ঢাকা   বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বন্দর থানায় মাদক ব্যবসায়ীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার নাটক! নেপথ্যে ৯০ হাজার টাকার চুক্তি



বন্দর থানায় মাদক ব্যবসায়ীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার নাটক! নেপথ্যে ৯০ হাজার টাকার চুক্তি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিজের অপকর্ম আড়াল করতে ও নিজেকে রক্ষা করতে থানা ফটকের সামনেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা ও নাটক সাজিয়েছেন রমজান নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। 

১৫ জুলাই দুপুরে বন্দর থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। তবে স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই আত্মহত্যার চেষ্টার পেছনে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ৯০ হাজার টাকার এক গোপন চুক্তির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রমজানকে এলাকায় পুনর্বাসন ও নির্বিঘেœ ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিতে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিবের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রমজানকে এলাকায় ফেরানোর চুক্তি করা হয়।

চুক্তির পর রমজান এলাকায় ফিরে আসেন এবং ইস্পাহানি একরামপুর বাজারে হানিফ মিয়ার একটি দোকান ভাড়া নিয়ে পুনরায় তার গ্যারেজ ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

চুক্তির পুরো টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় চুক্তিকারী মনির, কাশেম ও রাকিবের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এই বিরোধ মেটাতে পরবর্তীতে ইস্পাহানি একরামপুর বাজারের একটি কথিত বিএনপি কার্যালয়ে আমানের নেতৃত্বে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উক্ত সালিশে ৯০ হাজার টাকার বিষয়টি রফাদফা করা হয়। 

সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি ৬০ হাজার টাকা আগামী ২ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে মর্মে মাদক ব্যবসায়ী হবি ও তার মেয়ে দায়িত্ব নেন।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের পুত্রের স্পষ্ট মাদকবিরোধী অবস্থান ও নির্দেশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে এভাবে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং প্রকাশ্য সালিশের ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই সালিশি দ্বন্দ্ব ও নিজেদের অবৈধ মাদক ব্যবসার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং জনমনে সহানুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ১৫ জুলাই দুপুরে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন মাদক ব্যবসায়ী রমজান। তিনি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে বন্দর থানার ফটকে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজন তাকে বাধা দেওয়ায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, "রমজান নামে এক যুবক হঠাৎ দৌড়ে থানায় এসে নিজের শরীরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এলাকায় তার পরিচিত কিছু লোকের সাথে তার বাগবিত-া ও বিরোধ হয়েছিল। যার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে সে থানায় এসে এই কা- ঘটায়। 

এলাকাবাসীর দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নেপথ্যে থাকা গডফাদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


বন্দর থানায় মাদক ব্যবসায়ীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার নাটক! নেপথ্যে ৯০ হাজার টাকার চুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিজের অপকর্ম আড়াল করতে ও নিজেকে রক্ষা করতে থানা ফটকের সামনেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা ও নাটক সাজিয়েছেন রমজান নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। 

১৫ জুলাই দুপুরে বন্দর থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। তবে স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই আত্মহত্যার চেষ্টার পেছনে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ৯০ হাজার টাকার এক গোপন চুক্তির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রমজানকে এলাকায় পুনর্বাসন ও নির্বিঘেœ ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিতে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিবের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রমজানকে এলাকায় ফেরানোর চুক্তি করা হয়।

চুক্তির পর রমজান এলাকায় ফিরে আসেন এবং ইস্পাহানি একরামপুর বাজারে হানিফ মিয়ার একটি দোকান ভাড়া নিয়ে পুনরায় তার গ্যারেজ ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

চুক্তির পুরো টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় চুক্তিকারী মনির, কাশেম ও রাকিবের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এই বিরোধ মেটাতে পরবর্তীতে ইস্পাহানি একরামপুর বাজারের একটি কথিত বিএনপি কার্যালয়ে আমানের নেতৃত্বে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উক্ত সালিশে ৯০ হাজার টাকার বিষয়টি রফাদফা করা হয়। 

সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি ৬০ হাজার টাকা আগামী ২ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে মর্মে মাদক ব্যবসায়ী হবি ও তার মেয়ে দায়িত্ব নেন।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের পুত্রের স্পষ্ট মাদকবিরোধী অবস্থান ও নির্দেশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে এভাবে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং প্রকাশ্য সালিশের ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, এই সালিশি দ্বন্দ্ব ও নিজেদের অবৈধ মাদক ব্যবসার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং জনমনে সহানুভূতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ১৫ জুলাই দুপুরে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন মাদক ব্যবসায়ী রমজান। তিনি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে বন্দর থানার ফটকে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজন তাকে বাধা দেওয়ায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, "রমজান নামে এক যুবক হঠাৎ দৌড়ে থানায় এসে নিজের শরীরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এলাকায় তার পরিচিত কিছু লোকের সাথে তার বাগবিত-া ও বিরোধ হয়েছিল। যার জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে সে থানায় এসে এই কা- ঘটায়। 

এলাকাবাসীর দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নেপথ্যে থাকা গডফাদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত