ঢাকা   বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা



ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা

​রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান ও তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গত ১৭এপ্রিল দায়েরকৃত মামলা (মামলা নম্বর ৩১/২৬) অনুযায়ী, কদমতলী থানাধীন মোহাম্মদবাগ চৌরাস্তা এলাকার ইটালি বাড়ির চারতলায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ভিক্টিমের পরিবার ও এজাহার সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তরুণীকে সেখানে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। তবে ঘটনার ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভিক্টিমের পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতারে রহস্যজনক ‘গরিমসি’ প্রদর্শন করছে। শুধু তাই নয়, ভিক্টিম ও তার পরিবারকে ক্রমাগত ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার ফলে নির্যাতিতা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এরই মধ্যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের হাতে আসা বেশ কিছু কল রেকর্ডে দেখা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহেল ভিক্টিমকে ফোনে এবং থানায় বারবার হয়রানিমূলক কথা বলছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, আসামিদের গ্রেফতারের পরিবর্তে এসআই সোহেল উল্টো ভিক্টিমকেই দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করছেন। যদিও এসআই সোহেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাবি করেছেন যে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আসামিদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে ভিক্টিমের পক্ষের দাবি, যেখানে ডিজিটাল যুগে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা সহজ, সেখানে ১৫ দিন সময় অতিবাহিত হওয়া প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকেই ইঙ্গিত করে।

​এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, ক্ষমতার দাপটে যদি কোনো অপরাধী পার পেয়ে যায়, তবে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উসকে দেবে। তাদের মতে, শুধু মামলা গ্রহণ করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; ভিক্টিমের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কর্তব্য। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভিক্টিমের জবানবন্দি ও মেডিকেল রিপোর্টই এই মামলার মূল ভিত্তি। পাশাপাশি ভিক্টিমকে যারা হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও পৃথক ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সামাজিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় ভিক্টিম ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন, যা সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। এমতাবস্থায়, মামলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিরপেক্ষ তদন্ত, ভিক্টিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ফারহানসহ তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জোর দাবি উঠেছে সর্বমহলে। ভিক্টিমের পরিবারের দাবি, অপরাধী যে দলের বা যে মতাদর্শেরই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এটাই যেন এই মামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

​রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান ও তার এক বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গত ১৭এপ্রিল দায়েরকৃত মামলা (মামলা নম্বর ৩১/২৬) অনুযায়ী, কদমতলী থানাধীন মোহাম্মদবাগ চৌরাস্তা এলাকার ইটালি বাড়ির চারতলায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ভিক্টিমের পরিবার ও এজাহার সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তরুণীকে সেখানে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। তবে ঘটনার ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভিক্টিমের পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতারে রহস্যজনক ‘গরিমসি’ প্রদর্শন করছে। শুধু তাই নয়, ভিক্টিম ও তার পরিবারকে ক্রমাগত ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার ফলে নির্যাতিতা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এরই মধ্যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের হাতে আসা বেশ কিছু কল রেকর্ডে দেখা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোহেল ভিক্টিমকে ফোনে এবং থানায় বারবার হয়রানিমূলক কথা বলছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, আসামিদের গ্রেফতারের পরিবর্তে এসআই সোহেল উল্টো ভিক্টিমকেই দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং তাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করছেন। যদিও এসআই সোহেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাবি করেছেন যে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আসামিদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে ভিক্টিমের পক্ষের দাবি, যেখানে ডিজিটাল যুগে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা সহজ, সেখানে ১৫ দিন সময় অতিবাহিত হওয়া প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকেই ইঙ্গিত করে।

​এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, ক্ষমতার দাপটে যদি কোনো অপরাধী পার পেয়ে যায়, তবে তা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উসকে দেবে। তাদের মতে, শুধু মামলা গ্রহণ করলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; ভিক্টিমের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কর্তব্য। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভিক্টিমের জবানবন্দি ও মেডিকেল রিপোর্টই এই মামলার মূল ভিত্তি। পাশাপাশি ভিক্টিমকে যারা হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও পৃথক ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সামাজিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় ভিক্টিম ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন, যা সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। এমতাবস্থায়, মামলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নিরপেক্ষ তদন্ত, ভিক্টিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ফারহানসহ তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জোর দাবি উঠেছে সর্বমহলে। ভিক্টিমের পরিবারের দাবি, অপরাধী যে দলের বা যে মতাদর্শেরই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এটাই যেন এই মামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত