ঢাকা   শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

লিবিয়ায় জিম্মি প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যু: দেশে ফেরার অপেক্ষায় শোকার্ত স্বজনরা

লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার আড়াই মাস পর নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেন (৪৫) মারা গেছেন বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। গত ২৮ মার্চ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত হওয়ার পর নির্মমভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। এই খবরে নওগাঁর নুরুল্লাবাদ গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।ঘটনার প্রেক্ষাপটনিহত আলমগীর হোসেন উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির তাজুয়ারা এলাকায় কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ আড়াই মাস তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।মুক্তিপণের দাবিতে নির্মম হত্যাআলমগীরের ভাই জিল্লুর রহমান, যিনি নিজেও লিবিয়ায় প্রবাসী, জানান, অপহরণের পর আলমগীরের মুক্তির জন্য সন্ত্রাসীরা ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অন্তত এক মাস আগে সন্ত্রাসীরা তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে।সম্প্রতি লিবিয়া থেকে উদ্ধার হওয়া অন্য জিম্মিদের কাছ থেকে এই মর্মান্তিক খবরটি জানতে পারে পরিবার। উদ্ধারকৃতদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে, নিহত ব্যক্তি আলমগীর হোসেন। জিল্লুর রহমান জানান, ওই আস্তানায় আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে পাঁচজন মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন।পরিবারের আকুতিস্বামীকে হারিয়ে শোকে পাথর স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, "আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবার কথা হয়েছিল, এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। গতকাল রাতে মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি।"নিহতের পরিবার এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা দ্রুত আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।

লিবিয়ায় জিম্মি প্রবাসী আলমগীরের মৃত্যু: দেশে ফেরার অপেক্ষায় শোকার্ত স্বজনরা