ঢাকা   বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের প্রবেশগেটে নতুন তালা, দুই পক্ষকে চাবি হস্তান্তর



লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের প্রবেশগেটে নতুন তালা, দুই পক্ষকে চাবি হস্তান্তর

বিজন কান্তি সরকারের হস্তক্ষেপে জমি বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ, ২৬ অক্টোবর সাখাওয়াতের নেতৃত্বে বৈঠক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের হস্তক্ষেপে মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় মন্দিরের প্রবেশগেটে নতুন তালা লাগিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের হাতে চাবি হস্তান্তর করা হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে মন্দিরের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করার অনুরোধ জানানো হয়।

পরে সাখাওয়াত হোসেন খান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, মন্দিরের প্রবেশপথ বন্ধ করে ভক্তদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া যাবে না। ভক্তরা যেন নির্বিঘ্নে মন্দিরে প্রবেশ করে পূজা-অর্চনা করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

এ সময় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ধর্মীয় উৎসবের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধ প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন খান সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করে জানান, মন্দিরের জমি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আগামী ২৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করা হবে। এ সময় দুর্গাপ্রতিমার পরিবর্তে বিকল্প প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপূজা অব্যাহত রাখার জন্যও মন্দির কমিটিকে অনুরোধ জানান তিনি।

মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে যাতে কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রবেশগেটে নতুন তালা লাগিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের হাতে চাবি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই পক্ষকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থান বজায় রেখে নিজ নিজ অধিকার ভোগ করার আহ্বান জানান প্রশাসক। পরে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত আবেদন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শঙ্কর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির জেলা শাখার সভাপতি টনি মল্লিক, স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন লেকু, যুবদল নেতা সাগর প্রধান, লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে ধর্মীয় কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জমি নিয়ে বিরোধ

এর আগে মঙ্গলবার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান না হওয়ায় এবারের দুর্গোৎসবে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্দির কমিটির নেতারা। খবর পেয়ে বিকেলে মন্দির পরিদর্শন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।

এ সময় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ইউএনওকে জানান, মন্দিরের জমি অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদে তাঁরা প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন তাঁদের আগামী ২৬ অক্টোবর বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা জানান।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলসের শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। দীর্ঘদিন লোকসানের পর ২০০০ সালে সরকার কারখানাটির মালিকানা ৫১০ জন শ্রমিক ও কর্মচারীর মধ্যে হস্তান্তর করে। পরে ২০১২ সালে নিট কনসার্ন গ্রুপ বিনিয়োগকারী হিসেবে কারখানাটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হয়।

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নিট কনসার্ন গ্রুপ শুরু থেকেই মন্দির, পুকুর ও মাঠের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নিবন্ধিত এই মন্দিরের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ম‌ন্দির ক‌মি‌টির সভাপ‌তি মিন্টু চন্দ্র দাস ব‌লেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য আগামী ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আলোচনা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে মন্দিরের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হবে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত হবে এই প্রত‌্যাশা ক‌রি।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের প্রবেশগেটে নতুন তালা, দুই পক্ষকে চাবি হস্তান্তর

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিজন কান্তি সরকারের হস্তক্ষেপে জমি বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ, ২৬ অক্টোবর সাখাওয়াতের নেতৃত্বে বৈঠক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের হস্তক্ষেপে মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় মন্দিরের প্রবেশগেটে নতুন তালা লাগিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের হাতে চাবি হস্তান্তর করা হয়।


বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে মন্দিরের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারকে অবহিত করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করার অনুরোধ জানানো হয়।


পরে সাখাওয়াত হোসেন খান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, মন্দিরের প্রবেশপথ বন্ধ করে ভক্তদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বাধা দেওয়া যাবে না। ভক্তরা যেন নির্বিঘ্নে মন্দিরে প্রবেশ করে পূজা-অর্চনা করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।


এ সময় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে ধর্মীয় উৎসবের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।


মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধ প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন খান সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করে জানান, মন্দিরের জমি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আগামী ২৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করা হবে। এ সময় দুর্গাপ্রতিমার পরিবর্তে বিকল্প প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপূজা অব্যাহত রাখার জন্যও মন্দির কমিটিকে অনুরোধ জানান তিনি।


মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে যাতে কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রবেশগেটে নতুন তালা লাগিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের হাতে চাবি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই পক্ষকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহাবস্থান বজায় রেখে নিজ নিজ অধিকার ভোগ করার আহ্বান জানান প্রশাসক। পরে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয় থানায় লিখিত আবেদন করা হয়।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শঙ্কর কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির জেলা শাখার সভাপতি টনি মল্লিক, স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেন লেকু, যুবদল নেতা সাগর প্রধান, লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।


ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা


মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়ে আসছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।


মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে ধর্মীয় কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জমি নিয়ে বিরোধ


এর আগে মঙ্গলবার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধান না হওয়ায় এবারের দুর্গোৎসবে প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্দির কমিটির নেতারা। খবর পেয়ে বিকেলে মন্দির পরিদর্শন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন।


এ সময় মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ইউএনওকে জানান, মন্দিরের জমি অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদে তাঁরা প্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন তাঁদের আগামী ২৬ অক্টোবর বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বৈঠকে বসার কথা জানান।


স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলসের শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলস রাষ্ট্রায়ত্ত করা হয়। দীর্ঘদিন লোকসানের পর ২০০০ সালে সরকার কারখানাটির মালিকানা ৫১০ জন শ্রমিক ও কর্মচারীর মধ্যে হস্তান্তর করে। পরে ২০১২ সালে নিট কনসার্ন গ্রুপ বিনিয়োগকারী হিসেবে কারখানাটির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হয়।


মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, নিট কনসার্ন গ্রুপ শুরু থেকেই মন্দির, পুকুর ও মাঠের জায়গা দখলের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নিবন্ধিত এই মন্দিরের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ১৭ জুন মন্দিরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।


ম‌ন্দির ক‌মি‌টির সভাপ‌তি মিন্টু চন্দ্র দাস ব‌লেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য আগামী ২৬ অক্টোবরের বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আলোচনা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে মন্দিরের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি হবে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত হবে এই প্রত‌্যাশা ক‌রি।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত