ঢাকা   সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা   সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

রং বদলে আওয়ামী দোসর আলী হোসেন এখন বিএনপি নেতাদের দরবারে


বাংলার শিরোনাম ডেস্ক
বাংলার শিরোনাম ডেস্ক
| ফটো কার্ড

রং বদলে আওয়ামী দোসর আলী হোসেন এখন বিএনপি নেতাদের দরবারে
আওয়ামী দোসর আলী হোসেন এখন বিএনপি নেতাদের দরবারে

বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা আলী হোসেন এখন পুরোদস্তুর বিএনপি নেতা বনে গেছেন। ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৎকালীন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করে ছিলেন।

দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সে সময় সকল নির্বাচন স্থগিত করা হলে স্বপ্ন ভঙ হয় আলী হোসেন এর। এরপর থেকে মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্নে বিভোর আলী হোসেন রঙ বদলে বিএনপি নেতা বনে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

একে একে সম্পর্ক গড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম, তাঁর ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খান সহ বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বিভিন্ন সময় তাদের সাথে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে এলাকায় নিজেকে প্রভাবশালী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। 

ইতোমধ্যে বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নের দাসেরগাঁও এলাকার ইট ভাটার জন্য মাটি কাটা সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য হয়ে উঠেছেন এই আলী হোসেন। তার সিন্ডিকেটে রয়েছে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন। যিনি এই সিন্ডিকেটকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করে থাকেন। সেই সাথে সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতারা হলেন মুছাপুর ইউনিয়নের মেম্বার সোহেল আহম্মেদ, লাভলী আক্তার, জাতীয়পার্টি নেতা ইকবাল সহ আরো অনেকে। এরমধ্যে ইকবাল হোসেন সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী মামলায় জেল খেটে জামিনে বের হয়েছেন। বেষম্য বিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সোহেল মেম্বার, আলী হোসেনের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী একাধিক মামলা থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি এসব বিএনপি নেতাদের সখ্যতা গড়ে তোলার কারণে। 

মাটি কাটার এই সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে দাসেরগাও ফুলকুন, মালিবাগ এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে বড় বড় খালে পরিণত করেছে। কারো কাছ থেকে নাম মাত্র মূল্যে জমির মাটি কিনেছেন, কারো জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নিয়েছেন। বিগত বছর গুলোতে যেসব জমি থেকে মাটি কাটা হয়েছে সেসব জমি গুলো জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করে পুনরায় মাটি কাটার জন্য বসানো হয়েছে শক্তিশালী ৫টি পানি সেচার পাপ্প। জ্বালানী সংকটের মধ্যেও গত দুই মাস যাবত এসব পাম্পগুলো চালানো হচ্ছে অবৈধ বিদুৎ লাইন ব্যবহার করে। আর এসব অপকর্মে ব্যবহার করছে বিএনপির নাম।

স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ এই আলী হোসেন গংরা আওয়ামী লীগের আমলেও দলের সুবিধা নিয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের পর এলাকাবাসী তার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এখন তারা রঙ বদল করে বিএনপি হয়ে ফিরে এসেছে। তাদেরকে বিএনপির ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে আলী হোসেন গংদের মত আওয়ামী দোসরদের বিএনপি নেতারা যেভাবে মূল্যায়ন করছেন এতে করে স্থানীয় ভাবে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬


রং বদলে আওয়ামী দোসর আলী হোসেন এখন বিএনপি নেতাদের দরবারে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা আলী হোসেন এখন পুরোদস্তুর বিএনপি নেতা বনে গেছেন। ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৎকালীন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করে ছিলেন।

দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সে সময় সকল নির্বাচন স্থগিত করা হলে স্বপ্ন ভঙ হয় আলী হোসেন এর। এরপর থেকে মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্নে বিভোর আলী হোসেন রঙ বদলে বিএনপি নেতা বনে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

একে একে সম্পর্ক গড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম, তাঁর ছেলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খান সহ বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বিভিন্ন সময় তাদের সাথে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে এলাকায় নিজেকে প্রভাবশালী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। 

ইতোমধ্যে বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নের দাসেরগাঁও এলাকার ইট ভাটার জন্য মাটি কাটা সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য হয়ে উঠেছেন এই আলী হোসেন। তার সিন্ডিকেটে রয়েছে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর হোসেন। যিনি এই সিন্ডিকেটকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করে থাকেন। সেই সাথে সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতারা হলেন মুছাপুর ইউনিয়নের মেম্বার সোহেল আহম্মেদ, লাভলী আক্তার, জাতীয়পার্টি নেতা ইকবাল সহ আরো অনেকে। এরমধ্যে ইকবাল হোসেন সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী মামলায় জেল খেটে জামিনে বের হয়েছেন। বেষম্য বিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সোহেল মেম্বার, আলী হোসেনের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী একাধিক মামলা থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি এসব বিএনপি নেতাদের সখ্যতা গড়ে তোলার কারণে। 

মাটি কাটার এই সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে দাসেরগাও ফুলকুন, মালিবাগ এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে বড় বড় খালে পরিণত করেছে। কারো কাছ থেকে নাম মাত্র মূল্যে জমির মাটি কিনেছেন, কারো জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নিয়েছেন। বিগত বছর গুলোতে যেসব জমি থেকে মাটি কাটা হয়েছে সেসব জমি গুলো জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করে পুনরায় মাটি কাটার জন্য বসানো হয়েছে শক্তিশালী ৫টি পানি সেচার পাপ্প। জ্বালানী সংকটের মধ্যেও গত দুই মাস যাবত এসব পাম্পগুলো চালানো হচ্ছে অবৈধ বিদুৎ লাইন ব্যবহার করে। আর এসব অপকর্মে ব্যবহার করছে বিএনপির নাম।

স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ এই আলী হোসেন গংরা আওয়ামী লীগের আমলেও দলের সুবিধা নিয়েছেন। সরকার পরিবর্তনের পর এলাকাবাসী তার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এখন তারা রঙ বদল করে বিএনপি হয়ে ফিরে এসেছে। তাদেরকে বিএনপির ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে আলী হোসেন গংদের মত আওয়ামী দোসরদের বিএনপি নেতারা যেভাবে মূল্যায়ন করছেন এতে করে স্থানীয় ভাবে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ আল মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত