুসলিম বিদ্বেষ বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকেও শক্ত অবস্থানে থেকে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"​সভাপতির বক্তব্যে কামরুল হাসান মিরাজ বলেন, "সীমান্তে রক্ত ঝরবে আর আমরা চুপ থাকব, তা হবে না। অবিলম্বে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং ভারতে মুসলিমদের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় ছাত্র সমাজ রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।"​ফতুল্লা থানা সভাপতি নূর নবী ইসলাম নাঈম-এর পরিচালনায় মিছিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি মুফতি তৌফিক বিন হারিস, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বায়তুলমাল সম্পাদক মুহাম্মদ মুজ্জাম্মিল, সরকারি তোলারাম কলেজ সভাপতি আমির মুহাম্মদ সিয়াম, ফতুল্লা থানা সেক্রেটারি আবু হুরায়রা, মুহাম্মদ মুরসালিন, নাজিম হাসান স্বপ্ন, আবু সাঈদ, খাজা ফাহিম সরকার, প্রমুখ। 

ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে ‘সরস্বতী মন্দির’ ঘোষণা করল হাইকোর্ট

ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্সকে ‘সরস্বতীর মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্যের হাইকোর্ট।শুক্রবার (১৫ মে) হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়ে বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির দ্বৈত বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। একই সাথে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দের আবেদন জানাতে রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।আদালতের পর্যবেক্ষণরায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ মিলেছে।আদালত উল্লেখ করে, "আমরা লক্ষ্য করেছি যে এই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিতর্কিত এলাকাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল।"বিরোধের পটভূমি ও পূর্বের নিয়মদীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায় ধার জেলার এই ভোজশালাকে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতী মন্দির বলে দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষ দাবি করে আসছিল যে এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে ‘কামাল মওলা মসজিদ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) ২০০৩ সালের একটি চুক্তি অনুসারে, এতদিন হিন্দুরা প্রতি মঙ্গলবার এবং মুসলমানরা প্রতি শুক্রবার এই কমপ্লেক্সে নিজ নিজ ধর্মীয় প্রার্থনা বা উপাসনা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে হিন্দু পক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং পুরো কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে।রায়ের ভিত্তি এএসআই (ASI) এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা২০২৪ সালের ১১ মার্চ মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এএসআই-কে এই কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ওই বছরের ২২ মার্চ থেকে শুরু করে টানা ৯৮ দিনব্যাপী বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি।এএসআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো বর্তমান এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বিতর্কিত কাঠামোটি মূলত মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই এর বৈজ্ঞানিক জরিপের সময় প্রাপ্ত প্রাচীন মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপিই প্রমাণ করে যে এই চত্বরটি মূলত একটি মন্দির ছিল।মুসলিম পক্ষের আপত্তিতবে আদালতের এই রায়ের বিপরীতে মুসলিম পক্ষ শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। আদালতে তাদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি ছিল পক্ষপাতদুষ্ট এবং এটি কেবল হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।হাইকোর্টের এই রায়ের পর অঞ্চলটিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

​পর্তুগালে নারায়ণগঞ্জ কমিউনিটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বর্ণাঢ্য মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

সুদূর ইউরোপের দেশ পর্তুগালে বসবাসরত নারায়ণগঞ্জের প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। "শক্তি, ঐক্য, সেবা"—এই তিন মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে 'নারায়ণগঞ্জ কমিউনিটি ইন পর্তুগাল'-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।​গত রোববার লিসবনের বৈচিত্র্যময় এলাকা বেরফামোসোর স্থানীয় 'নবাব জি' (Nawab G) রেস্টুরেন্টে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য প্রবাসী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা মুহূর্তেই এক খণ্ড নারায়ণগঞ্জের মিলনমেলায় পরিণত হয়।​সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাব্বির আহাম্মেদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি এস এম গোলাম সারোয়ার।​আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি প্রবাসে এমন ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং প্রবাসীদের যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।​সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহমান সংগঠনের প্রথম বছরের সাফল্য তুলে ধরেন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, "আমরা পর্তুগালে নারায়ণগঞ্জের মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকতে চাই এবং আমাদের এই ঐক্য প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।"​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি: মনিরুল ইসলাম ও রমজান মিয়া,সাধারণ সম্পাদক: সাইদুল হক,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: নাজিম,সদস্য শাহরিয়ার, শিহাব, আক্তার হোসেনসহ স্থানীয় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।​আলোচনা সভা শেষে এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। নৈশভোজের ফাঁকে প্রবাসীরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং নিজেদের শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনে নিজেদের শেকড়ের সাথে যুক্ত থাকতে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।​পরিশেষে, সংগঠনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে এবং আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ইসরায়েলি বাহিনী ভেঙে পড়ার সতর্কবার্তা দিলেন দেশটির সেনাপ্রধান

ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে একাধিক সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে করে বাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইসরায়েলি বাহিনী ‘ভেঙে’ পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামির।ইসরায়েলের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার (২৫ মার্চ) ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইয়াল জামির। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে ১০টি লাল পতাকা তুলছি। সেনা সংকটের কারণে খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী সাধারণ অভিযানও চালাতে অক্ষম হয়ে পড়বে।’এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সেনা নিয়োগ আইন, প্রাক্তন সেনাদের দায়িত্বে ফেরানো সংক্রান্ত আইন এবং সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে দায়িত্বের সময়সীমা বাড়ানো সংক্রান্ত আইনের প্রয়োজন।

আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা দিবস উপলক্ষে মাদরাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সেমিনার

আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা দিবস উপলক্ষে মাদরাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সেমিনার

১লা অক্টোবর আলিয়া মাদরাসা শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মাদরাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে মাদরাসা শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, সময়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।বাংলাদেশ মাদরাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মাওলানা মিজানুর রহমান ও সদস্যসচিব রাসেল রানা-এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সংসদ সদস্য, সিরাজগঞ্জ-৪।প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সাবেক উপাচার্য, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সাবেক অধ্যক্ষ, তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা।সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আব্দুস সবুর মাতুব্বর, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।আলোচনায় বক্তারা আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি আলিয়া মাদরাসার প্রতি সরকারের বৈষম্যমূলক ও বিমাতাসুলভ আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেন।বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পর্যায়ে আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।সেমিনারে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ হয়ে ওঠে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাদরাসা শিক্ষার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং এর সম্ভাবনাগুলো নিয়ে গঠনমূলকভাবে ভাবার সুযোগ তৈরিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।সেমিনারে অংশগ্রহণকারী অতিথি, আলেম, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বাংলাদেশ মাদরাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানানো হয়।আয়োজকরা মাদরাসা শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার আহবান- মাওলানা আবদুল জব্বার

অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার আহবান- মাওলানা আবদুল জব্বার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের রহিম মার্কেট বটতলা এলাকায় ইসলামিক এডুকেয়ার একাডেমির ১০ম বর্ষপূর্তি ও হিফজ বিভাগের নতুন ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমীর ও নাসিক মেয়র প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “আজ আমরা আমাদের সন্তানদের নতুন করে বিনির্মাণের চেষ্টা করছি। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সব জায়গা থেকেই সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।” ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো মাস নেই—যখন ফিলিস্তিনের বাচ্চাদের ওপর হামলা হচ্ছে না। অসংখ্য শিশু ও মা হত্যার শিকার হচ্ছেন।” এ সময় তিনি ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষের জন্য দোয়া করেন এবং আল্লাহর কাছে ফিলিস্তিনকে জালিমদের হাত থেকে রক্ষা করার ফরিয়াদ জানান। একই সঙ্গে বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। সন্তানদের লালন-পালনে অভিভাবকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, “সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি না দিয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে এবং যথাযথ প্যারেন্টিংয়ের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।” তিনি ভালো মা-বাবা হয়ে সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এর আগে অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মো. আবু ইউসুফ পাটওয়ারীর তত্ত্বাবধানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, নৈতিক ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, “সন্তানের প্রথম পাঠশালা মূলত পরিবার।” এ সময় অভিভাবকদের পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি হিফজ বিভাগের নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে এর সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আতিকুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও নাসিক ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ জামাল হোসাইন।তিনি শিক্ষার্থীদের মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা দিতে হবে। শুধু উচ্চশিক্ষিত হলেই মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও মানবিকতা তৈরি হয় না। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানদের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মাওলানা মোহাম্মদ ফেরদৌস।মোঃ মাহাবুব আলম, প্রফেসর মোঃ আব্দুজ জাহের,মোঃ মজিবুর রহমান হাওলাদার, এ.বি.এম সাইফুর রহমান, মোঃ আনিছুর রহমান ভূইয়া, মোঃ শাহাআলম,হাজি মোঃ ইব্রাহিম, রেদোয়ান হোসেন পাপ্পু প্রমুখ। আয়োজকরা জানান, আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে ইসলামিক এডুকেয়ার একাডেমি। প্রতিষ্ঠার ১০ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি দুটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা হামদ, নাত ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত পরিবেশন করে। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি তোলারাম কলেজ রেঞ্জার ইউনিটের উদ্যোগে  বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সরকারি তোলারাম কলেজ রেঞ্জার ইউনিটের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

সরকারি তোলারাম কলেজ রেঞ্জার ইউনিটের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে এক  বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শহিদুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রেঞ্জার গাইডার  শামীমা পারভীন বলেন, "বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন রেঞ্জার ইউনিট সব সময় সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। আজকের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি তারই একটি অনন্য উদাহরণ।"প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর শহিদুল ইসলাম পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "আমাদের শুধু বৃক্ষ রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একটি চারা রোপণের পর তা যেন বড় হয়ে ফল ও ছায়া দিতে পারে, সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।"অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক জনাব মাজেদুল পলাশ এবং গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার আবুল বাশার।সমগ্র অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন রেঞ্জার রহিমা খাতুন রিমি ও মাসুদা আক্তার মনি। এ সময়  আরো উপস্থিত ছিল সরকারি তোলারাম কলেজের রেঞ্জার ইউনিটের রেঞ্জার সদস্যবৃন্দ । কর্মসূচি শেষে কলেজ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

মাদকসেবীদের আটক করে পুকুর পরিষ্কার করালেন স্থানীয়রা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের বক্তারমুন্সী বাজারের মাঝখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের ডাকবাংলা সংলগ্ন জসিম ব্রিকস ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক দুজন হলেন—সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের বগাদানা গ্রামের কালা সর্দার বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সাকিব (৪০) এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহাম্মদপুর গ্রামের আব্দুল হাদির ছেলে জাহেদ আলম (৩৮)।স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় তারা মাদক সেবন করছিলেন। খবর পেয়ে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনারের নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেন। পরে তাদের বক্তারমুন্সী বাজার এলাকায় নিয়ে আসা হয়।সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুকুরটিতে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে থাকায় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। মাদকবিরোধী সামাজিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার বলেন, “দুই ব্যক্তি ব্রিক ফিল্ডে গাঁজা সেবন করছেন—এমন খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে সেখানে যাই। পরে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয়দের পরামর্শে বক্তারমুন্সী বাজারের দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনায় ভরা পুকুরটি পরিষ্কার করানো হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আগেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। জামিনে বের হওয়ার পর পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে স্থানীয়দের পরামর্শে এবার তাদের দিয়ে পুকুর পরিষ্কার করানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মাদক সেবন না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাদক সেবন, মাদক কেনাবেচা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিকভাবেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে আটক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে তারা মনে করেন।এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই যুবককে পুকুর পরিষ্কার করার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।তবে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়টি আইনগতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আইনগত দিকটি আরও স্পষ্ট হবে।

পরিকল্পিত নগর হবে জঙ্গল সলিমপুর: ডিসি জাহিদ

পরিকল্পিত নগর হবে জঙ্গল সলিমপুর: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এখানকার বাসিন্দাদেরও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার আওতায় আনা হবে।আজ রোববার জঙ্গল সলিমপুরে চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আলীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন।জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় “স্টেট উইদিন স্টেট” বলা হতো। ৯ মার্চের আগে জায়গাটি সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, এরপর সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ কাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।জাহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কগুলোর কাজ শেষ হলে মানুষের চলাচল সহজ ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে।জঙ্গল সলিমপুরে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্য জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। এদিন জেলা প্রশাসক সেসব জায়গা, নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্প ও চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন।তিনি বলেন, ‘আমরা জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। এখানকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উন্নত নগরের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার আশ্বাসপরিদর্শনের সময় আলীনগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতনসংক্রান্ত সমস্যার কথা জেলা প্রশাসককে জানান।জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে।জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীরা আমাদের সমাজের প্রাণ। তাদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।এদিন দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১০০টি স্কুলব্যাগ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা এবং ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে চকলেটও বিতরণ করা হয়।শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক।জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা’ ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখানকার শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। এসব দেখলে এলাকাটি সম্পর্কে অনেকের ধারণা বদলে যেত।৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময় সহযোগিতার জন্য আলীনগর স্কুল ও এসএম পাইলট স্কুল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থানের জন্য বিদ্যালয় দুটি জায়গা দিয়েছিল।পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন ও সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধামে ৬ বন্ধুর স্মরণীয় ভ্রমণ

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধামে ৬ বন্ধুর স্মরণীয় ভ্রমণ

কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটল নারায়ণগঞ্জের ছয় বন্ধুর একটি বিশেষ দিন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হঠাৎ সিদ্ধান্তে তারা ঘুরে এলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালিগাঁও এলাকার দোষরপাড়া পদ্মহেম ধাম (লালনের আখড়া বা বাউল বাড়ি)।নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে যোহরের নামাজের পর একসাথেই যাত্রা শুরু করেন ছয় বন্ধু। যাত্রাপথে বক্তাবলী থেকে সংগ্রহ করেন স্থানীয় মিষ্টি ও নিমকি। এরপর মিশনপাড়া মোড় থেকে অটোরিকশায় চড়ে ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ট্রলারে নদী পার হন তারা। সেখান থেকে পুনরায় অটোরিকশায় মিষ্টি-নিমকির স্বাদ নিতে নিতে আড্ডার ছলে পদ্মহেম ধামের উদ্দেশে রওনা দেন।​বিকাল চারটার দিকে পদ্মহেম ধামে পৌঁছান ভ্রমণকারীরা। অটোরিকশা থেকে নেমে বাটার বান, কলা ও জসিম ভাইয়ের বিশেষ তদারকিতে সেদ্ধ করা ডিম খেয়ে কিছুটা ক্লান্তি দূর করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও ইছামতী নদীতে নৌকায় ঘোরার ইচ্ছা দমে যায়নি তাদের। বন্ধু ইউসুফ দরদাম করে আধা ঘণ্টার জন্য একটি ছোট নৌকা ভাড়া করেন। চলন্ত নৌকায় ধীরগতিতে ভেসে দুই তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নদীতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য তাদের ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।​নৌকা ভ্রমণ শেষে পদ্মহেম ধামের ছোট্ট টিনের মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন ছয় বন্ধু। স্থানীয় একটি দোকানে চা পানের পর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে তারা ফেরার পথ ধরেন। সন্ধ্যার আজানের সময় ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ঘাটের পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং স্থানীয় বাজার থেকে দই খেয়ে আবার পথ চলেন।​ফেরার পথে বালিগাঁও এলাকায় কাশফুলের নরম ছোঁয়া ভ্রমণের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করে। দিনের এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে কাশফুলের সঙ্গে দলবেঁধে বেশ কিছু ছবি তুলে ফ্রেমবন্দি হন বন্ধুরা। বৃষ্টিভেজা পথ, নদী পারাপার, ইছামতীতে নৌকাভ্রমণ, নামাজ, আড্ডা ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদে ছয় বন্ধুর একদিনের এই সফর হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

আমার আবিস্কৃত জালানী তেল ব্যবহার করলে আমদানী কমবে- বিজ্ঞানী শরিফুল ইসলাম

আমার আবিস্কৃত জালানী তেল ব্যবহার করলে আমদানী কমবে- বিজ্ঞানী শরিফুল ইসলাম

মাত্র কেজি প্রতি ২৫ টাকা খরচ করেই জালানী তেল আবিস্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তরুন বিজ্ঞানী শরিফুর ইসলাম নিবিড়।তিনি গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন,আমার আবিস্কৃত জালানী তেল ব্যবহার করলে আমদানী ব্যয় কমবে।রাষ্ট্রর লাখ লাখ ডলার বেঁচে যাবে।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টায়শহরের মাসদাইর স্কাই চিকেন রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভায় উপরোক্ত কথা বলেন। দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিরসনে তরুণ বিজ্ঞানী মোঃ শরিফুল ইসলাম নিবিরের   উদ্ভাবনী জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা ও ২৫ টাকা কেজি খরচে জ্বালানি তৈল তৈরি করেছেন। যাহা তিনি গনমাধ্যমকর্মীদের প্রদর্শন করে দেখান।শরিফুল ইসলাম আরো বলেন, তিনি সাগরের ঢেউ থেকে নিরবিচ্ছিন স্বল্প খরচে দেশের কল্যানে বিদ্যুৎ তৈরি  করে দিতে সক্ষম। তার আবিস্কৃত জালানী তেল বর্তমানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বয়লার,মোটর সাইকেল ও চুলার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের কল্যানে তিনি তার উদ্ভাবনী জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে পারবেন। এসময় গবেষক এর সাথে উপস্থিত ছিলেন বিশতং রিচার্জ সেন্টারের সহযোগী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ডালিম ও মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী প্রমূখ।

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দ্বায়িত্ব পেলেন পটুয়াখালীর তুহিন ফরাজী

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দ্বায়িত্ব পেলেন পটুয়াখালীর তুহিন ফরাজী

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পূর্ব সানেশ্বরের আবু বকর ছিদ্দিক ওরফে তুহিন ফরাজীকে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তুহিন ফরাজী। প্রতিষ্ঠার পর তিনি কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্ধারিত ছয় মাসের মেয়াদজুড়েও তিনি সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।পরবর্তীতে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে তুহিন ফরাজীকে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।একই সঙ্গে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুহিন ফরাজী তার অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সংগঠনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ সদরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল ইউনিয়নে মশক নিধন অভিযান

নারায়ণগঞ্জ সদরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল ইউনিয়নে মশক নিধন অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুম পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির আশঙ্কায় সদর উপজেলার সকল ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশার ওষুধ ছিটানো এবং জমে থাকা পানি অপসারণ কার্যক্রম চলছে।এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ওষুধ ছিটানোই যথেষ্ট নয়, জনসচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যেন নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।তিনি আরও বলেন, আমাদের টিম বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব, ডাবের খোসা ও জমে থাকা পানির উৎসগুলো পরিষ্কার করছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, ডেঙ্গুমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই অভিযান চলমান থাকবে।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ইউএনও'র এমন উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

পরিকল্পিত নগর হবে জঙ্গল সলিমপুর: ডিসি জাহিদ

পরিকল্পিত নগর হবে জঙ্গল সলিমপুর: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এখানকার বাসিন্দাদেরও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার আওতায় আনা হবে।আজ রোববার জঙ্গল সলিমপুরে চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আলীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন।জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় “স্টেট উইদিন স্টেট” বলা হতো। ৯ মার্চের আগে জায়গাটি সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, এরপর সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ কাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।জাহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কগুলোর কাজ শেষ হলে মানুষের চলাচল সহজ ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে।জঙ্গল সলিমপুরে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্য জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। এদিন জেলা প্রশাসক সেসব জায়গা, নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্প ও চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন।তিনি বলেন, ‘আমরা জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। এখানকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উন্নত নগরের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার আশ্বাসপরিদর্শনের সময় আলীনগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতনসংক্রান্ত সমস্যার কথা জেলা প্রশাসককে জানান।জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে।জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই শিক্ষার্থীরা আমাদের সমাজের প্রাণ। তাদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।এদিন দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১০০টি স্কুলব্যাগ, ২০০টি ফলদ গাছের চারা এবং ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রী দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে চকলেটও বিতরণ করা হয়।শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা, শিক্ষকদের সম্মান করা এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক।জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা’ ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখানকার শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। এসব দেখলে এলাকাটি সম্পর্কে অনেকের ধারণা বদলে যেত।৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময় সহযোগিতার জন্য আলীনগর স্কুল ও এসএম পাইলট স্কুল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থানের জন্য বিদ্যালয় দুটি জায়গা দিয়েছিল।পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন ও সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত

জামায়াতের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত

আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ৩১ অক্টোবর শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেইটে লংমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং কুষ্টিয়ায় সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচির ইতি ঘটবে ইনশাআল্লাহ।আজ রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি রোধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া রুটে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন।বৈঠকে লংমার্চ কর্মসূচির বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।বৈঠকে লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতিসভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিতরণ, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম ও এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, জনাব মোবারক হোসাইন, জনাব নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জনাব মো. সেলিম উদ্দিন ও ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার, এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, জনাব মাহফুজুর রহমান ও এডভোকেট আতিকুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, জনাব কামাল হোসেন এমপি প্রমুখ।

বাংলাদেশে হামের প্রকোপ, শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতার আহ্বান

বাংলাদেশে ২০২৬ সালে হামের প্রকোপ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ব্যাপক নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বছরের শুরুতে দেশজুড়ে দ্রুত হারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুদের সুরক্ষায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নজরদারি জোরদার করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ১৮ হাজার ২১৯টি সন্দেহজনক হাম রোগীর ঘটনা, ২ হাজার ৮৯৭টি পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী এবং ১৬৪টি সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়; এর মধ্যে ৩০টি মৃত্যু নিশ্চিত হামজনিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। পরবর্তীতে ১৪ জুন পর্যন্ত WHO-এর প্রতিবেদনে ৮৫ হাজার ৯৫১টি সন্দেহজনক হাম রোগী এবং ১০ হাজার ৩২৩টি পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর তথ্য উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে ৫৬০টি সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু এবং ৯২টি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সাধারণত উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। হাম শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। হামের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকার ২০২৬ সালে দেশব্যাপী measles-rubella (MR) টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ে উচ্চঝুঁকির ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রাখা, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং জ্বর ও ফুসকুড়িসহ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।WHO বলছে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান।

টক-মিষ্টি আমড়া কেন খাবেন? জানুন পুষ্টিগুণ

দেশের অন্যতম পরিচিত টকজাতীয় ফল আমড়া। স্বাদে টক-মিষ্টি এই ফলটি শুধু মুখরোচকই নয়, এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ। পরিমাণমতো আমড়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। কম ক্যালরির ফল আমড়া—তবে আমড়ার জাত, পাকার মাত্রা ও খাওয়ার উপযোগী অংশের ওপর পুষ্টিমান কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণভাবে ১০০ গ্রাম আমড়ায় আনুমানিক ৫০–৬০ কিলোক্যালরি থাকতে পারে। তাই অন্যান্য অনেক মিষ্টি ফলের তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্যালরির খাবার হিসেবে ধরা যায়। আমড়ার প্রধান গুণাগুণ ভিটামিন C সমৃদ্ধ: আমড়ায় ভিটামিন C থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এবং শরীরে কোলাজেন তৈরিতে প্রয়োজনীয়। হজমে সহায়ক: আমড়ায় খাদ্যআঁশ রয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাবারের সঙ্গে খাদ্যআঁশ গ্রহণ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ভিটামিন C ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। পটাশিয়ামসহ খনিজ: আমড়ায় পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। পটাশিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য ও পেশির স্বাভাবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের জন্য উপকারী: ভিটামিন C কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোলাজেন ত্বকসহ শরীরের সংযোজক টিস্যুর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 

জ্বর হলেই প্যারাসিটামল নয়, অতিরিক্ত সেবনে হতে পারে লিভারের ক্ষতি

শরীরে সামান্য জ্বর জ্বর ভাব বা মাথাব্যথা হলেই অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্যারাসিটামল সেবন করেন। জ্বর ও ব্যথা কমাতে বহুল ব্যবহৃত ওষুধটি সাধারণ মাত্রায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনে সেবনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাসিটামলের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো লিভারের ক্ষতি। মাত্রাতিরিক্ত সেবনে লিভারের গুরুতর ক্ষতি এমনকি জীবনহানির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া সর্দি-কাশি, মাথাব্যথা বা জ্বরের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন কম্বিনেশন ওষুধেও প্যারাসিটামল থাকতে পারে। ফলে একই সঙ্গে একাধিক ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে অজান্তেই শরীরে প্যারাসিটামলের মোট মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, অপুষ্টিতে ভুগছেন এমন ব্যক্তি কিংবা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করেন—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল গ্রহণের ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, শুধু ‘জ্বর জ্বর’ অনুভূতি হলেই ওষুধ না খেয়ে প্রথমে থার্মোমিটারে শরীরের তাপমাত্রা মাপা উচিত। জ্বরের কারণ ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রা নির্ধারণ জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যারাসিটামল জ্বরের কারণ দূর করে না, এটি মূলত জ্বর ও ব্যথার উপসর্গ কমাতে ব্যবহৃত হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া বা নির্ধারিত মাত্রার বেশি প্যারাসিটামল সেবন না করে সচেতন থাকা জরুরি।

কিল্লারপুলের ব্যবসায়ী অসুস্থ মোস্তাকিম চৌধুরীকে দেখতে গেলেন মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ

নারায়ণগঞ্জের কিল্লারপুলের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অসুস্থ মোস্তাকিম চৌধুরীকে দেখতে তাঁর বাসভবনে গিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহানগরী নেতৃবৃন্দ। ২২ সেপ্টেম্বর মঙলবার তার নিজ বাসায় সাক্ষাতকালে নেতৃবৃন্দ অসুস্থ মোস্তাকিম চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাঁর আশু সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।​এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুউদ্দিন আহমাদ এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর আবদুল জব্বার।​অসুস্থ ব্যবসায়ীর দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আয়োজিত উক্ত দোয়া ও মোনাজাতে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ উত্তর থানা আমীর আবুল কালাম আজাদ, ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী খোরশেদ আলম ও শহিদুল ইসলাম খোকনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।