মুছাপুরে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ থেকে বাঁচতে আলী হোসেনের ‘নির্বাচনী কার্ড’: ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে এক বিতর্কিত সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন স্থানীয় আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তি। জমি দখল ও ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে যখন এলাকা উত্তাল, ঠিক তখনই সেই অভিযোগ থেকে জনদৃষ্টি সরাতে সংবাদ সম্মেলনের নামে ‘কৌশলে’ আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের ভাষ্য— নিজের অপরাধ ঢাকতেই তিনি এখন এই ‘নির্বাচনী কার্ড’ খেলছেন।
গতকাল সোমবার (১৮ মে) বিকেলে মুছাপুর ইউনিয়নের আম বাগান এলাকায় এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটল
সরেজমিনে জানা যায়, সংবাদ সম্মেলনে বিবাদমান জমি বা নিজের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের সদুত্তর দেওয়ার পরিবর্তে আলী হোসেন দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন রাজনৈতিক গুণগানে। একপর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি কৌশলে আগামী মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি মূলত একটি ‘কৌশলগত চাল’। ভবিষ্যতে তাঁর অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে তিনি যেন সেটিকে ‘রাজনৈতিক হয়রানি’ হিসেবে প্রচার করে সুবিধা নিতে পারেন, সেজন্যই এই আগাম ঘোষণা।
মূল অভিযোগ ও ব্যাকগ্রাউন্ড
আলী হোসেনের বিরুদ্ধে বারপাড়া এলাকায় আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত ৫৪ শতাংশ পৈত্রিক জমি জবরদখলের চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে “জমিতে পুঁতে ফেলার” মতো ভয়াবহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিগত সরকারের প্রভাব: এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একতরফা আধিপত্য বিস্তার ও নানা অনিয়ম করে আসছেন।
আইন অমান্য: এমন এক বিতর্কিত ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চ ব্যবহার করে নির্বাচনী ঘোষণা দেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণ ভোটার ও ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য
"যিনি আদালতের রায় মানেন না এবং সাধারণ মানুষকে হত্যার হুমকি দেন, তিনি জনগণের প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। তাঁর এই ঘোষণা মূলত ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মানুষকে দাবিয়ে রাখার একটি নতুন ফন্দি মাত্র।" — মুছাপুরের সাধারণ ভোটারবৃন্দ
এদিকে ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের আশঙ্কা, আলী হোসেন এখন নির্বাচনী দোহাই দিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন। তাঁরা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন, আলী হোসেনকে কেবল চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন চিহ্নিত ‘ভূমিদস্যু’ এবং ‘হুমকিদাতা’ হিসেবে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক।
আপনার মতামত লিখুন