ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

আদালত প্রাঙ্গনে বিএনপি নেতা এটিএম কামালের উপর হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন এড কাজল



আদালত প্রাঙ্গনে বিএনপি নেতা এটিএম কামালের উপর হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন এড কাজল

২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতপাড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে তৎকালীন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের উপর হামলা করেছিলেন আওয়ামীলীগ পন্থী আইনজীবীরা। জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও মহানগর আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট এসএম ওয়াজেদ আলী খোকনের নেতৃত্বে এটিএম কামাল ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ওই হামলায় আনিসুর রহমান দিপুর পরেই দৌড়ে হামলা চালান অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, যিনি বর্তমান সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আওতাধীন ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদেও রয়েছেন জিয়াউল ইসলাম কাজল। মুলত জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নাসিকের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বলয়ে রাজনীতি করতেন কাজল। নারায়ণগঞ্জের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো ও সাংস্কৃতিক জোট সরাসরি মেয়র আইভীর পক্ষে রাজনীতি করেন। তারা রাজনীতি করেন মেয়র আইভীর পক্ষে আওয়ামীলীগের কিন্তু কোনো ঘটনা ঘটলেই তারা এসব সাংস্কৃতিক জোটের নেতাদের সুশীল সমাজের লোক বানানোর চেষ্টা করেন। কাজলের বেলায়ও ভিন্নতা হয়নি। এই আওয়ামীলীগ নেতাকে সুশীল সমাজের লোক বানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিছু গণমাধ্যম ও বামপন্থী কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাসহ মেয়র আইভী অনুগামী সুশীল সমাজের লোকজন।

এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন ওঠেছে যে, জিয়াউল ইসলাম কাজল যখন বিএনপি নেতা এটিএম কামালের উপর হামলা চালিয়েছিলেন তখন কি তিনি সাংস্কৃতিক জোটের নেতা হিসেবে হামলা চালিয়েছিলেন নাকি আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে হামলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন? এটিএম কামালকে বহিস্কার ও পরবর্তীতে দলে ফিরলেও এটিএম কামাল ক্ষমতার চেয়ারে না বসতে পাড়ায় সেই হামলার বিষয়টি সকলেই চুপসে যাচ্ছেন। সেই কাজলের হামলায় তার হাতে এটিএম কামাল সহ বিএনপির নেতাকর্মীরা পিটুনি খেলো সেই কাজলকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী বানানোর চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এই শীর্ষ নেতাকে রক্ষা করতে কয়েকটি সিন্ডিকেট মাঠে নেমেছেন, যারা মেয়র আইভীর দ্বারা সুযোগ সুবিধাভোগকারী।

ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, ২০১৫ সালে একটি গণদাবি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির ব্যানারে এটিএম কামাল তার নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষ হতেই কোর্টপাড়ার কোর্টগেট দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামীলীগের আইনজীবীরা ওই মামলা চালায়। সেদিন জিয়াউল ইসলাম কাজল, আনিসুর রহমান দিপুর পেছনেই সাদা শার্ট ও টাই পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহরহ প্রকাশিত হচ্ছে।

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর বুধবার ভোরে জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগের দিন (১৩ অক্টোবর) গণঅভ্যুত্থানের সময় সিদ্ধিরগঞ্জের রিকশাচালক তুহিন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে পুনঃজামিনের আবেদন করেন আইভী। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পেয়ে ফেরার সময় গাড়িতে ওঠার আগমুহূর্তে আদালত প্রাঙ্গণে আইভী ও তার সমর্থকরা জয় বাংলা স্লোগান দেন। এ সময় আইভী বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


আদালত প্রাঙ্গনে বিএনপি নেতা এটিএম কামালের উপর হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন এড কাজল

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতপাড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে তৎকালীন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের উপর হামলা করেছিলেন আওয়ামীলীগ পন্থী আইনজীবীরা। জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও মহানগর আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট এসএম ওয়াজেদ আলী খোকনের নেতৃত্বে এটিএম কামাল ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ওই হামলায় আনিসুর রহমান দিপুর পরেই দৌড়ে হামলা চালান অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, যিনি বর্তমান সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।


নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আওতাধীন ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদেও রয়েছেন জিয়াউল ইসলাম কাজল। মুলত জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নাসিকের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বলয়ে রাজনীতি করতেন কাজল। নারায়ণগঞ্জের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো ও সাংস্কৃতিক জোট সরাসরি মেয়র আইভীর পক্ষে রাজনীতি করেন। তারা রাজনীতি করেন মেয়র আইভীর পক্ষে আওয়ামীলীগের কিন্তু কোনো ঘটনা ঘটলেই তারা এসব সাংস্কৃতিক জোটের নেতাদের সুশীল সমাজের লোক বানানোর চেষ্টা করেন। কাজলের বেলায়ও ভিন্নতা হয়নি। এই আওয়ামীলীগ নেতাকে সুশীল সমাজের লোক বানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিছু গণমাধ্যম ও বামপন্থী কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাসহ মেয়র আইভী অনুগামী সুশীল সমাজের লোকজন।


এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন ওঠেছে যে, জিয়াউল ইসলাম কাজল যখন বিএনপি নেতা এটিএম কামালের উপর হামলা চালিয়েছিলেন তখন কি তিনি সাংস্কৃতিক জোটের নেতা হিসেবে হামলা চালিয়েছিলেন নাকি আওয়ামীলীগ নেতা হিসেবে হামলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন? এটিএম কামালকে বহিস্কার ও পরবর্তীতে দলে ফিরলেও এটিএম কামাল ক্ষমতার চেয়ারে না বসতে পাড়ায় সেই হামলার বিষয়টি সকলেই চুপসে যাচ্ছেন। সেই কাজলের হামলায় তার হাতে এটিএম কামাল সহ বিএনপির নেতাকর্মীরা পিটুনি খেলো সেই কাজলকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী বানানোর চেষ্টাও করছেন কেউ কেউ। ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এই শীর্ষ নেতাকে রক্ষা করতে কয়েকটি সিন্ডিকেট মাঠে নেমেছেন, যারা মেয়র আইভীর দ্বারা সুযোগ সুবিধাভোগকারী।


ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, ২০১৫ সালে একটি গণদাবি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির ব্যানারে এটিএম কামাল তার নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষ হতেই কোর্টপাড়ার কোর্টগেট দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় আওয়ামীলীগের আইনজীবীরা ওই মামলা চালায়। সেদিন জিয়াউল ইসলাম কাজল, আনিসুর রহমান দিপুর পেছনেই সাদা শার্ট ও টাই পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। যে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অহরহ প্রকাশিত হচ্ছে।


এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর বুধবার ভোরে জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগের দিন (১৩ অক্টোবর) গণঅভ্যুত্থানের সময় সিদ্ধিরগঞ্জের রিকশাচালক তুহিন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা জজ আদালতে পুনঃজামিনের আবেদন করেন আইভী। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পেয়ে ফেরার সময় গাড়িতে ওঠার আগমুহূর্তে আদালত প্রাঙ্গণে আইভী ও তার সমর্থকরা জয় বাংলা স্লোগান দেন। এ সময় আইভী বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত