ঢাকা   রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও মাহমুদনগরের মিন্টু মিয়ার বেলায় ‘নীরব’ পুলিশ ‎



বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও মাহমুদনগরের মিন্টু মিয়ার বেলায় ‘নীরব’ পুলিশ  ‎

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা পুলিশ মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার দাবি করলেও সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদনগর এলাকায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে সমাজসেবার মুখোশধারী প্রভাবশালী মিন্টু মিয়ার জুয়ার আসর এবং তাঁর পরিবারের মাদক বাণিজ্যের বিষয়ে পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

‎

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিকের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদনগর কলাবাগান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মিন্টু মিয়া এলাকায় নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে জাহির করলেও নেপথ্যে তিনি জুয়ার মূল হোতা। তাঁর ছত্রছায়ায় ও প্রত্যক্ষ মদদে তাঁর নাতি বিল্লাল এই এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। অথচ তিনি ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়ে গেছে। 

‎

‎সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিন্টু মিয়ার একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই ছবিতে দেখা যায়, মিন্টু মিয়া প্রকাশ্যে তাসের আসর বসিয়ে টেবিলের ওপর মদের বোতল সামনে রেখে আড্ডায় মগ্ন রয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে তিনি ভদ্র ও সমাজসেবকের বেশে চলাফেরা করলেও সন্ধ্যার পর থেকেই তাঁর ডেরায় জুয়ার আসর জমে ওঠে।

‎

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, মিন্টু মিয়ার নাতি বিল্লাল এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। স্থানীয় ‘কুরাইল্লা বাড়ির’ রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির আশ্রয়ে বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদনগর ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সাধারণ মানুষ এই মাদক সিন্ডিকেটের অপকর্মের কথা জানলেও মিন্টু মিয়া ও তাঁর পরিবারের প্রভাবের ভয়ে সরাসরি মুখ খুলতে সাহস পান না।

‎

‎সম্প্রতি মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সঙ্গে অভিযুক্ত মিন্টু মিয়ার তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়রা যখনই এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে যান, তখনই এই সিন্ডিকেট নানা অপকৌশল, প্রভাব ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

‎

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন্দর থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালালেও চোখের সামনে থাকা মাহমুদনগরের এই চিহ্নিত স্পট ও অভিযুক্ত মিন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তথ্য-প্রমাণ ও ছবি প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসনের এমন নীরবতায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।

‎

‎যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইওয়াশ অভিযান নয়, বরং মিন্টু মিয়া ও তাঁর মাদক কারবারি নাতি বিল্লালসহ পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।,

‎

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযান চললেও মাহমুদনগরের মিন্টু মিয়ার বেলায় ‘নীরব’ পুলিশ ‎

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা পুলিশ মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করার দাবি করলেও সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদনগর এলাকায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে সমাজসেবার মুখোশধারী প্রভাবশালী মিন্টু মিয়ার জুয়ার আসর এবং তাঁর পরিবারের মাদক বাণিজ্যের বিষয়ে পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতায় স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

‎

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিকের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদনগর কলাবাগান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মিন্টু মিয়া এলাকায় নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে জাহির করলেও নেপথ্যে তিনি জুয়ার মূল হোতা। তাঁর ছত্রছায়ায় ও প্রত্যক্ষ মদদে তাঁর নাতি বিল্লাল এই এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদকের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। অথচ তিনি ধরাছোঁয়ার বাহিরে রয়ে গেছে। 

‎

‎সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিন্টু মিয়ার একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই ছবিতে দেখা যায়, মিন্টু মিয়া প্রকাশ্যে তাসের আসর বসিয়ে টেবিলের ওপর মদের বোতল সামনে রেখে আড্ডায় মগ্ন রয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে তিনি ভদ্র ও সমাজসেবকের বেশে চলাফেরা করলেও সন্ধ্যার পর থেকেই তাঁর ডেরায় জুয়ার আসর জমে ওঠে।

‎

‎অনুসন্ধানে জানা যায়, মিন্টু মিয়ার নাতি বিল্লাল এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। স্থানীয় ‘কুরাইল্লা বাড়ির’ রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির আশ্রয়ে বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদনগর ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সাধারণ মানুষ এই মাদক সিন্ডিকেটের অপকর্মের কথা জানলেও মিন্টু মিয়া ও তাঁর পরিবারের প্রভাবের ভয়ে সরাসরি মুখ খুলতে সাহস পান না।

‎

‎সম্প্রতি মাদক ব্যবসা বন্ধের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সঙ্গে অভিযুক্ত মিন্টু মিয়ার তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়রা যখনই এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে যান, তখনই এই সিন্ডিকেট নানা অপকৌশল, প্রভাব ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

‎

‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন্দর থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালালেও চোখের সামনে থাকা মাহমুদনগরের এই চিহ্নিত স্পট ও অভিযুক্ত মিন্টু মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তথ্য-প্রমাণ ও ছবি প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসনের এমন নীরবতায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে।

‎

‎যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইওয়াশ অভিযান নয়, বরং মিন্টু মিয়া ও তাঁর মাদক কারবারি নাতি বিল্লালসহ পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।,

‎


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত