শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে- আতিকুর রহমান
চব্বিশ-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কিংবা তাদের ঠকানো সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নয়টি মোর্চাসহ অসংখ্য শ্রমিক সংগঠন কাজ করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা ও শ্রমিকদের অধিকারসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আতিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো মালিক কিংবা শ্রমিকেরই শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার অধিকার নেই। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বরং শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকেরা কর্মসংস্থান হারাবেন এবং দেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। অন্য দেশ বাংলাদেশের বাজার ও শিল্পের জায়গা দখল করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। দেশের শ্রমিকেরা এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্প নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দায়িত্বশীল ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। নাশকতা ও ষড়যন্ত্রে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মালিক, শ্রমিক ও সরকারকে পারস্পরিক সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং শিক্ষা-চিকিৎসাসহ জীবনযাপনের মৌলিক খরচ বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশীদ খাঁন, কবির আহমদ ও মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া। এ সময় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পোশাকশিল্পের চলমান অস্থিরতা নিরসন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মজুরি নিশ্চিত করা, শিল্পকারখানার উৎপাদন ও কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন