যশোরে চাঁদার দাবিতে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম
যশোরের শার্শায় শরিফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গুরুতর আহত ওই যুবক বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম রুদ্রপুর গ্রামের ছাবেদ আলীর ছেলে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শরিফুলের আপন চাচা শুকুর আলী রুপা পাচারের কারবার করতো, শরিফুল ছিলো শুকুর আলীর কর্মচারী। হঠাৎ চাচা শুকুর আলীর ৯ লক্ষ টাকার রুপা খোয়া যায়, তখন শুকুর আলী শরিফুলের উপরে দোষ চাপায়।
পরে শরিফুল চাচা শুকুর আলীকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়। কিছু দিনপর জানাজানি হয় শরিফুল না’ রুপা আত্মসাৎ করেন একই এলাকার আতিকুর নামে এক যুবক, যা আতিকুর নিজেও স্বীকার করেন। এরপর আতিকুর শরিফুলকে ৬ লক্ষ টাকা দেবে এই মর্মে ১ লক্ষ টাকা নগত ও ৫ লক্ষ টাকার একটি ব্যাংক চেক প্রদান করে। পরে চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে একাউন্টে টাকা না থাকাই চেকের ৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করতে পারিনি শরিফুল। যে কারণে দীর্ঘদিন শরিফুল ও আতিকুরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সহযোগিতায় শরিফুল, আতিকুরের কাছ থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়।
ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ভুক্তভোগী শরিফুল কিছুদিন এলাকা থেকে পালাতক ছিলো। ঘটনার দিন শরিফুল প্রতিদিনের ন্যায় রাজমিস্ত্রীর কাজে যাচ্ছিল, খবর পেয়ে আতিকুর, রশিদ ও মুকুল লোকজন নিয়ে তাকে জোরপূর্বক রাস্তা থেকে তুলে এনে রুদ্রপুর বাজারে নিয়ে এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। টাকা না পেয়ে তাকে বৈদ্যুতিক খুটির সাথে বেঁধে হাতুড়ি ও বাঁশের লাটি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে মুকুল ও আতিকুর। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আহত শরিফুলের পিতা ছাবেদ আলী দাবি তার ভাই শুকুর আলী ও ছেলে শরিফুল রুপা চোরাচালানের ব্যবসা করতো, ওই সময় তার ভাইয়ের ৯ লাখ টাকার রূপা আত্মসাত করে অভিযুক্ত আতিকুর। পরে আওয়ামীলীগের লোকজনের মাধ্যমে আতিকুরের কাছ থেকে সেই রুপা আত্মসাতের ৩ লক্ষ টাকা আদায় করে শরিফুল। এখন নতুন করে ২০ লক্ষ টাকার দাবীতে তার ছেলে শরিফুলকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে জখম করে আতিকুর, মুকুল ও তার সহযোগিরা।
এবিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মারপিটের ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন