৯ম চীন মৈত্রী বগা সেতু নির্মানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন
পটুয়াখালীর লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া সড়কের (জেড-৮৮০৬) ১৪তম কিলোমিটারে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ৯ম চীন মৈত্রী (বগা সেতু) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টায় মন্ত্রী পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর (চরগরবদি-বগা ফেরিঘাট) প্রস্তাবিত সেতু এলাকাটি পরিদর্শন করেন।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে: সেতুমন্ত্রী
পরিদর্শন শেষে দুমকির চরগরবদি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন:
"প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ দেশজুড়ে অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পাশাপাশি শিশু আবিরার ‘বগা সেতু চাই’ আকুল ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে এই বগা সেতু নির্মাণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষেই দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল কার্যক্রম শুরু করা হবে।"
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই উদ্যোগ: আলতাফ হোসেন চৌধুরী
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে দৈনিক ১৮ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যন্নয়নে এই সেতুটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনিই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁরই নির্দেশনায় আজ আমরা এখানে এসেছি।"
এক নজরে প্রস্তাবিত 'বগা সেতু' প্রকল্প
সেতু বিভাগের তথ্যমতে, এই মেগা প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| প্রস্তাবিত নাম | ৯ম চীন মৈত্রী সেতু (বগা সেতু) |
| নদীর নাম | লোহালিয়া নদী (চরগরবদি-বগা ফেরিঘাট এলাকা) |
| সেতুর দৈর্ঘ্য | ১.৩৪৮ কিলোমিটার (১,৩৪৮ মিটার) |
| সেতুর প্রস্থ | ১৫.০২ মিটার |
| অন্যান্য অবকাঠামো | মূল সেতুর পাশাপাশি সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) ও প্রয়োজনীয় স্থাপনা |
সুফল ও আঞ্চলিক প্রভাব
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পটুয়াখালীসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটবে:
সহজ যোগাযোগ: রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর বাউফল, গলাচিপা, দশমিনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে।
অর্থনৈতিক গতিশীলতা: ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে এবং পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
খাতভিত্তিক উন্নয়ন: এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্প এবং কৃষিখাতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
উক্ত পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. সফিকুল ইসলাম মাসুদ, সেতু বিভাগের সচিব, জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকল্প প্রকৌশলী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন