ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

রাজনীতি

​সিদ্ধিরগঞ্জে মৎস্যজীবী দল নেতা জামালের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকার এক কথিত মৎস্যজীবী দল নেতার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও সরকারি জায়গা দখল ও গার্মেন্টস সেক্টরে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত জামাল আকন স্থানীয় বাসিন্দা না হয়েও দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে পুরো এলাকা জিম্মি করে রাখার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হুশিয়ারি ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে তাদের কাজ থেকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক কম দামে জুট নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং নাসিক ১নং ওয়ার্ড সিআই খোলা এলাকার কাঠের পুল নাম এলাকায় সরকারি জায়গায় দখল করে ঘর নির্মাণ করেছেন। ​অনুসন্ধানে জানা গেছে , জামাল আকন বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার সোনাখালী এলাকার ইসমাইল আকনের ছেলে। তিনি এখনো সেখানকার নিবন্ধিত ভোটার। বহু বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করলেও সম্প্রতি নিজেকে স্থানীয় থানা মৎস্যজীবী দলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।​স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে জামাল আকন এলাকায় রাতারাতি নিজের বলয় গড়ে তোলেন। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী নেতা পরিচয় দিয়ে তিনি স্থানীয় সিআই খোলা ও আশপাশের এলাকায় সরকারি খালি জায়গায় অবৈধভাবে আধিপত্য বিস্তার করে ঘর নির্মাণ করেন। এছাড়া পোশাক কারখানাগুলোর ঝুট ব্যবসা জোরপূর্বক নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।​নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআই খোলা এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী জানান, জামাল আকন মূলতঃ বরগুনার বাসিন্দা হলেও এখানে বিএনপি ও মৎস্যজীবী দলের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ভাড়াটিয়া হয়েও তিনি এলাকায় যেভাবে দাপট দেখাচ্ছেন, তাতে সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীরা আতঙ্কিত। তার এসব অপকর্মের কারণে স্থানীয় দলের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।​এ বিষয়ে জামাল আকনের মুঠোফোনে জানান, সরকারি জায়গায় সবাই দখল করে ঘর উঠিতেছে আমি একা নন।এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের প্রবীণ নেতা জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি​ জানান, দলের পরিচয়ে কোনো ধরণের দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। জামালের দলীয় পদ-পদবি বা সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই-বাছাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উচ্চপর্যায়ে নেতাকর্মীদের জানানো হবে।​এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, সরকারি জায়গা দখল বা ঝুট ব্যবসা নিয়ে যদি কোন ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে  তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পর্ব-১

​সিদ্ধিরগঞ্জে মৎস্যজীবী দল নেতা জামালের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়