ধর্ষণের ঘটনায় 'সরা': বন্দরের ভুয়া কাজী হামিদুল্লাহ হুঙ্কার
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে 'সরা' পড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ভূয়া কাজী এবং স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের যোগসাজশে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার শিকার ১৪ বছরের ওই কিশোরী বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বুরুন্দী এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত যুবকের নাম রামিন, তিনি একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে বুরুন্দী এলাকার রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত রামিন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিচার ও ন্যায়বিচারের আশায় নির্যাতিতার বাবা প্রথমে বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত রামিনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন তিনি।
থানায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটি ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা প্রভাব খাটিয়ে গত ১৯ অক্টোবর রাতে বুরুন্দী এলাকায় নির্যাতিতা কিশোরী ও অভিযুক্ত রামিনের মধ্যে 'সরা' পড়িয়ে তথাকথিত একটি মীমাংসা করে দেন।
ঘটনাটিতে সরা পড়ানোর মূল কাজটি সম্পাদন করেন কাজী হামিদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজী হামিদুল্লাহর নিকাহ রেজিস্ট্রেশনের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা সরকারি লাইসেন্স নেই। তিনি মূলত অন্যের রেজিস্ট্রি বই এনে ভুয়া কাবিননামায় বিয়ে পড়িয়ে থাকেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে এলাকায় বেআইনিভাবে একাধিক বাল্যবিবাহ করানোর অভিযোগ রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দিতে তাকে দিয়ে সরা পড়ানো হয়।
এ বিষয়ে কাজী হামিদুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, "সরা পড়িয়েছি, এটি আমার ব্যাপার।"
একজন নাবালিকা ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে এভাবে ভূয়া কাজী ও প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এলাকার সচেতন নাগরিকেরা মূল অভিযুক্ত রামিনসহ এ ধরনের বেআইনি 'সরা' ও বাল্যবিবাহ সম্পন্নকারী ভুয়া কাজী হামিদুল্লাহর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন