সিদ্ধিরগঞ্জে ডাকাত সাহেব আলী হত্যাসন্ত্রাসী সাজ্জাদকে ঘিরে নানা অভিযোগ, দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি এলাকাবাসীর
সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনিতে সাহেব আলী হত্যা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হত্যাকা-ের নেপথ্যে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে শাহাবুল হোসেনের ছেলে সাজ্জাদকে ঘিরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সরকারি জমি দখল, অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা পরিচালনা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ের একাধিক অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, সাহেব আলীর সঙ্গে সাজ্জাদের বিরোধের জেরেই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সাহেব আলী ও সাজ্জাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটি ওয়াপদা কলোনিতে সাহেব আলীকে গুলি ও ধারালো নয়, বরং ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কল্পনা বেগম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে সাজ্জাদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়। তবে মামলার সর্বশেষ অবস্থা, এজাহারে কার কার নাম রয়েছে এবং হত্যাকা-ে প্রত্যেকের ভূমিকা কী তা সংশ্লিষ্ট থানার নথি ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগঃ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা বলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতেন সাজ্জাদ। তাদের দাবি, বিএনপির নাম ব্যবহার করে সরকারি জমি দখল, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অনুমোদনহীন ড্রেজার বসিয়ে বালুর ব্যবসা এবং বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে চাপে রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিয়ে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাসিকের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “সাজ্জাদের একটি দল ছিল বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। উঠতি বয়সী ছেলেদের নিয়ে কিশোর গ্যাং গড়ে তোলা এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তার সঙ্গে বিরোধে জড়ালে নানা ধরনের হয়রানির আশঙ্কায় অনেকে মুখ খুলতে চান না।৫ আগস্টের পর আরও বেপরোয়া হওয়ার অভিযোগঃ ওয়াপদা কলোনি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আক্কাসের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর সাজ্জাদ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার দাবি, এলাকায় জমি দখল, লুটপাট, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকা-ে সাজ্জাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে।আব্দুল আক্কাস বলেন, “এলাকায় তার প্রভাব ও আধিপত্য নিয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করত। সাহেব আলী হত্যাকা-েও সাজ্জাদের ভূমিকা রয়েছে বলে আমরা সন্দেহ করছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।তিনি আরও দাবি করেন, অর্থের বিনিময়ে মামলার এজাহার থেকে সাজ্জাদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয়রাঃ করিমন বিবি নামে স্থানীয় এক নারী বলেন, “সাজ্জাদের লোকজনের ভয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি। সাহেব আলী হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। তা না হলে এলাকায় আরও সংঘাত ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রশাসনের বক্তব্যঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, সাহেব আলী হত্যা মামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।সাহেব আলী হত্যাকা-ের পেছনের প্রকৃত কারণ, কারা এতে জড়িত এবং স্থানীয়দের তোলা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন