আগামীকাল কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামীকাল শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী কক্সবাজার সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় সাজ সাজ রব ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা এবং জনসভাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
সফরের মূল কর্মসূচিসমূহ:
পাতলী খাল পুনঃখনন: শনিবার সকালে কক্সবাজারে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে চকরিয়া উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে এই খালের খননকাজ শুরু করেছিলেন। এলাকাবাসীর দাবি, খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে দুই লক্ষাধিক মানুষ জলাবদ্ধতা ও সেচ সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে সেখানে ‘জিয়া স্মৃতি পার্ক’ নির্মাণের দাবিও রয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: এরপর প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গিয়ে প্রতীকী বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী একযোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার এই মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শহীদ পরিবারে সাক্ষাৎ: সফরের অন্যতম সংবেদনশীল অংশ হিসেবে তিনি পেকুয়া উপজেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন। পরে তিনি শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেবেন।
নতুন প্রশাসনিক ইউনিটের উদ্বোধন: একই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা, মাতামুহুরী উপজেলা এবং মাতামুহুরী থানার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয়রা এখন আরও দ্রুত ও সহজে সরকারি সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশাল জনসভা: বিকেলে চকরিয়া উপজেলা বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য অঞ্চলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উন্নয়ন পরিদর্শন: জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও উপকূলীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন তিনি।
সুধী সমাবেশ: সন্ধ্যায় জেলার বিশিষ্ট নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জেলার বিনিয়োগ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করবেন তিনি।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করছেন, এই সফরের মাধ্যমে কক্সবাজারের কৃষি, পর্যটন ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার হবে এবং জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন চাহিদা পূরণে ইতিবাচক সাড়া মিলবে।
আপনার মতামত লিখুন