মটরসাইকেল চালক থেকে রাতারাতি সাংবাদিক! মঠবাড়িয়ায় শাহজাহানের চাঁদাবাজির চালচিত্র
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদে চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোঃ শাহজাহান (৩৮) উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আঃ হামেদের ছেলে। তিনি নিজেকে ‘দৈনিক আজকাল’ পত্রিকার মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহজাহান পূর্বে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালালেও কিছুদিন ধরে সাংবাদিকতার আড়ালে অপতৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি বিভিন্ন দফতরে গিয়ে যাতায়াত ও মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচের নামে অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখানো হয়। এছাড়া স্থানীয় স্কুল-কলেজে গিয়ে শিক্ষকদের হাজিরা ও সময়সূচি নিয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ, খবরদারি এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণেরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন খাত থেকে তিনি নিয়মিত মাসোহারা তোলেন বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।সর্বশেষ গত ৭ মার্চ গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরিষদের ট্যাক্স আদায়কারী মোঃ সোহেল রানার কাছে গিয়ে শাহজাহান মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। সোহেল রানা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহজাহান ক্ষিপ্ত হয়ে তার কাছে পূর্বের ট্যাক্স আদায়ের হিসাব চান।ভুক্তভোগী ট্যাক্স আদায়কারী মোঃ সোহেল রানা জানান, "আমি ২০২০, ২০২২ ও ২০২৪ সালের ট্যাক্স আদায়ের যাবতীয় হিসাব তৎকালীন সচিব, চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে যথাযথভাবে বুঝিয়ে দিয়েছি। একজন সংবাদকর্মী এভাবে ব্যক্তিগতভাবে সরকারি হিসাব তলব করতে পারেন না। আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং টাকা না দিলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি দেন।"সোহেল রানা আরও বলেন, "আমি এখানে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। এই কথিত সাংবাদিকের ক্রমাগত হুমকি ও মানসিক নির্যাতনে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও সচেতন মহলের কাছে এই হেনস্তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।"এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ শাহজাহানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।এদিকে সাংবাদিকতার নামে এমন অপতৎপরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সংবাদকর্মীরা। তারা মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং এই কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।