ঢাকা   শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

সিদ্ধিরগঞ্জের বিহারী ক্যাম্প রমজান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে: কোটি টাকার মাদক ব্যবসা



সিদ্ধিরগঞ্জের বিহারী ক্যাম্প রমজান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে: কোটি টাকার মাদক ব্যবসা

সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী বিহারী কলোনিকে ঘিরে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। দেড় ডজন মামলার আসামি দুর্ধষ মাদক সম্রাট রমজান ও তার বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না, আর প্রতিবাদ করলেই জুটছে মিথ্যা মামলা, পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার ও প্রাণনাশের হুমকি। 


আর রমজান ও তার বাহিনীকে নির্বিঘে মাদক ব্যবসা পরিচালনায় শেল্টার ও থানা পুলিশকে ম্যানেজের দায়িত্ব পালন করছেন কথিত বিএনপি নেতা চাঁদাবাজ ওয়াসিম আসলাম ওরফে চেচাক আসলাম ও রমজানের স্ত্রী রোজী আকতার। থানা-পুলিশও নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানাচ্ছে সাংবাদিকদের। এদের প্রায় সবাই কিশোর-তরুণ। উদ্ধার হচ্ছে সামান্য কিছু ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা। খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও রমজানের মতো ডিলারেরা রয়ে যাচ্ছে সব নিরাপদে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে ডিলারদের গ্রেফতার না করে খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তারা বলছেন, গ্রেপ্তারদের সবাই খুচরা বিক্রেতা।


 প্রকাশ্যে ঘুরলেও বড় কোনো মাদক কারবারি, ডিলার বা গডফাদারদের কেন আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বিহারী ক্যাম্পের এরিয়াজুড়ে মাদকের বেচাকেনায় যারা সরব থাকে এদের মধ্যে গফুর ভান্ডারির ছেলে মাদক সম্রাট রমজান ক্যাম্প এরিয়ার বস হিসেবে পরিচিত মুখ। প্রতিদিন ফজরের সময় বিহারী ক্যাম্পে এসে মাদক সাপ্লাই দেন রমজান। ক্যাম্পজুড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের শীর্ষে এ রমজান বাহিনী। এছাড়াও এই শীর্ষ ডিলারের ছত্র-ছায়ায় রয়েছে আরেক নয়া ডিলার চুন্নির ছেলে রাকিব। মিন্টুর বাড়ির সামনে শেড ঘরে ইয়াবা, গাঁজা ও হিরোইন বিক্রি করে মাদক সম্রাট রমজানের বন্ধু রাকিব। এছাড়াও বিহারী ক্যাম্পের পানির ট্যাংকি এলাকায় গাঁজা ও হিরোইনের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন রাকিব। রমজানের সহযোগী চেচাক আসলাম ওরফে ওয়াসিম আসলামের ৩ ছেলে রাব্বি, পাবেল ও ভিকি ৩ নং রাস্তার মোড় ও আস্তানা মসজিদ এলাকায় বিক্রি করে ইয়াবা ও হিরোইন। চেয়ারম্যান লিয়াকতের বাড়ির সামনে ইয়াবা বিক্রির নিয়ন্ত্রণ করে রমজানের আরেক সহযোগী শান্ত। দারোয়ান কোয়ার্টারের সামনে ইয়াবা ও হিরোইন বিক্রির নিয়ন্ত্রণ গুল্লুর ছেলে খুরশিদ ও রমজানির। পিচ্চির ছেলে রিদয় ৩ রাস্তার মোড়ে ও ৩নং বালুর মাঠে ইয়াবা ও হিরোইন, সারোয়ারের চা দোকানের সামনে আলাও বিক্রি করে গাঁজা ও ইয়াবা, হায়দার আলী বুদ্দু, তার স্ত্রী সেলিনা ও ছেলে হাসান পকেট গেট এলাকায় ভাতের হোটেলের আড়ালে রমজানের ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে।


 মাহবুব ড্রাইভারের ছেলে মাসুদ, মাদক ব্যবসায়ী রাজু সারোয়ার ও মোক্তারের চা দোকানের সামনে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজর নামাজের আগেই সকল সহযোগীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেন রমজান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন একটি টিম। যাদের কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পে প্রবেশের আগেই রমজানের কাছে যেনো খবর পৌঁছে যায়। এছাড়া তার বাহিনীর কাউকে যেনো গ্রেফতার করা না হয় এজন্য পুলিশকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব কথিত বিএনপি নেতা চেচাক আসলাম ও তার স্ত্রী রোজী আকতারের ওপর বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারি তথা মাদকের ডিলার বা পাইকারি বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় বড় কোনো কারবারি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় মাদকের কারবার বন্ধ হচ্ছে না। অভিযানের কিছু সময় পরই আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদক কারবার। এ কারণে মূল নেটওয়ার্ক ভাঙার কার্যকারিতার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসন চাইলে মাদকের মূল নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব। তবে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে সেই চক্রের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাদক সম্রাট রমজান কেনো গ্রেফতার হচ্ছে না সে বিষয়টি আমরা দেখছি। তাঁর হয়ে যারা পুলিশ কে ম্যানেজ করছে সে বিষয়েও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তথ্য প্রমাণ মিললে তাঁকেও গ্রেফতার করা হবে।


 সিদ্ধিরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছি। নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের মূল সরবরাহকারী ও সংঘবদ্ধ চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি। এছাড়া শহরের চাষাঢ়া রেলস্টেশনে জেলা পুলিশের টানা অভিযানের পরেও বন্ধ হয়নি চিহ্নিত এই মাদকের হাট। দিনে দুপুরে শহরে অন্যতম মাদক স্পট চাষাড়া রেলস্টেশন এলাকায় এখনো প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের রমরমা কারবার। চিহ্নিত মাদক সম্রাট সন্ত্রাসী রাজ্জাক ও তার বাহিনী গ্রেপ্তার হলেও প্রায় চব্বিশ ঘন্টাই স্টেশন এলাকাজুড়ে ইয়াবা, হেরোইন বেচাবিক্রি করছে মাদক কারবারীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়াল থেকে চিহ্নি এই স্পটটির নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে একটি সিন্ডিকেট। যেখানে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করছে মন্টু নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। যার নিয়ন্ত্রণে পুরো স্টেশন এলাকার মাদক ব্যবসা। মাদক ব্যবসা করার জন্য পুরো স্টেশন এলাকা জুড়ে তাদের রয়েছে বিশাল এক বাহিনী । যদি পুলিশ বা প্রশাসনের কোন সংস্থা তাদের ধরতে আসে তার আগেই খবর পেয়ে সরে যান তারা। চাষাড়া রেলস্টশন এলাকায় বেশির ভাগ মাদক নিতে আসে ফতুল্লা, পাগলা, গেন্ডারিয়া, ঢাকা কমলাপুর থেকেই বেশি মাদকসেবী লোক আসে চাষাড়ার এ মাদক স্পটে। যেখানে নিত্যদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। এমনকি  মাদক এর ওই টাকার ভাগ নেন গুটিকয়েক পুলিশসহ কথিত সংবাদকর্মীরা; এমন গুরুত্বর অভিযোগও পেয়েছে খবর নারায়ণগঞ্জ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে যার বেশির ভাগ কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী তারা ট্রেন থেকে নামেন এই মাদকের হাটে। এতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং ট্রেনের যাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে বিরক্ত হন মাদকসেবী অথবা মাদক বিক্রেতাদের উৎপাতে; এমনটাই অভিযোগ সচেতন নাগরিকদের। তাদের দাবি, অনতিবিলম্বে ঠিক কারা আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে মাদকের এই ভয়াল স্পট তা খোঁজ নিয়ে দেখুক নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অনতিবিলম্বে এদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোড়ালো দাবি জানিয়েছে তারা। 


এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছি। প্রতিনিয়ত মাদক সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকাতেও ধারাবাহিক অভিযান চলমান রয়েছে। তারপরেও যদি সেখানে কেউ মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে তাহলে শীঘ্রই এদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


সিদ্ধিরগঞ্জের বিহারী ক্যাম্প রমজান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে: কোটি টাকার মাদক ব্যবসা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী বিহারী কলোনিকে ঘিরে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। দেড় ডজন মামলার আসামি দুর্ধষ মাদক সম্রাট রমজান ও তার বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না, আর প্রতিবাদ করলেই জুটছে মিথ্যা মামলা, পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার ও প্রাণনাশের হুমকি। 


আর রমজান ও তার বাহিনীকে নির্বিঘে মাদক ব্যবসা পরিচালনায় শেল্টার ও থানা পুলিশকে ম্যানেজের দায়িত্ব পালন করছেন কথিত বিএনপি নেতা চাঁদাবাজ ওয়াসিম আসলাম ওরফে চেচাক আসলাম ও রমজানের স্ত্রী রোজী আকতার। থানা-পুলিশও নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানাচ্ছে সাংবাদিকদের। এদের প্রায় সবাই কিশোর-তরুণ। উদ্ধার হচ্ছে সামান্য কিছু ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা। খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হলেও রমজানের মতো ডিলারেরা রয়ে যাচ্ছে সব নিরাপদে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে ডিলারদের গ্রেফতার না করে খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তারা বলছেন, গ্রেপ্তারদের সবাই খুচরা বিক্রেতা।


 প্রকাশ্যে ঘুরলেও বড় কোনো মাদক কারবারি, ডিলার বা গডফাদারদের কেন আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে না এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বিহারী ক্যাম্পের এরিয়াজুড়ে মাদকের বেচাকেনায় যারা সরব থাকে এদের মধ্যে গফুর ভান্ডারির ছেলে মাদক সম্রাট রমজান ক্যাম্প এরিয়ার বস হিসেবে পরিচিত মুখ। প্রতিদিন ফজরের সময় বিহারী ক্যাম্পে এসে মাদক সাপ্লাই দেন রমজান। ক্যাম্পজুড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের শীর্ষে এ রমজান বাহিনী। এছাড়াও এই শীর্ষ ডিলারের ছত্র-ছায়ায় রয়েছে আরেক নয়া ডিলার চুন্নির ছেলে রাকিব। মিন্টুর বাড়ির সামনে শেড ঘরে ইয়াবা, গাঁজা ও হিরোইন বিক্রি করে মাদক সম্রাট রমজানের বন্ধু রাকিব। এছাড়াও বিহারী ক্যাম্পের পানির ট্যাংকি এলাকায় গাঁজা ও হিরোইনের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন রাকিব। রমজানের সহযোগী চেচাক আসলাম ওরফে ওয়াসিম আসলামের ৩ ছেলে রাব্বি, পাবেল ও ভিকি ৩ নং রাস্তার মোড় ও আস্তানা মসজিদ এলাকায় বিক্রি করে ইয়াবা ও হিরোইন। চেয়ারম্যান লিয়াকতের বাড়ির সামনে ইয়াবা বিক্রির নিয়ন্ত্রণ করে রমজানের আরেক সহযোগী শান্ত। দারোয়ান কোয়ার্টারের সামনে ইয়াবা ও হিরোইন বিক্রির নিয়ন্ত্রণ গুল্লুর ছেলে খুরশিদ ও রমজানির। পিচ্চির ছেলে রিদয় ৩ রাস্তার মোড়ে ও ৩নং বালুর মাঠে ইয়াবা ও হিরোইন, সারোয়ারের চা দোকানের সামনে আলাও বিক্রি করে গাঁজা ও ইয়াবা, হায়দার আলী বুদ্দু, তার স্ত্রী সেলিনা ও ছেলে হাসান পকেট গেট এলাকায় ভাতের হোটেলের আড়ালে রমজানের ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে।


 মাহবুব ড্রাইভারের ছেলে মাসুদ, মাদক ব্যবসায়ী রাজু সারোয়ার ও মোক্তারের চা দোকানের সামনে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজর নামাজের আগেই সকল সহযোগীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেন রমজান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন একটি টিম। যাদের কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পে প্রবেশের আগেই রমজানের কাছে যেনো খবর পৌঁছে যায়। এছাড়া তার বাহিনীর কাউকে যেনো গ্রেফতার করা না হয় এজন্য পুলিশকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব কথিত বিএনপি নেতা চেচাক আসলাম ও তার স্ত্রী রোজী আকতারের ওপর বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারি তথা মাদকের ডিলার বা পাইকারি বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় বড় কোনো কারবারি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় মাদকের কারবার বন্ধ হচ্ছে না। অভিযানের কিছু সময় পরই আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদক কারবার। এ কারণে মূল নেটওয়ার্ক ভাঙার কার্যকারিতার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা মনে করেন, প্রশাসন চাইলে মাদকের মূল নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব। তবে কোনো এক অদৃশ্য শক্তির কারণে সেই চক্রের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাদক সম্রাট রমজান কেনো গ্রেফতার হচ্ছে না সে বিষয়টি আমরা দেখছি। তাঁর হয়ে যারা পুলিশ কে ম্যানেজ করছে সে বিষয়েও খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তথ্য প্রমাণ মিললে তাঁকেও গ্রেফতার করা হবে।


 সিদ্ধিরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছি। নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের মূল সরবরাহকারী ও সংঘবদ্ধ চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি। এছাড়া শহরের চাষাঢ়া রেলস্টেশনে জেলা পুলিশের টানা অভিযানের পরেও বন্ধ হয়নি চিহ্নিত এই মাদকের হাট। দিনে দুপুরে শহরে অন্যতম মাদক স্পট চাষাড়া রেলস্টেশন এলাকায় এখনো প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের রমরমা কারবার। চিহ্নিত মাদক সম্রাট সন্ত্রাসী রাজ্জাক ও তার বাহিনী গ্রেপ্তার হলেও প্রায় চব্বিশ ঘন্টাই স্টেশন এলাকাজুড়ে ইয়াবা, হেরোইন বেচাবিক্রি করছে মাদক কারবারীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়াল থেকে চিহ্নি এই স্পটটির নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে একটি সিন্ডিকেট। যেখানে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে কাজ করছে মন্টু নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। যার নিয়ন্ত্রণে পুরো স্টেশন এলাকার মাদক ব্যবসা। মাদক ব্যবসা করার জন্য পুরো স্টেশন এলাকা জুড়ে তাদের রয়েছে বিশাল এক বাহিনী । যদি পুলিশ বা প্রশাসনের কোন সংস্থা তাদের ধরতে আসে তার আগেই খবর পেয়ে সরে যান তারা। চাষাড়া রেলস্টশন এলাকায় বেশির ভাগ মাদক নিতে আসে ফতুল্লা, পাগলা, গেন্ডারিয়া, ঢাকা কমলাপুর থেকেই বেশি মাদকসেবী লোক আসে চাষাড়ার এ মাদক স্পটে। যেখানে নিত্যদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। এমনকি  মাদক এর ওই টাকার ভাগ নেন গুটিকয়েক পুলিশসহ কথিত সংবাদকর্মীরা; এমন গুরুত্বর অভিযোগও পেয়েছে খবর নারায়ণগঞ্জ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে যার বেশির ভাগ কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী তারা ট্রেন থেকে নামেন এই মাদকের হাটে। এতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং ট্রেনের যাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে বিরক্ত হন মাদকসেবী অথবা মাদক বিক্রেতাদের উৎপাতে; এমনটাই অভিযোগ সচেতন নাগরিকদের। তাদের দাবি, অনতিবিলম্বে ঠিক কারা আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে মাদকের এই ভয়াল স্পট তা খোঁজ নিয়ে দেখুক নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অনতিবিলম্বে এদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোড়ালো দাবি জানিয়েছে তারা। 


এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছি। প্রতিনিয়ত মাদক সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকাতেও ধারাবাহিক অভিযান চলমান রয়েছে। তারপরেও যদি সেখানে কেউ মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে তাহলে শীঘ্রই এদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত