সোনারগাঁয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক গৃহবধূকে (৩৩) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের হুমকি ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার। বর্তমানে তাঁরা নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের টিনশেডের ভাড়াবাড়িতে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওই নারী। গত ১০ জুন বুধবার বিকেলে রাজমিস্ত্রি স্বামী কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকলে স্থানীয় যুবদল নেতা ও তাঁর সহযোগীরা ঘরে ঢুকে পড়েন। দুই শিশু সন্তানের সামনে মুখ চেপে ধরে ওই নারীকে রান্নাঘরে নিয়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে। পরে শুক্রবার বিকেলে ওই নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার ও অভিযান
মামলার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জামপুর ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) ও তাঁর সহযোগী শাহিন মিয়া (৩৮)। এই ঘটনায় অজ্ঞাত আরও একজন পলাতক রয়েছে, তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
শনিবার বিকেলে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে বাড়ি ফেরার সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী দম্পতি। ওই নারীর স্বামী বলেন, “ঘটনার পর থেকে এলাকার প্রভাবশালীরা মীমাংসার চাপ দিয়েছিল। মামলা করায় এখন ভয়ে আছি। উল্টো পুলিশের যারা আমাদের হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তাঁরাও এই মুহূর্তে এলাকায় না গিয়ে বাপের বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি চলে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও আমরা কিছু জানাইনি, তাই কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। বাধ্য হয়ে হাসপাতালেই আশ্রয় নিয়েছি।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ভুক্তভোগীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই, তাদের গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সরাসরি আমাদের আতঙ্কের কথা জানাননি।”
কোনো পুলিশ সদস্য ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে বা তাঁদের কথাবার্তায় ভুক্তভোগীরা আতঙ্কিত হয়ে থাকলে, তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।
আপনার মতামত লিখুন