ঢাকা   শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বন্দরে মাদকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা: বৃহত্তর হাজীপুর পাঁচ পঞ্চায়েতের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল



বন্দরে মাদকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা: বৃহত্তর হাজীপুর পাঁচ পঞ্চায়েতের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল

“মাদকের আস্তানা এই হাজীপুরে রাখবো না, মাদকের বিরুদ্ধে চলো যাই যুদ্ধে”— এই দৃঢ় স্লোগানকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদকের বিরুদ্ধে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) জুম্মার নামাজ শেষে বৃহত্তর হাজীপুর পাঁচ পঞ্চায়েত কমিটি, স্থানীয় যুবসমাজ ও সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​বিক্ষোভ মিছিলটি বন্দর হাজীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হয়ে সোনাকান্দা পৌর স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করে। পরে ২নং হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়।

​সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হলো আমাদের হাজীপুর। পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এই গ্রামের একটি সুনাম ও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অন্য এলাকা থেকে কিছু অসাধু মাদক ব্যবসায়ী এসে এখানে ফেরি করে মাদক বিক্রি করছে। এর ফলে আমাদের গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আমাদের নতুন পুলিশ প্রশাসনও এখন এই মাদক কারবারিদের কারণে গ্রামটিকে নেতিবাচকভাবে চিনছে। অথচ আমাদের গ্রামের মূল কোনো বাসিন্দা এই অপকর্মের সাথে জড়িত নয়।”

​বক্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, সংসদে মাদকের বিরুদ্ধে যে কঠোর আইন পাস হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন যেন তার সঠিক বাস্তবায়ন করে। মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।

​সমাবেশ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, “আমাদের গ্রামের যুবকদের হাতে যেদিন কোনো মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়বে, মনে রাখবেন সেটাই হবে তার মাদক বিক্রির শেষ দিন। যদি মূল অপরাধীদের ধরা না যায়, তবে তাদের আশ্রয়দাতা বা পরিবারের সদস্যদের এনেও সামাজিক ও আইনিভাবে কঠোর বিচার করা হবে। কোনো অবস্থাতেই হাজীপুরের মাটিতে মাদকের আস্তানা গড়তে দেওয়া হবে না।”

​উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে বৃহত্তর হাজীপুর পাঁচ পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ​শহিদ হোসেন, সাবেক মেম্বার (কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড) ও সাবেক সভাপতি, হাজীপুর বড় জামে মসজিদ।​মাহবুব হোসেন, বর্তমান মেম্বার, ৪নং ওয়ার্ড। ​মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব হাজীপুর জামে মসজিদ। মাসুদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, মধ্য হাজীপুর জামে মসজিদ। ​পাইন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক, হাজীপুর রেললাইন জামে মসজিদ। মোক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, পশ্চিম হাজীপুর বাগে জান্নাত জামে মসজিদ।

​এছাড়াও মিছিলে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন স্থানীয় সাংবাদিক রুহুল আমিন, সাংবাদিক এমদাদুল হক মিলন এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মো: মোতাহার হোসেন, আজিম মিয়া, মো: বিল্লাল, মনির হোসেন, আলমগীর, রিপন মিয়া, ইসমাইল, নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম, মাসুদ মিয়া, মাসুম মিয়া, ফজরুল হক, মানিক মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, লিটন মিয়া, ফারুক ও জামাল মিয়াসহ স্থানীয় শত শত সাধারণ জনগণ ও লড়াকু যুবসমাজ।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


বন্দরে মাদকের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা: বৃহত্তর হাজীপুর পাঁচ পঞ্চায়েতের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

“মাদকের আস্তানা এই হাজীপুরে রাখবো না, মাদকের বিরুদ্ধে চলো যাই যুদ্ধে”— এই দৃঢ় স্লোগানকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদকের বিরুদ্ধে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) জুম্মার নামাজ শেষে বৃহত্তর হাজীপুর পাঁচ পঞ্চায়েত কমিটি, স্থানীয় যুবসমাজ ও সর্বস্তরের এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​বিক্ষোভ মিছিলটি বন্দর হাজীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু হয়ে সোনাকান্দা পৌর স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করে। পরে ২নং হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ হয়।

​সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হলো আমাদের হাজীপুর। পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এই গ্রামের একটি সুনাম ও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অন্য এলাকা থেকে কিছু অসাধু মাদক ব্যবসায়ী এসে এখানে ফেরি করে মাদক বিক্রি করছে। এর ফলে আমাদের গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আমাদের নতুন পুলিশ প্রশাসনও এখন এই মাদক কারবারিদের কারণে গ্রামটিকে নেতিবাচকভাবে চিনছে। অথচ আমাদের গ্রামের মূল কোনো বাসিন্দা এই অপকর্মের সাথে জড়িত নয়।”

​বক্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, সংসদে মাদকের বিরুদ্ধে যে কঠোর আইন পাস হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন যেন তার সঠিক বাস্তবায়ন করে। মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা।

​সমাবেশ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, “আমাদের গ্রামের যুবকদের হাতে যেদিন কোনো মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়বে, মনে রাখবেন সেটাই হবে তার মাদক বিক্রির শেষ দিন। যদি মূল অপরাধীদের ধরা না যায়, তবে তাদের আশ্রয়দাতা বা পরিবারের সদস্যদের এনেও সামাজিক ও আইনিভাবে কঠোর বিচার করা হবে। কোনো অবস্থাতেই হাজীপুরের মাটিতে মাদকের আস্তানা গড়তে দেওয়া হবে না।”

​উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে বৃহত্তর হাজীপুর পাঁচ পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ​শহিদ হোসেন, সাবেক মেম্বার (কলাগাছিয়া ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড) ও সাবেক সভাপতি, হাজীপুর বড় জামে মসজিদ।​মাহবুব হোসেন, বর্তমান মেম্বার, ৪নং ওয়ার্ড। ​মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব হাজীপুর জামে মসজিদ। মাসুদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, মধ্য হাজীপুর জামে মসজিদ। ​পাইন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক, হাজীপুর রেললাইন জামে মসজিদ। মোক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, পশ্চিম হাজীপুর বাগে জান্নাত জামে মসজিদ।

​এছাড়াও মিছিলে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন স্থানীয় সাংবাদিক রুহুল আমিন, সাংবাদিক এমদাদুল হক মিলন এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মো: মোতাহার হোসেন, আজিম মিয়া, মো: বিল্লাল, মনির হোসেন, আলমগীর, রিপন মিয়া, ইসমাইল, নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম, মাসুদ মিয়া, মাসুম মিয়া, ফজরুল হক, মানিক মিয়া, দেলোয়ার হোসেন, লিটন মিয়া, ফারুক ও জামাল মিয়াসহ স্থানীয় শত শত সাধারণ জনগণ ও লড়াকু যুবসমাজ।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত