ঢাকা   বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

অবৈধ দখলে সরকারি খাল, জলাবদ্ধতায় রূপগঞ্জ: বিপন্ন জনজীবন



অবৈধ দখলে সরকারি খাল, জলাবদ্ধতায় রূপগঞ্জ: বিপন্ন জনজীবন
অবৈধ দখলে সরকারি খাল

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার সাতটি গ্রামের হাজারো মানুষের জীবন আজ যেন থমকে গেছে। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি পানি নিষ্কাশনের ছয়টি খাল অবৈধভাবে ভরাট করে দখল করায় বছরের পর বছর ধরে এ দুর্ভোগ বাড়ছে। এবার টানা বর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো টেকপাড়া, কালাদী, নলপাথর, নড়াবো, কোশাব, আইতলা ও ডুলুরদিয়া গ্রামে এখন যেদিকেই চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। অনেক এলাকায় কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। কাঁচা-পাকা অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, ঘুমানো, এমনকি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এসব এলাকার বৃষ্টির পানি সহজেই সরকারি ছোট-বড় ছয়টি খাল দিয়ে ডেওরি বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নেমে যেত। ফলে বর্ষাকালেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আবাসন প্রকল্প নির্মাণের নামে একের পর এক খাল বালু ফেলে ভরাট করে দেওয়ায় পানি বের হওয়ার সব পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলেই সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়, আর টানা বর্ষণে পুরো এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ইস্টউড সিটি নামে একটি আবাসন প্রকল্প সরকারি বিভিন্ন পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হান্ডি মার্কেট থেকে ডেওরি বিল পর্যন্ত খাল, মুকসুর বাড়ি থেকে মগার বাড়ি পর্যন্ত চিপা খাল, কালাদী থেকে ভুলতা বড় খাল, বাড়ৈপাড়া হয়ে ডুলুরদিয়া-নলপাথর খাল,ইকবালেরটেক থেকে নড়াবো খাল এবং নড়াবো থেকে নলপাথর পর্যন্ত সরকারি পানি নিষ্কাশনের খাল। এসব খাল ভরাট হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি আটকে থেকে পুরো জনপদ জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।জলাবদ্ধতার কারণে শুধু মানুষের চলাচল নয়, কৃষি ও মৎস্য খাতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন পুকুর ও মাছের ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় স্থানীয় মাছচাষীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক পরিবার তাদের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।অন্যদিকে দূষিত ও ময়লা পানিতে বসবাস করতে বাধ্য হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনে অর্ধশতাধিক মানুষ ঠান্ডাজনিত রোগ, চর্মরোগ ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।শিক্ষাক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কোমরসমান পানি পেরিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাড়িতেই রাখছেন।নলপাথর গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন,খাল ভরাটের কারণেই আমাদের এলাকায় পানি নামতে পারছে না। রাস্তায় কোমরসমান পানি। কাজে যেতে পারছি না, গবাদিপশু পালনও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সরকারি খাল পুনঃখনন করতে হবে।নড়াবো এলাকার জাকির হোসেন বলেন,ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। রান্নাবান্না করতে পারছি না। আবাসন প্রকল্পগুলো খাল দখল করায় আজ আমাদের এই দুর্ভোগ। দ্রুত খাল উদ্ধার করা হোক।কালাদী এলাকার ইমরান ভূঁইয়া বলেন,অল্প বৃষ্টিতেই এলাকা ডুবে যায়। এবার টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সব রাস্তা তলিয়ে গেছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। দুর্ভোগের শেষ নেই।টেকপাড়ার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন,পাঁচ-ছয় দিন ধরে ঘরের ভেতরে পানি। ঘর থেকে বের হতে পারছি না। ঠিকমতো রান্নাও করা যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়েদের স্কুল বন্ধ। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।এলাকাবাসী জানান, গত ছয় বছর ধরে বর্ষা এলেই তারা একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বহুবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও সরকারি খাল পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।শুধু এই সাতটি গ্রাম নয়, কায়েতপাড়া, রূপগঞ্জ, গোলাকান্দাইল, নাগেরবাগ, পাচাইখা, বরাবো ও পবনকুলসহ আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায়ও জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে ইস্টউড সিটির ল্যান্ড অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন,খালের জায়গা রেখেই বালু ভরাট করা হয়েছে।রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বাদল কুমার সাহা বলেন,সম্প্রতি চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সবাইকে ময়লা ও দূষিত পানির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মারজানুর রহমান বলেন,জলাবদ্ধতার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অবৈধভাবে সরকারি খাল ভরাটের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সরকারি খাল পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়া সরকারি খাল দ্রুত উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে খাল দখল ও ভরাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে বছরের পর বছর ধরে চলা জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে রূপগঞ্জের হাজারো পরিবার এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন পানিবন্দি মানুষ। 

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


অবৈধ দখলে সরকারি খাল, জলাবদ্ধতায় রূপগঞ্জ: বিপন্ন জনজীবন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার সাতটি গ্রামের হাজারো মানুষের জীবন আজ যেন থমকে গেছে। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরবাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি পানি নিষ্কাশনের ছয়টি খাল অবৈধভাবে ভরাট করে দখল করায় বছরের পর বছর ধরে এ দুর্ভোগ বাড়ছে। এবার টানা বর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো টেকপাড়া, কালাদী, নলপাথর, নড়াবো, কোশাব, আইতলা ও ডুলুরদিয়া গ্রামে এখন যেদিকেই চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। অনেক এলাকায় কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। কাঁচা-পাকা অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবারের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, ঘুমানো, এমনকি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এসব এলাকার বৃষ্টির পানি সহজেই সরকারি ছোট-বড় ছয়টি খাল দিয়ে ডেওরি বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নেমে যেত। ফলে বর্ষাকালেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হতো না। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আবাসন প্রকল্প নির্মাণের নামে একের পর এক খাল বালু ফেলে ভরাট করে দেওয়ায় পানি বের হওয়ার সব পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলেই সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়, আর টানা বর্ষণে পুরো এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ইস্টউড সিটি নামে একটি আবাসন প্রকল্প সরকারি বিভিন্ন পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট করেছে। এর মধ্যে রয়েছে হান্ডি মার্কেট থেকে ডেওরি বিল পর্যন্ত খাল, মুকসুর বাড়ি থেকে মগার বাড়ি পর্যন্ত চিপা খাল, কালাদী থেকে ভুলতা বড় খাল, বাড়ৈপাড়া হয়ে ডুলুরদিয়া-নলপাথর খাল,ইকবালেরটেক থেকে নড়াবো খাল এবং নড়াবো থেকে নলপাথর পর্যন্ত সরকারি পানি নিষ্কাশনের খাল। এসব খাল ভরাট হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি আটকে থেকে পুরো জনপদ জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।জলাবদ্ধতার কারণে শুধু মানুষের চলাচল নয়, কৃষি ও মৎস্য খাতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন পুকুর ও মাছের ঘেরের মাছ ভেসে যাওয়ায় স্থানীয় মাছচাষীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক পরিবার তাদের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।অন্যদিকে দূষিত ও ময়লা পানিতে বসবাস করতে বাধ্য হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনে অর্ধশতাধিক মানুষ ঠান্ডাজনিত রোগ, চর্মরোগ ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।শিক্ষাক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কোমরসমান পানি পেরিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাড়িতেই রাখছেন।নলপাথর গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন,খাল ভরাটের কারণেই আমাদের এলাকায় পানি নামতে পারছে না। রাস্তায় কোমরসমান পানি। কাজে যেতে পারছি না, গবাদিপশু পালনও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সরকারি খাল পুনঃখনন করতে হবে।নড়াবো এলাকার জাকির হোসেন বলেন,ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। রান্নাবান্না করতে পারছি না। আবাসন প্রকল্পগুলো খাল দখল করায় আজ আমাদের এই দুর্ভোগ। দ্রুত খাল উদ্ধার করা হোক।কালাদী এলাকার ইমরান ভূঁইয়া বলেন,অল্প বৃষ্টিতেই এলাকা ডুবে যায়। এবার টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সব রাস্তা তলিয়ে গেছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। দুর্ভোগের শেষ নেই।টেকপাড়ার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন,পাঁচ-ছয় দিন ধরে ঘরের ভেতরে পানি। ঘর থেকে বের হতে পারছি না। ঠিকমতো রান্নাও করা যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়েদের স্কুল বন্ধ। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।এলাকাবাসী জানান, গত ছয় বছর ধরে বর্ষা এলেই তারা একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বহুবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও সরকারি খাল পুনরুদ্ধারে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।শুধু এই সাতটি গ্রাম নয়, কায়েতপাড়া, রূপগঞ্জ, গোলাকান্দাইল, নাগেরবাগ, পাচাইখা, বরাবো ও পবনকুলসহ আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায়ও জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।অভিযোগের বিষয়ে ইস্টউড সিটির ল্যান্ড অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন,খালের জায়গা রেখেই বালু ভরাট করা হয়েছে।রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বাদল কুমার সাহা বলেন,সম্প্রতি চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সবাইকে ময়লা ও দূষিত পানির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মারজানুর রহমান বলেন,জলাবদ্ধতার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অবৈধভাবে সরকারি খাল ভরাটের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সরকারি খাল পুনরুদ্ধার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়া সরকারি খাল দ্রুত উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে খাল দখল ও ভরাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে বছরের পর বছর ধরে চলা জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে রূপগঞ্জের হাজারো পরিবার এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন পানিবন্দি মানুষ। 


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত