ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

ভালো ফলের গণ্ডি পেরিয়ে আদর্শ মানুষ গড়ার আহ্বান

শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মধ্যেই নিহিত—এমন বার্তা উঠে এসেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমাবেশে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি শিষ্টাচার, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ চর্চায় অভ্যস্ত করে তুলতে পরিবার ও বিদ্যালয়ের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা।সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় আসে। সন্তানদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও পড়াশোনার প্রতি অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল নজরদারি রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, অর্জন ও সামগ্রিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস, ময়মনসিংহ মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মালেকা বিলকিস, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শারফুল ইসলাম এবং পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফছর উদ্দিন আহম্মদ মানিক শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।বক্তারা বলেন, সন্তানকে শুধু ভালো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত করলেই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না। তার আচরণ, মানসিকতা, চলাফেরা ও মূল্যবোধের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে কী শিখছে, নিয়মিত ক্লাসে যাচ্ছে কি না এবং পড়াশোনায় কতটা মনোযোগী—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজ রাখা জরুরি।মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, পড়াশোনার কথা বলে অনেক শিক্ষার্থী রাত জেগে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এতে পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাপনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সন্তানদের হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার পরামর্শও দেন তাঁরা।শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা আরও বলেন, বড়দের প্রতি সম্মান, ছোটদের প্রতি স্নেহ এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু হওয়া প্রয়োজন। সন্তানদের মধ্যে ভালো আচরণ, শিষ্টাচার ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে অভিভাবকদের নিজেদেরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সিদ্দিক হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম (ভিপি), পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুজ্জামান রিপন, যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান খান সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটন এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জ্বল।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

ভালো ফলের গণ্ডি পেরিয়ে আদর্শ মানুষ গড়ার আহ্বান