ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বাংলার শিরোনাম

সর্বশেষ

মাদকসেবীদের আটক করে পুকুর পরিষ্কার করালেন স্থানীয়রা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের বক্তারমুন্সী বাজারের মাঝখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের ডাকবাংলা সংলগ্ন জসিম ব্রিকস ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক দুজন হলেন—সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের বগাদানা গ্রামের কালা সর্দার বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সাকিব (৪০) এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহাম্মদপুর গ্রামের আব্দুল হাদির ছেলে জাহেদ আলম (৩৮)।স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় তারা মাদক সেবন করছিলেন। খবর পেয়ে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনারের নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেন। পরে তাদের বক্তারমুন্সী বাজার এলাকায় নিয়ে আসা হয়।সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুকুরটিতে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে থাকায় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। মাদকবিরোধী সামাজিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার বলেন, “দুই ব্যক্তি ব্রিক ফিল্ডে গাঁজা সেবন করছেন—এমন খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে সেখানে যাই। পরে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয়দের পরামর্শে বক্তারমুন্সী বাজারের দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনায় ভরা পুকুরটি পরিষ্কার করানো হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আগেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। জামিনে বের হওয়ার পর পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে স্থানীয়দের পরামর্শে এবার তাদের দিয়ে পুকুর পরিষ্কার করানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মাদক সেবন না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাদক সেবন, মাদক কেনাবেচা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিকভাবেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে আটক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে তারা মনে করেন।এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই যুবককে পুকুর পরিষ্কার করার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।তবে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়টি আইনগতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আইনগত দিকটি আরও স্পষ্ট হবে।

দালালমুক্ত ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তৎপর নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা ও ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী আজ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত "গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।" দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।”বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।” তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।”সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।মন্ত্রী '৭১ ও '২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

মুছাপুরে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে অতিথি ফ্যাসিস্ট: এমপি পূত্র আশা'র ফ্যাসিস্ট বিরোধী বক্তব্যে বিব্রত জনগন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী আজ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত "গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।" দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।”বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।” তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।”সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।মন্ত্রী '৭১ ও '২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব- আবদুল জব্বার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।মন্ত্রী আজ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত "গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সাথে।" দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।”বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।” তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার (Judicial Process) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।”সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা হচ্ছে।মন্ত্রী '৭১ ও '২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

বাংলার শিরোনাম

নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বান্টির নানা অপকর্মের আমল নামা

নারায়ণগঞ্জের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বান্টির নানা অপকর্মের আমল নামা

সিদ্ধিরগঞ্জের আখির হানি ট্র্যাপের ফাঁদে তরুনরা

সিদ্ধিরগঞ্জের আখির হানি ট্র্যাপের ফাঁদে তরুনরা

কাশিমপুর ভূমি অফিসের তহসিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত করলেন ডিসি

কাশিমপুর ভূমি অফিসের তহসিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত করলেন ডিসি

বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ ‎

বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ ‎

তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের নতুন একাডেমিক ভবনের যাত্রা শুরু

তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের নতুন একাডেমিক ভবনের যাত্রা শুরু

সিদ্ধিরগঞ্জে পশুর হাটের ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে! মন্তুর অস্বীকার

সিদ্ধিরগঞ্জে পশুর হাটের ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে! মন্তুর অস্বীকার

গলাচিপায় সরকারি খাল দখল, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

গলাচিপায় সরকারি খাল দখল, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

মটরসাইকেল চালক থেকে রাতারাতি সাংবাদিক! মঠবাড়িয়ায় শাহজাহানের চাঁদাবাজির চালচিত্র

মটরসাইকেল চালক থেকে রাতারাতি সাংবাদিক! মঠবাড়িয়ায় শাহজাহানের চাঁদাবাজির চালচিত্র

তেঁতুলতলা বাজারে ৬ নং ডাকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুজ্জামান বাবু মল্লিকের গণসংযোগ

তেঁতুলতলা বাজারে ৬ নং ডাকুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুজ্জামান বাবু মল্লিকের গণসংযোগ

জুলাইয়ের শহীদদের যারা চেনে না, জনগণ তাদেরকেও চিনবে না: মাওলানা আবদুল জব্বার  ​

জুলাইয়ের শহীদদের যারা চেনে না, জনগণ তাদেরকেও চিনবে না: মাওলানা আবদুল জব্বার ​

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫ এর কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫ এর কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

বন্দর লক্ষণখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অনিয়মের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বন্দর লক্ষণখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অনিয়মের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

একতা সুপার মার্কেট অবৈধ দখল আশা, হিরন ও আওয়ামী সন্ত্রাসী খলিলের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে অভিযোগ

একতা সুপার মার্কেট অবৈধ দখল আশা, হিরন ও আওয়ামী সন্ত্রাসী খলিলের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে অভিযোগ

বন্দরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯: 'মাদক নির্মূলের' দৃঢ় প্রত্যয় এএসপি তারেকের  ​

বন্দরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯: 'মাদক নির্মূলের' দৃঢ় প্রত্যয় এএসপি তারেকের ​

ডেঙ্গু সচেতনতায় সিদ্ধিরগঞ্জে জামায়াতের লিফলেট ও বিনামূল্যে হোমিও ডোজ বিতরণ

ডেঙ্গু সচেতনতায় সিদ্ধিরগঞ্জে জামায়াতের লিফলেট ও বিনামূল্যে হোমিও ডোজ বিতরণ

শারদীয় দুর্গোৎসবে "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখুন" -শীর্ষক মহিলা পরিষদ'র মানববন্ধন

শারদীয় দুর্গোৎসবে "সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখুন" -শীর্ষক মহিলা পরিষদ'র মানববন্ধন

বন্দরে গভীর রাতে ঘরে হামলার অভিযোগ, বাবা-ছেলেসহ ৩ জন আহত

বন্দরে গভীর রাতে ঘরে হামলার অভিযোগ, বাবা-ছেলেসহ ৩ জন আহত

আওয়ামীলীগ থেকে ভাড়ায় আনিত সাখাওয়াতের ৪ কর্মী!

আওয়ামীলীগ থেকে ভাড়ায় আনিত সাখাওয়াতের ৪ কর্মী!

ফতুল্লা লামাপাড়ায় বিএনপির আইনজীবী নেতা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

ফতুল্লা লামাপাড়ায় বিএনপির আইনজীবী নেতা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে ইলহাম ইসলামিক স্কুলে ‘সাইন্স ফেয়ার-২০২৬’

উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে ইলহাম ইসলামিক স্কুলে ‘সাইন্স ফেয়ার-২০২৬’

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধামে ৬ বন্ধুর স্মরণীয় ভ্রমণ

কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটল নারায়ণগঞ্জের ছয় বন্ধুর একটি বিশেষ দিন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হঠাৎ সিদ্ধান্তে তারা ঘুরে এলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালিগাঁও এলাকার দোষরপাড়া পদ্মহেম ধাম (লালনের আখড়া বা বাউল বাড়ি)।নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে যোহরের নামাজের পর একসাথেই যাত্রা শুরু করেন ছয় বন্ধু। যাত্রাপথে বক্তাবলী থেকে সংগ্রহ করেন স্থানীয় মিষ্টি ও নিমকি। এরপর মিশনপাড়া মোড় থেকে অটোরিকশায় চড়ে ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ট্রলারে নদী পার হন তারা। সেখান থেকে পুনরায় অটোরিকশায় মিষ্টি-নিমকির স্বাদ নিতে নিতে আড্ডার ছলে পদ্মহেম ধামের উদ্দেশে রওনা দেন।​বিকাল চারটার দিকে পদ্মহেম ধামে পৌঁছান ভ্রমণকারীরা। অটোরিকশা থেকে নেমে বাটার বান, কলা ও জসিম ভাইয়ের বিশেষ তদারকিতে সেদ্ধ করা ডিম খেয়ে কিছুটা ক্লান্তি দূর করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও ইছামতী নদীতে নৌকায় ঘোরার ইচ্ছা দমে যায়নি তাদের। বন্ধু ইউসুফ দরদাম করে আধা ঘণ্টার জন্য একটি ছোট নৌকা ভাড়া করেন। চলন্ত নৌকায় ধীরগতিতে ভেসে দুই তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নদীতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য তাদের ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।​নৌকা ভ্রমণ শেষে পদ্মহেম ধামের ছোট্ট টিনের মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন ছয় বন্ধু। স্থানীয় একটি দোকানে চা পানের পর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে তারা ফেরার পথ ধরেন। সন্ধ্যার আজানের সময় ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ঘাটের পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং স্থানীয় বাজার থেকে দই খেয়ে আবার পথ চলেন।​ফেরার পথে বালিগাঁও এলাকায় কাশফুলের নরম ছোঁয়া ভ্রমণের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করে। দিনের এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে কাশফুলের সঙ্গে দলবেঁধে বেশ কিছু ছবি তুলে ফ্রেমবন্দি হন বন্ধুরা। বৃষ্টিভেজা পথ, নদী পারাপার, ইছামতীতে নৌকাভ্রমণ, নামাজ, আড্ডা ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদে ছয় বন্ধুর একদিনের এই সফর হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না সেই সরকারের দরকার নেই : ডা. শফিকুর রহমান এমপি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, আমরা বিরোধীদলে থাকলেও আমাদেরও দায়িত্ব আছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নয়, কার্যত দেশের সকল প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, বীমা করপোরেশন, শেয়ারবাজার মাটির সাথে হামাগুড়ি খাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে দিনে দুপুরে বিভিন্ন রকম অপকর্ম খোদ রাজধানীতেই চলছে- যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে। রাজধানীর অবস্থা থেকে বুঝা যায় সারা দেশের অবস্থা কী? যা খুবই উদ্বেগজনক। আজ ৪ অক্টোবর সকাল ৯টায় রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ মাঠে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত আয়োজিত ৪ থেকে ১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ পালন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকায় বিমানবন্দরে সীমাহীন দুর্নীতি, অপকর্মের প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেদিন বিমানবন্দরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। আখতারুজ্জামানকে উত্যক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান কথা বলেছেন ভুক্তভোগী ও দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য। যাদের ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়। তিনি এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। অপমান করার জন্য হেলমেট পরানো হয়েছে। আমরা এসবের নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নয়, সারা বাংলাদেশের ভুক্তভোগী নির্যাতিত মানুষের নেতা হয়ে উঠেছেন। আখতারুজ্জামান বলেছেন, আমি প্রতিবাদ করার কারণে গ্রেফতার হয়েছি-তা দেশের ১৮ কোটি মানুষ জানুক। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসী এ বিষয়টি হালকাভাবে নেবে না। প্রবাসীরাও হালকাভাবে নেবে না। সরকারকে সাবধান করে দিচ্ছি- পারেন না মুরোদ নাই, একটি মেডিকেল সেন্টার রাতের অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেয়া হলো, সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে আবডালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। অথচ জনগণের চোখে ধুলো দেয়ার জন্য একজন সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করিয়েছেন। কিন্তু সেই দুষ্কৃতিকারীকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করেননি। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনেননি। আরও যারা দুষ্কৃতিকারী তাদেরও গ্রেফতার করা হয়নি। জনগণকে বোকা ভাববেন না, আড়াল করতে পারবেন না। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার অতীতের সরকারকে দায় দিয়েছে। কিন্তু এ সরকার গত সাত মাসে কি করল? এখনো হামে ও ডেঙ্গুতে লোক মরে কেন? ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বে ডেঙ্গুর টিকা আছে। কিন্তু আমাদের সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারিভাবে সে টিকা আনার যদি উদ্যোগ না থাকে, তাহলে বেসরকারিভাবে আনার রাস্তা খুলে দেন। এতে অন্তত মানুষ বাঁচার জন্য উপকরণ হাতে পাবে। সরকার নিজেও আনবে না বাজারও খুলে দেবে না। আর যদি তারা আনেও, তাহলে ঘাটে ঘাটে কমিশন বসিয়ে জনগণের পয়সা চুরি করবে।তিনি বলেন, এ দুর্যোগে জামায়াত বসে থাকবে না, বসে থাকার সংগঠন নয়। দেশে যে দুর্যোগ এসেছে আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ নিয়ে নেমেছি। এক্ষেত্রে ডেঙ্গুকে আমরা মহামারি আকারে দেখছি। এজন্য আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষণা করেছি। আমরা জনগণকে সচেতন করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করবো। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে সেলিম উদ্দিনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছি আমরা। তিনি খাল, নর্দমা যেখানে ডেঙ্গুর মশার চাষ হয় সেগুলো পরিচ্ছন্ন করতে অভিযান শুরু করেছেন। দক্ষিণে সাদিক কায়েম আছে। গ্রাম পর্যন্ত আমাদের সহকর্মীরা জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে সরকারি বরাদ্দ নেই, আমরা নিজেদের ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেয়া টাকা নিয়ে নেমেছি। সরকার জনগণের টাকার দায়িত্বশীল, জনগণের ট্যাক্সের টাকার পাহারাদার। সরকারকে নামতে হবে জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারকে ঘুমাতে দেবো না, ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে দেবো। সরকারের কাজ ঘুমানো নয়, জনগণ শান্তিতে ঘুমাবে আর সরকার পাহারা দেবে-এটি সরকারের কাজ। সেই সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না সেই সরকারের দরকার নেই। যারা এটি পারবে তাদের হাতে দায়িত্ব যাবে। রাড্ডায় যেন মানুষের সেবা বন্ধ না হয় সেজন্য আমরা একটি অনুদান ঘোষণা করেছি। আমরা অপেক্ষায় আছি কখন কর্তৃপক্ষের গ্রিন সিগনাল পাবো। কিন্তু ধানাই পানাই শুরু করেছে সরকার, তারা নিজেরা করবে না আমাদেরও করতে দেবে না। এমনটা হলে আমরা জনগণকে জানিয়ে দেবো। আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই লোক দেখানোর জন্য না। সেই কাজে জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবো ইনশাআল্লাহ। তিনি সরকারকে মানুষের জীবন রক্ষায় অতি দ্রুত মশা নিধনের বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণে আহ্বান জানান। সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও আক্রান্ত লোকদের সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কেউ অবহেলার শিকার না হয়। পরে তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্বলিত লিফলেট ও ব্লিচিং পাউডার জনগণের মাঝে বিতরণ করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার চরম ব্যর্থ হয়েছে। হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু রোগীর জায়গা হয় না। দেশবাসীকে ডেঙ্গু রোগ থেকে বাঁচাতে আমরা সারা দেশে কর্মসূচি পালন করছি। আমরা এ জাতির দায়িত্ব গ্রহণ ও পালনে জনগণের পাশে দাঁড়াবো। সরকার পারছে না, দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা দাঁড়াবার চেষ্টা করছি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াত শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এ দেশে ইনসাফ কায়েমের সুসংগঠিত প্রচেষ্টার নাম হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামষ্টিক সমস্যা সমাধানে জামায়াত ভূমিকা পালন করে। ডেঙ্গুতে মানুষ মারা যাওয়ার এ বিষয়ে জনসচেতনতা কর্মসূচি নিয়েছে জামায়াত। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজ, দখলবাজ দলে পরিণত হয়েছে। যুবদল নেতা সাইমন পিস্তলের বাট দিয়ে বাংলামোটরে একজনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। অনতি বিলম্বে অস্ত্র উদ্ধার করে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াত আপাদমস্তক একটি জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দল। সমাজকল্যাণ, মানবতার জন্য সব সময় জামায়াত সচেতন আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। ডেঙ্গু এ শহরের মানুষের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা দেখছি না। এজন্য মানুষের মাঝে উদ্বেগ কাজ করছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মানুষের প্রতি যে করণীয় তা ভুলে যাননি। এক সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আমরা ঢাকায় জনগণকে সচেতন করতে সমস্ত জনশক্তিকে সাথে নিয়ে রাতদিন কাজ করবো। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকাবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব আব্দুর রব; কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা ও সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান; কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা ও ইয়াসিন আরাফাত; কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার,মুহিবুল্লাহ,এডভোকেট জিল্লুর রহমান ও ফজলে আহমেদ প্রমুখ।

সব বিভাগের খবর

শ্রীলঙ্কা জামায়াতে ইসলামীর নবম আমীর হলেন অ্যাটর্নি জামালদীন মোহাম্মদ আশরাফ

শ্রীলঙ্কা জামায়াতে ইসলামীর (SLJI) ৯ম আমীর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও ইসলামি চিন্তাবিদ অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল' আশ-শাইখ জামালদীন মোহাম্মদ আশরাফ (নালিমী)। গত শনিবার (২৭ জুন) ক্যান্ডির পোলগোল্লায় অবস্থিত এনআইসিডি (NICD) অডিটোরিয়ামে সংগঠনের ন্যাশনাল মেম্বার কনভেনশন (NMC) ২০২৬-এ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তিনি বিদায়ী আমীর উস্তায মোহাম্মদ উসাইর ইসলাহির স্থলাভিষিক্ত হলেন, যিনি ২০১৮ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবন: আকুরানার বাসিন্দা আশ-শাইখ জামালদীন মোহাম্মদ আশরাফ মাতালের জাহিরা কলেজে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি বিখ্যাত বেরুয়ালার জামিয়্যাহ নালিমিয়্যায় ভর্তি হন এবং ১৯৯৭ সালে আরবি ভাষা ও ইসলামি শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (LL.B.) এবং পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (M.A.) ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আইন পেশায় (অ্যাটর্নি-অ্যাট-ল') নিয়োজিত রয়েছেন।সাংগঠনিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা: ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কা জামাআতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় শূরা, নির্বাহী পরিষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সাল থেকে টানা আট বছর তিনি সংগঠনের সহকারী আমীর (ভাইস প্রেসিডেন্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি সংগঠনটির দাওয়াহ, শিক্ষা, সামাজিক সংস্কার এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগে অনন্য অবদান রাখেন।সংগঠনের বাইরেও তিনি অল সিলন জামিয়্যতুল উলামা (ACJU)-এর কেন্দ্রীয় পরিষদ এবং ওয়াক্‌ফ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে ২০১৭–২০১৮ সালে আকুরানা মসজিদ ফেডারেশন ও জামিয়্যতুল উলামার যৌথ উদ্যোগে গঠিত শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে তিনি সাংগঠনিক নেতৃত্বের সমসাময়িক অভিজ্ঞতায় নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন।সংগঠনের অঙ্গীকার: ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা জামাআতে ইসলামী দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা, সমাজকল্যাণ ও মানবিক সেবায় কাজ করে আসছে। নতুন আমীর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি শ্রীলঙ্কায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় ঐক্য এবং সকল সম্প্রদায়ের কল্যাণে তাদের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

ভারতে আশঙ্কাজনক হারে মুসলিম নির্যাতন বৃদ্ধি এবং সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৫ মে) বিকালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে দোআর মাধ্যমে শেষ হয়।​সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজ-এর সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ।​মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, "পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের ওপর যে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। অন্যদিকে, সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, ভারতের এই আগ্রাসী মনোভাব ও মুসলিম বিদ্বেষ বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকেও শক্ত অবস্থানে থেকে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"​সভাপতির বক্তব্যে কামরুল হাসান মিরাজ বলেন, "সীমান্তে রক্ত ঝরবে আর আমরা চুপ থাকব, তা হবে না। অবিলম্বে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং ভারতে মুসলিমদের জান-মালের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় ছাত্র সমাজ রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।"​ফতুল্লা থানা সভাপতি নূর নবী ইসলাম নাঈম-এর পরিচালনায় মিছিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি মুফতি তৌফিক বিন হারিস, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বায়তুলমাল সম্পাদক মুহাম্মদ মুজ্জাম্মিল, সরকারি তোলারাম কলেজ সভাপতি আমির মুহাম্মদ সিয়াম, ফতুল্লা থানা সেক্রেটারি আবু হুরায়রা, মুহাম্মদ মুরসালিন, নাজিম হাসান স্বপ্ন, আবু সাঈদ, খাজা ফাহিম সরকার, প্রমুখ। 

ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে ‘সরস্বতী মন্দির’ ঘোষণা করল হাইকোর্ট

ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত ভোজশালা কমপ্লেক্সকে ‘সরস্বতীর মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ্যের হাইকোর্ট।শুক্রবার (১৫ মে) হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়ে বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির দ্বৈত বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। একই সাথে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দের আবেদন জানাতে রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।আদালতের পর্যবেক্ষণরায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে ঐতিহাসিক প্রমাণ মিলেছে।আদালত উল্লেখ করে, "আমরা লক্ষ্য করেছি যে এই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিতর্কিত এলাকাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল।"বিরোধের পটভূমি ও পূর্বের নিয়মদীর্ঘদিন ধরে হিন্দু সম্প্রদায় ধার জেলার এই ভোজশালাকে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতী মন্দির বলে দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষ দাবি করে আসছিল যে এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে ‘কামাল মওলা মসজিদ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) ২০০৩ সালের একটি চুক্তি অনুসারে, এতদিন হিন্দুরা প্রতি মঙ্গলবার এবং মুসলমানরা প্রতি শুক্রবার এই কমপ্লেক্সে নিজ নিজ ধর্মীয় প্রার্থনা বা উপাসনা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে হিন্দু পক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং পুরো কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে।রায়ের ভিত্তি এএসআই (ASI) এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা২০২৪ সালের ১১ মার্চ মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এএসআই-কে এই কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ওই বছরের ২২ মার্চ থেকে শুরু করে টানা ৯৮ দিনব্যাপী বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি।এএসআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো বর্তমান এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বিতর্কিত কাঠামোটি মূলত মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই এর বৈজ্ঞানিক জরিপের সময় প্রাপ্ত প্রাচীন মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপিই প্রমাণ করে যে এই চত্বরটি মূলত একটি মন্দির ছিল।মুসলিম পক্ষের আপত্তিতবে আদালতের এই রায়ের বিপরীতে মুসলিম পক্ষ শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। আদালতে তাদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি ছিল পক্ষপাতদুষ্ট এবং এটি কেবল হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।হাইকোর্টের এই রায়ের পর অঞ্চলটিতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সূত্র: এনডিটিভি

​পর্তুগালে নারায়ণগঞ্জ কমিউনিটির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বর্ণাঢ্য মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

সুদূর ইউরোপের দেশ পর্তুগালে বসবাসরত নারায়ণগঞ্জের প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। "শক্তি, ঐক্য, সেবা"—এই তিন মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে 'নারায়ণগঞ্জ কমিউনিটি ইন পর্তুগাল'-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।​গত রোববার লিসবনের বৈচিত্র্যময় এলাকা বেরফামোসোর স্থানীয় 'নবাব জি' (Nawab G) রেস্টুরেন্টে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য প্রবাসী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা মুহূর্তেই এক খণ্ড নারায়ণগঞ্জের মিলনমেলায় পরিণত হয়।​সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাব্বির আহাম্মেদের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি এস এম গোলাম সারোয়ার।​আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি প্রবাসে এমন ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং প্রবাসীদের যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।​সভাপতির বক্তব্যে আব্দুর রহমান সংগঠনের প্রথম বছরের সাফল্য তুলে ধরেন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, "আমরা পর্তুগালে নারায়ণগঞ্জের মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকতে চাই এবং আমাদের এই ঐক্য প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।"​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি: মনিরুল ইসলাম ও রমজান মিয়া,সাধারণ সম্পাদক: সাইদুল হক,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: নাজিম,সদস্য শাহরিয়ার, শিহাব, আক্তার হোসেনসহ স্থানীয় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।​আলোচনা সভা শেষে এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। নৈশভোজের ফাঁকে প্রবাসীরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং নিজেদের শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন। আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনে নিজেদের শেকড়ের সাথে যুক্ত থাকতে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।​পরিশেষে, সংগঠনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে এবং আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ইসরায়েলি বাহিনী ভেঙে পড়ার সতর্কবার্তা দিলেন দেশটির সেনাপ্রধান

ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে একাধিক সম্মুখসারিতে যুদ্ধ করছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে করে বাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ইসরায়েলি বাহিনী ‘ভেঙে’ পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামির।ইসরায়েলের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার (২৫ মার্চ) ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইয়াল জামির। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে ১০টি লাল পতাকা তুলছি। সেনা সংকটের কারণে খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী সাধারণ অভিযানও চালাতে অক্ষম হয়ে পড়বে।’এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন ইসরায়েলি সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য সেনা নিয়োগ আইন, প্রাক্তন সেনাদের দায়িত্বে ফেরানো সংক্রান্ত আইন এবং সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে দায়িত্বের সময়সীমা বাড়ানো সংক্রান্ত আইনের প্রয়োজন।

বন্দর লক্ষণখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অনিয়মের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বন্দর লক্ষণখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অনিয়মের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লক্ষণখোলা আলহাজ্ব ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার যে অভিযোগ উঠেছে, তার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক। ‎‎তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর নেপথ্যে রয়েছে অভিযোগকারীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও পদ-পদবি হারানোর ক্ষোভ।‎‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মো. মাহতাব উদ্দিনের সঠিক নীতি অনুসরণের কারণে একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আমির হোসেন বাদশার বিরুদ্ধেও নানা আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ২০১৪ সালে বিদ্যালয়ের এফডিআর-এর প্রায় ১০ লাখ টাকা তিনটি চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছিলেন আমির হোসেন বাদশা। নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে এই টাকা তোলার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো ধরনের টেন্ডার বা সরকারি নিয়ম না মেনে সে বছর বিদ্যালয়ের মাটি ভরাটের কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।‎‎‎আলোচিত ভবন ভাড়া দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবাদকারীরা জানান, বিদ্যালয়ের নির্মিত ছয়তলা বিশিষ্ট ভবন সংলগ্ন পাশেই একটি চায়না ফ্যাক্টরির জন্য সেট ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যার দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখালেখি ও স্বাভাবিক পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভবন একটি চায়না কোম্পানির কাছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল, যা সম্পূর্ণ অবৈধ; কারণ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা এর ভবন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভাড়া দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। মূলত এই অবৈধ পদক্ষেপে প্রধান শিক্ষক প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।‎‎প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে স্পষ্ট করা হয় যে, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থে সহকারী শিক্ষকদের পরামর্শক্রমেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ বিদ্যালয়ের ফান্ডে পুনরায় সঠিকভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট না জেনে ও অসৎ উদ্দেশ্যে অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।‎‎এদিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট‎সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি আমির হোসেন বাদশা এবং এ.পি.এম. হাসান মেহেদী বহিরাগতদের মাধ্যমে একটি কিন্ডারগার্টেন পরিচালনার চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে। ‎‎প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক বিষয়টির তীব্র বিরোধিতা করলেও সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি আমির হোসেন বাদশা এবং এ.পি.এম. হাসান মেহেদীর সম্পৃক্ততায় ‘হালিমা খাতুন আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন’ পরিচালিত হয়ে আসছে। গত প্রায় দুই বছর ধরে উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে এই কিন্ডারগার্টেন চালানো হলেও তার কোনো বিদ্যুৎ বিল যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক এই অনিয়মের অনুমোদন না দেওয়ায় তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরোধের মূল সূত্রপাত হয়।‎‎বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্বার্থ এবং পাশের চায়না কোম্পানিকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টি করায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে একদল ব্যক্তি কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলেছেন।‎‎অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন পূর্বে দুই দফায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি স্থায়ীভাবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিনের প্রতি গভীর ক্ষোভ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলে জোরালো দাবি করেছেন বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।‎‎বিদ্যালয়টির শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চলা ষড়যন্ত্র বন্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।‎

উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে ইলহাম ইসলামিক স্কুলে ‘সাইন্স ফেয়ার-২০২৬’

উদ্ভাবনী চিন্তা ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে ইলহাম ইসলামিক স্কুলে ‘সাইন্স ফেয়ার-২০২৬’

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে রাজধানীর ইলহাম ইসলামিক স্কুলে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইলহাম সাইন্স ফেয়ার-২০২৬’।বুধবার (৭ অক্টোবর) ইলহাম ইসলামিক স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিজ্ঞানমেলায় স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি নানা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প, মডেল ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন পরিণত হয় জ্ঞান, কৌতূহল ও সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলহাম ইসলামিক স্কুলের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল এএফএম নুরুদ্দিন (অব.), সভাপতি ওবায়দুল্লাহ তারেক, ভাইস চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ, সিইও রমজান আলী, প্রধান শিক্ষক হারুন উর রশিদ এবং স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও অভিভাবকবৃন্দ ।বিজ্ঞানমেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে নিয়ে গিয়ে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে, পর্যবেক্ষণ করতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের চিন্তা করতে উৎসাহিত করা।মেলার বিভিন্ন স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি প্রকল্প প্রদর্শন করে। তারা দর্শনার্থীদের সামনে নিজেদের প্রকল্পের কার্যপ্রণালী, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বাস্তব জীবনে এর সম্ভাব্য প্রয়োগ তুলে ধরে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেরাই প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ পরিচালনা ও ব্যাখ্যা করায় তাদের আত্মবিশ্বাস ও উপস্থাপনা দক্ষতাও ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়।অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু করার আগ্রহের প্রশংসা করেন তারা।অনুষ্ঠানে সভাপতি ওবায়দুল্লাহ তারেক বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রস্তুত করাই আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাই তারা চিন্তা করতে শিখুক, প্রশ্ন করতে শিখুক এবং নিজেদের মেধা দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করুক। বিজ্ঞানমেলার মতো আয়োজন সেই সৃজনশীলতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।” “শ্রেণিকক্ষে শেখা বিষয় যখন একজন শিক্ষার্থী নিজের হাতে প্রয়োগ করে একটি প্রকল্প তৈরি করে, তখন তার শেখাটা আরও গভীর ও আনন্দময় হয়। ইলহাম সাইন্স ফেয়ারের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”স্কুলের প্রধান শিক্ষক হারুন উর রশিদ বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা তৈরি হয় তার কৌতূহল থেকে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু তথ্য মুখস্থ করবে না; বরং কোনো সমস্যাকে কীভাবে বিশ্লেষণ করতে হয় এবং তার নতুন সমাধান কীভাবে খুঁজে বের করতে হয়, সেটিও শিখবে।”অভিভাবকদের অভিমতবিজ্ঞানমেলায় সন্তানদের অংশগ্রহণ ও নিজেদের হাতে তৈরি প্রকল্প উপস্থাপনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু বিজ্ঞান শেখায় না, বরং তাদের চিন্তা করার, প্রশ্ন করার, নিজের ধারণা বাস্তবে প্রয়োগ করার এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তা উপস্থাপন করার সুযোগ করে দেয়।**দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থীর  অভিভাবক আফরোজা আক্তার বলেন, “আমরা সাধারণত সন্তানদের বই পড়তে ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দেখি। কিন্তু আজ তাদের নিজেদের তৈরি প্রকল্প নিয়ে এত আগ্রহের সঙ্গে কথা বলতে দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এ ধরনের আয়োজন তাদের শেখার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াবে।”প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল বলেন, “বিজ্ঞানকে আনন্দের সঙ্গে শেখার এমন সুযোগ শিশুদের জন্য খুবই প্রয়োজন। নিজেরা কিছু তৈরি করার মাধ্যমে তারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তা শুধু বই পড়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। ইলহাম ইসলামিক স্কুলের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”অভিভাবকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক আয়োজন নিয়মিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।আয়োজকরা মনে করেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী মানসিকতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।ইলহাম সাইন্স ফেয়ার-২০২৬-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই কৌতূহল ও সৃজনশীলতাকে আরও উৎসাহিত করার প্রয়াসই দেখা গেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে ইলহাম ইসলামিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে সক্ষম হবে।

আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষকদের অবদান রাখতে হবে: নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন

আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষকদের অবদান রাখতে হবে: নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, শিক্ষকদের মাধ্যমে দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। গত ১৫ বছরে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অব্যবস্থাপনা ও দুরবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।সোমবার (৫ অক্টোবর) শিক্ষক দিবস উপলক্ষে হলি উলস স্কুলের উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তৃণমূল পর্যায় থেকে মানুষের মধ্যে শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে স্কুলশিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের পুনর্গঠন, অগ্রগতি ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষকদের অবদান রাখতে হবে।তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজ আমাদের সমাজের অত্যন্ত গুণীজন। তাদের প্রতি মানুষের যে আস্থা, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা রয়েছে, তা মাথায় রেখে প্রত্যেক শিক্ষককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আমরা মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। শিক্ষকদের মাধ্যমে একটি মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, ইনশাআল্লাহ।নগরভবনে প্রশাসকের কক্ষে ৫ শিক্ষকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনের হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন শিক্ষকরা।অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ ধরনের আয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। তারা বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে শিক্ষকদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে তারা আরও উৎসাহিত হবেন। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে শিক্ষকরা আরও মনোযোগী হবেন এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া পাঁচ শিক্ষক হলেন—আইইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান গাজী, ক্যামব্রিয়ান স্কুলের প্রাথমিক শাখার প্রধান মো. ইউনুস আলী, আদমজী এমডব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা আক্তার, সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বদরুল হক এবং শেহাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদরুন নাহার।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা অনুরাগী ও গোদনাইলের ক্রীড়া সংগঠক অখিল ভূঁইয়া এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রশাসক সহায়ক সাগর প্রধান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারায়ণগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও এনায়েতনগর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাওসার মাহমুদ।

মাদকসেবীদের আটক করে পুকুর পরিষ্কার করালেন স্থানীয়রা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাদের বক্তারমুন্সী বাজারের মাঝখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের ডাকবাংলা সংলগ্ন জসিম ব্রিকস ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক দুজন হলেন—সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের বগাদানা গ্রামের কালা সর্দার বাড়ির দুলাল মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সাকিব (৪০) এবং আমিরাবাদ ইউনিয়নের আহাম্মদপুর গ্রামের আব্দুল হাদির ছেলে জাহেদ আলম (৩৮)।স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় তারা মাদক সেবন করছিলেন। খবর পেয়ে মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনারের নেতৃত্বে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করেন। পরে তাদের বক্তারমুন্সী বাজার এলাকায় নিয়ে আসা হয়।সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরা একটি পুকুর পরিষ্কারের কাজে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুকুরটিতে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে থাকায় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। মাদকবিরোধী সামাজিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পুকুরটি পরিষ্কারের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার বলেন, “দুই ব্যক্তি ব্রিক ফিল্ডে গাঁজা সেবন করছেন—এমন খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে সেখানে যাই। পরে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয়দের পরামর্শে বক্তারমুন্সী বাজারের দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনায় ভরা পুকুরটি পরিষ্কার করানো হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আগেও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। জামিনে বের হওয়ার পর পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে স্থানীয়দের পরামর্শে এবার তাদের দিয়ে পুকুর পরিষ্কার করানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে মাদক সেবন না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাদক সেবন, মাদক কেনাবেচা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সামাজিকভাবেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে আটক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে তারা মনে করেন।এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই যুবককে পুকুর পরিষ্কার করার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।তবে মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়টি আইনগতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আইনগত দিকটি আরও স্পষ্ট হবে।

বন্দরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯: 'মাদক নির্মূলের' দৃঢ় প্রত্যয় এএসপি তারেকের  ​

বন্দরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯: 'মাদক নির্মূলের' দৃঢ় প্রত্যয় এএসপি তারেকের ​

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বন্দর থানা পুলিশ। মাদক নির্মূলের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই অভিযানে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।​পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর থেকে নবীগঞ্জ, কাইতাখালী ও নোয়াদ্দা এলাকায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনের পরিচালনায় অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিএসপি) তারেক আল মেহেদী। অভিযানকালে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।​অভিযান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “আমরা আশা করি, বন্দর এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। কোনো মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে বন্দরে স্থান দেওয়া হবে না।” ​এলাকাবাসীর শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই জিরো-টলারেন্স নীতি এবং মাদকবিরোধী জোরদার তৎপরতা ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে থানা প্রশাসন।

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধামে ৬ বন্ধুর স্মরণীয় ভ্রমণ

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিরাজদিখানের পদ্মহেম ধামে ৬ বন্ধুর স্মরণীয় ভ্রমণ

কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটল নারায়ণগঞ্জের ছয় বন্ধুর একটি বিশেষ দিন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে হঠাৎ সিদ্ধান্তে তারা ঘুরে এলেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালিগাঁও এলাকার দোষরপাড়া পদ্মহেম ধাম (লালনের আখড়া বা বাউল বাড়ি)।নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে যোহরের নামাজের পর একসাথেই যাত্রা শুরু করেন ছয় বন্ধু। যাত্রাপথে বক্তাবলী থেকে সংগ্রহ করেন স্থানীয় মিষ্টি ও নিমকি। এরপর মিশনপাড়া মোড় থেকে অটোরিকশায় চড়ে ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ট্রলারে নদী পার হন তারা। সেখান থেকে পুনরায় অটোরিকশায় মিষ্টি-নিমকির স্বাদ নিতে নিতে আড্ডার ছলে পদ্মহেম ধামের উদ্দেশে রওনা দেন।​বিকাল চারটার দিকে পদ্মহেম ধামে পৌঁছান ভ্রমণকারীরা। অটোরিকশা থেকে নেমে বাটার বান, কলা ও জসিম ভাইয়ের বিশেষ তদারকিতে সেদ্ধ করা ডিম খেয়ে কিছুটা ক্লান্তি দূর করেন। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও ইছামতী নদীতে নৌকায় ঘোরার ইচ্ছা দমে যায়নি তাদের। বন্ধু ইউসুফ দরদাম করে আধা ঘণ্টার জন্য একটি ছোট নৌকা ভাড়া করেন। চলন্ত নৌকায় ধীরগতিতে ভেসে দুই তীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি নদীতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য তাদের ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।​নৌকা ভ্রমণ শেষে পদ্মহেম ধামের ছোট্ট টিনের মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন ছয় বন্ধু। স্থানীয় একটি দোকানে চা পানের পর বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে তারা ফেরার পথ ধরেন। সন্ধ্যার আজানের সময় ডিগ্রিচর ঘাটে পৌঁছে ঘাটের পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন এবং স্থানীয় বাজার থেকে দই খেয়ে আবার পথ চলেন।​ফেরার পথে বালিগাঁও এলাকায় কাশফুলের নরম ছোঁয়া ভ্রমণের আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করে। দিনের এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে কাশফুলের সঙ্গে দলবেঁধে বেশ কিছু ছবি তুলে ফ্রেমবন্দি হন বন্ধুরা। বৃষ্টিভেজা পথ, নদী পারাপার, ইছামতীতে নৌকাভ্রমণ, নামাজ, আড্ডা ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদে ছয় বন্ধুর একদিনের এই সফর হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

আমার আবিস্কৃত জালানী তেল ব্যবহার করলে আমদানী কমবে- বিজ্ঞানী শরিফুল ইসলাম

আমার আবিস্কৃত জালানী তেল ব্যবহার করলে আমদানী কমবে- বিজ্ঞানী শরিফুল ইসলাম

মাত্র কেজি প্রতি ২৫ টাকা খরচ করেই জালানী তেল আবিস্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তরুন বিজ্ঞানী শরিফুর ইসলাম নিবিড়।তিনি গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন,আমার আবিস্কৃত জালানী তেল ব্যবহার করলে আমদানী ব্যয় কমবে।রাষ্ট্রর লাখ লাখ ডলার বেঁচে যাবে।শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টায়শহরের মাসদাইর স্কাই চিকেন রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভায় উপরোক্ত কথা বলেন। দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা নিরসনে তরুণ বিজ্ঞানী মোঃ শরিফুল ইসলাম নিবিরের   উদ্ভাবনী জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা ও ২৫ টাকা কেজি খরচে জ্বালানি তৈল তৈরি করেছেন। যাহা তিনি গনমাধ্যমকর্মীদের প্রদর্শন করে দেখান।শরিফুল ইসলাম আরো বলেন, তিনি সাগরের ঢেউ থেকে নিরবিচ্ছিন স্বল্প খরচে দেশের কল্যানে বিদ্যুৎ তৈরি  করে দিতে সক্ষম। তার আবিস্কৃত জালানী তেল বর্তমানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বয়লার,মোটর সাইকেল ও চুলার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।সরকারের সহযোগিতা পেলে দেশের কল্যানে তিনি তার উদ্ভাবনী জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে পারবেন। এসময় গবেষক এর সাথে উপস্থিত ছিলেন বিশতং রিচার্জ সেন্টারের সহযোগী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ডালিম ও মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী প্রমূখ।

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দ্বায়িত্ব পেলেন পটুয়াখালীর তুহিন ফরাজী

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দ্বায়িত্ব পেলেন পটুয়াখালীর তুহিন ফরাজী

রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পূর্ব সানেশ্বরের আবু বকর ছিদ্দিক ওরফে তুহিন ফরাজীকে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তুহিন ফরাজী। প্রতিষ্ঠার পর তিনি কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির নির্ধারিত ছয় মাসের মেয়াদজুড়েও তিনি সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।পরবর্তীতে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে তুহিন ফরাজীকে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।একই সঙ্গে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তুহিন ফরাজী তার অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সংগঠনের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫ এর কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫ এর কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ পুলিশ মেধাবৃত্তি-২০২৪ ও ২০২৫ এ নির্বাচিত কৃতী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট, সম্মানী ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেল ৫টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের যে সকল সন্তান ২০২৪ সালে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, তাদেরকে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা এর পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) তাসমিন আক্তার, পিপিএম ২১ জন কৃতী শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, নগদ অর্থ ও সার্টিফিকেট তুলে দেন।এ সময় কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার বলেন, শুধু পাঠ্য বইয়ের জ্ঞান নয়, এর পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বড়দের শ্রদ্ধা ও ছোটদের স্নেহ করতে হবে। খারাপ ও দুষ্ট প্রকৃতির বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে।তিনি আরও বলেন, মোবাইলে আসক্ত হয়ে মূল্যবান সময় অপচয় করা যাবে না। মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। নিজেকে সৎ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পুলিশ পরিবারের সন্তান হিসেবে তোমাদের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি। তোমাদের এই সাফল্য তোমাদের বাবা-মা এবং পুরো পুলিশ পরিবারকে গর্বিত করেছে।তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

বন্দরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯: 'মাদক নির্মূলের' দৃঢ় প্রত্যয় এএসপি তারেকের  ​

বন্দরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯: 'মাদক নির্মূলের' দৃঢ় প্রত্যয় এএসপি তারেকের ​

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বন্দর থানা পুলিশ। মাদক নির্মূলের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই অভিযানে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।​পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর থেকে নবীগঞ্জ, কাইতাখালী ও নোয়াদ্দা এলাকায় একযোগে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনের পরিচালনায় অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিএসপি) তারেক আল মেহেদী। অভিযানকালে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।​অভিযান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “আমরা আশা করি, বন্দর এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। কোনো মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে বন্দরে স্থান দেওয়া হবে না।” ​এলাকাবাসীর শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই জিরো-টলারেন্স নীতি এবং মাদকবিরোধী জোরদার তৎপরতা ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে থানা প্রশাসন।

খাদ্য খাতের যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করা হবে- খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম

খাদ্য খাতের যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করা হবে- খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম

বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন দেশে বর্তমানে বার্ষিক ১৫ লাখ টন খাদ্য চাহিদার বিপরীতে তার প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ খাদ্য মজুদ রয়েছে। জনগণের যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সঠিক সময়ে এবং সঠিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য সরবরাহ করা। মঙ্গলবার  (৬ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একরামপুর এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় সরকারি  খাদ্য গুদাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের  প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেবে না। খাদ্য খাতের যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি কঠোরভাবে দমন করা হবে।  নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম,  খাদ্য সচিব আবু তাহের মোঃ মাসুদ রানা, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির, বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিবানী সরকার, বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মুশফিকুর রহমানসহ খাদ্য বিভাগের  উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন।

ডেঙ্গু সচেতনতায় সিদ্ধিরগঞ্জে জামায়াতের লিফলেট ও বিনামূল্যে হোমিও ডোজ বিতরণ

ডেঙ্গু সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে লিফলেট এবং বিনামূল্যে হোমিওপ্যাথিক প্রতিষেধক ডোজ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাদ আসর সাহেবপাড়া, মিতালী মার্কেট ও বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।​কর্মসূচিতে ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আলহাজ্ব মোহাম্মদ জামাল হোসাইন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে এ প্রতিষেধক ডোজ বিতরণ করেন।​এ সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহাম্মদ জামাল হোসাইন বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি যেকোনো নাগরিক সমস্যায় জামায়াতে ইসলামী সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।" (প্রয়োজনে মূল বক্তব্য সংশোধন করে নিতে পারেন)​থানা সমাজকল্যাণ সেক্রেটারি এনায়েতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি জনাব হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ড সভাপতি আলহাজ্ব মনির হোসেন, রুম্মান আলী, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ফিরোজ আহম্মদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।​উক্ত কর্মসূচিতে এলাকাটির প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের মাঝে বিনামূল্যে হোমিওপ্যাথিক প্রতিষেধক ডোজ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সংবলিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

ফতুল্লায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন সম্পন্ন: ১১০ রোগীর সেবা গ্রহণ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যুব বিভাগের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা এবং লেন্সসংযোজনসহ ছানি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ৪ অক্টোবর রবিবার ফতুল্লা উত্তর রূপায়ন গেট সংলগ্ন থানা অফিসে বিশেষ এই ফ্রি চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়।​চক্ষু শিবিরে মোট ১১০ জন রোগী চোখের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্য থেকে ছানি সমস্যায় আক্রান্ত ১৬ জন রোগীকে বাছাই করে বিনামূল্যে লেন্সসংযোজন অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সফলভাবে তাদের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে।​যুব বিভাগের সেক্রেটারি মুহাম্মদ মারুফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি মাওলানা আবদুল জব্বার।​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল আব্দুল আজিজ, শহীদ আদিলের পিতা আবুল কালাম, ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, এডভোকেট জাকির হামিদি এবং কাজী আইউব আলী।​প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবায় দেশের প্রতিটি এলাকায় এমন ফ্রি চক্ষু শিবির আয়োজনে সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে হামের প্রকোপ, শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতার আহ্বান

বাংলাদেশে ২০২৬ সালে হামের প্রকোপ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ব্যাপক নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বছরের শুরুতে দেশজুড়ে দ্রুত হারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুদের সুরক্ষায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নজরদারি জোরদার করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ১৮ হাজার ২১৯টি সন্দেহজনক হাম রোগীর ঘটনা, ২ হাজার ৮৯৭টি পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী এবং ১৬৪টি সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়; এর মধ্যে ৩০টি মৃত্যু নিশ্চিত হামজনিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। পরবর্তীতে ১৪ জুন পর্যন্ত WHO-এর প্রতিবেদনে ৮৫ হাজার ৯৫১টি সন্দেহজনক হাম রোগী এবং ১০ হাজার ৩২৩টি পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর তথ্য উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে ৫৬০টি সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু এবং ৯২টি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সাধারণত উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। হাম শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। হামের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকার ২০২৬ সালে দেশব্যাপী measles-rubella (MR) টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ে উচ্চঝুঁকির ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হয়। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রাখা, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং জ্বর ও ফুসকুড়িসহ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।WHO বলছে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান।

টক-মিষ্টি আমড়া কেন খাবেন? জানুন পুষ্টিগুণ

দেশের অন্যতম পরিচিত টকজাতীয় ফল আমড়া। স্বাদে টক-মিষ্টি এই ফলটি শুধু মুখরোচকই নয়, এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ। পরিমাণমতো আমড়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। কম ক্যালরির ফল আমড়া—তবে আমড়ার জাত, পাকার মাত্রা ও খাওয়ার উপযোগী অংশের ওপর পুষ্টিমান কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণভাবে ১০০ গ্রাম আমড়ায় আনুমানিক ৫০–৬০ কিলোক্যালরি থাকতে পারে। তাই অন্যান্য অনেক মিষ্টি ফলের তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্যালরির খাবার হিসেবে ধরা যায়। আমড়ার প্রধান গুণাগুণ ভিটামিন C সমৃদ্ধ: আমড়ায় ভিটামিন C থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এবং শরীরে কোলাজেন তৈরিতে প্রয়োজনীয়। হজমে সহায়ক: আমড়ায় খাদ্যআঁশ রয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ও সুষম খাবারের সঙ্গে খাদ্যআঁশ গ্রহণ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ভিটামিন C ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। পটাশিয়ামসহ খনিজ: আমড়ায় পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। পটাশিয়াম শরীরের তরল ভারসাম্য ও পেশির স্বাভাবিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের জন্য উপকারী: ভিটামিন C কোলাজেন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোলাজেন ত্বকসহ শরীরের সংযোজক টিস্যুর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।