ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

গুম হওয়া শুভ'র লাশ উদ্ধার, বিএনপি নেতা রানা পলাতক


বাংলার শিরোনাম ডেস্ক
বাংলার শিরোনাম ডেস্ক
| ফটো কার্ড

গুম হওয়া শুভ'র লাশ উদ্ধার, বিএনপি নেতা রানা পলাতক
গুম হওয়া শুভ'র লাশ উদ্ধার, বিএনপি নেতা রানা পলাতক

নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অপহরণের অভিযোগ ওঠা যুবকের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, অপহরণের পরদিনই তার মরদেহ রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হয়। উদ্ধারের সময়কার মরদেহের ছবি দেখে রবিবার সকালে পরিবারের লোকজন তা শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় পুলিশ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানার বহিনীর তিনজনকে গ্রেফতার করলেও রহস্যজনক কারনে প্রধান আসামী রানাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, রবিবার তদন্তের প্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ উদ্ধার হওয়া রূপগঞ্জের অজ্ঞাত মরদেহ ছবি দেখালে পরিবারের লোকজন তা শুভর বলে শনাক্ত করে। মামলাটি এখন অপহরণের পর হত্যা হিসেবে তদন্ত করা হবে।

গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ। সে পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে। অপহরণের পরদিন ৩০ মার্চ সকালে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালনী এলাকা থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, মুখমণ্ডল, বা হাত ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া শরীরের অন্যান্য স্থানেও নীলাফুলা জখম ছিল। হত্যার পূর্বে শুভকে নির্যাতন করছে।

ওসি আরো জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় অজ্ঞাত অবস্থাতেই পুর্বাচল রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। তবে, মরদেহের ময়নাতদন্তের পর এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে।

এদিকে গত ১ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় শুভর অপহরণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রানাকে প্রধান আসামি করে আরও ১০ জনকে অভিযুক্ত করেন শুভর মা মাকসুদা বেগম। সাখাওয়াত ইসলাম রানা ২০০৫ সালে র্যা বের ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রসী মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগ্নে। সেই সময় র্যা ব সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ডেভিড নিহত হয়েছিল।

মামলায় মাকসুদা অভিযোগ করেন, তার বড়ছেলে শুভকে মারধরের পর একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তোলা হয়। ওই ইজিবাইকের পেছনে পেছনে শুভর মোটরসাইকেলটিও চালিয়ে যান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানা। এরপর শুভ কিংবা তার মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় সাখাওয়াত ইসলাম রানার সঙ্গে তর্ক হয় শুভর। এরপর থেকে রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তার মা। মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও শুভর সন্ধান দিতে পারেনি।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


গুম হওয়া শুভ'র লাশ উদ্ধার, বিএনপি নেতা রানা পলাতক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অপহরণের অভিযোগ ওঠা যুবকের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, অপহরণের পরদিনই তার মরদেহ রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হয়। উদ্ধারের সময়কার মরদেহের ছবি দেখে রবিবার সকালে পরিবারের লোকজন তা শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় পুলিশ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানার বহিনীর তিনজনকে গ্রেফতার করলেও রহস্যজনক কারনে প্রধান আসামী রানাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, রবিবার তদন্তের প্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ উদ্ধার হওয়া রূপগঞ্জের অজ্ঞাত মরদেহ ছবি দেখালে পরিবারের লোকজন তা শুভর বলে শনাক্ত করে। মামলাটি এখন অপহরণের পর হত্যা হিসেবে তদন্ত করা হবে।

গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ। সে পূর্ব ইসদাইর রসুলবাগের ঝুট ব্যবসায়ী মো. সোহেলের ছেলে। অপহরণের পরদিন ৩০ মার্চ সকালে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালনী এলাকা থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, মুখমণ্ডল, বা হাত ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া শরীরের অন্যান্য স্থানেও নীলাফুলা জখম ছিল। হত্যার পূর্বে শুভকে নির্যাতন করছে।

ওসি আরো জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় অজ্ঞাত অবস্থাতেই পুর্বাচল রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। তবে, মরদেহের ময়নাতদন্তের পর এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করে।

এদিকে গত ১ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় শুভর অপহরণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রানাকে প্রধান আসামি করে আরও ১০ জনকে অভিযুক্ত করেন শুভর মা মাকসুদা বেগম। সাখাওয়াত ইসলাম রানা ২০০৫ সালে র্যা বের ক্রসফায়ারে নিহত যুবদল নেতা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রসী মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগ্নে। সেই সময় র্যা ব সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ডেভিড নিহত হয়েছিল।

মামলায় মাকসুদা অভিযোগ করেন, তার বড়ছেলে শুভকে মারধরের পর একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তোলা হয়। ওই ইজিবাইকের পেছনে পেছনে শুভর মোটরসাইকেলটিও চালিয়ে যান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানা। এরপর শুভ কিংবা তার মোটরসাইকেলটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় সাখাওয়াত ইসলাম রানার সঙ্গে তর্ক হয় শুভর। এরপর থেকে রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তার মা। মামলার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও শুভর সন্ধান দিতে পারেনি।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ আল মামুন
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত