ফাইনালের দুয়ারে দুই পরাশক্তি, কার স্বপ্ন ভাঙবে সেমিফাইনালে?
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ ও আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার। দুই দলের লড়াই শুধু ৯০ মিনিটের খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইতিহাস, আবেগ, বিতর্ক এবং প্রতিশোধের গল্পও বহন করে। ১৬ জুলাই (বাংলাদেশ সময় রাত) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি। ফলে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন এই মহারণের দিকে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত দুই দল পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ড তিনবার এবং আর্জেন্টিনা দুইবার জয় পেয়েছে। সংখ্যার হিসেবে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও নকআউট পর্বের স্মরণীয় লড়াইগুলোতে আর্জেন্টিনার সাফল্য বেশি আলোচিত।
১৯৬২ সালের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায়। এরপর ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালেও ১-০ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে ইংলিশরা। সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিনের লাল কার্ড দুই দেশের ফুটবল সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
তবে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ম্যাচ। দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। এরপর ১৯৯৮ সালে রাউন্ড অব ১৬-তে ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে জিতে আবারও ইংল্যান্ডকে বিদায় করে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড আজও আলোচনায় রয়েছে।
অবশেষে ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দীর্ঘদিনের হতাশা কিছুটা ঘোচায় ইংল্যান্ড।
তবে ইতিহাসের পরিসংখ্যান সব সময় বর্তমানের ফল নির্ধারণ করে না। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। ইংল্যান্ড নকআউট পর্বে ধারাবাহিক জয় তুলে সেমিফাইনালে এসেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কাগজে-কলমে ইতিহাস ইংল্যান্ডের পক্ষে থাকলেও বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের ভারসাম্য এবং বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতার বিচারে দুই দলই প্রায় সমান শক্তিশালী। ফলে সেমিফাইনালের এই লড়াইয়ে নির্দিষ্ট কোনো দলকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রাখা কঠিন।
একটি বিষয় নিশ্চিত—১৬ জুলাইয়ের এই সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়; এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় ইংল্যান্ড–আর্জেন্টিনা অধ্যায় রচনার মঞ্চও হতে যাচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীরা প্রত্যাশা করছেন, দুই দলের তারকাদের উপস্থিতিতে ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা লড়াই।
আপনার মতামত লিখুন