নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সন্ত্রাসী সিফাত বাহিনীর ‘সেনাপতি’ লিজার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ বন্দরে শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ সিফাত ও তার বাহিনীর মূল পৃষ্ঠপোষক এবং ‘সেনাপতি’ হিসেবে পরিচিত লিজার বিরুদ্ধে অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের মামলার প্রধান আসামি সিফাতকে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখার নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন এই লিজা।
অপরাধের নেপথ্যে লিজার ভূমিকা
অর্থায়ন ও আশ্রয়: সন্ত্রাসী বাহিনীকে অর্থায়ন, অস্ত্রধারীদের আশ্রয় এবং তাদের নিয়মিত দেখাশোনা করার পেছনে মূল চালিকাশক্তি লিজা। স্বামী ইমনসহ পুরো সন্ত্রাসী বাহিনী বর্তমানে তার ছত্রছায়ায় রয়েছে।
অস্ত্র ছিনতাইয়ের পর আত্মগোপন: পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে শর্টগান ছিনতাইয়ের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে শেখ সিফাতকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখেন লিজা।
লুকানোর স্থানসমূহ:
ঘটনার পর টানা ১০ থেকে ১২ দিন সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় লিজার তত্ত্বাবধানে আত্মগোপনে ছিল সিফাত।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় সিফাতকে ৪ দিনের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পর বন্দর উপজেলার চিতাশাল এলাকায় লিজা নিজের ভাইয়ের বাসায় সিফাতকে লুকিয়ে রাখেন।
মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সিন্ডিকেট
স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু সন্ত্রাসী আশ্রয় দেওয়াই নয়—
লিজা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।
সিফাত ও ইমনের মতো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের পেশিশক্তি ব্যবহার করে তিনি এলাকায় নির্বিঘ্নে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি
পুলিশের অস্ত্র ছিনতাইয়ের মতো চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিদের প্রকাশ্য আশ্রয় দেওয়া এবং লিজা বাহিনীর অপতৎপরতায় বন্দর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবিলম্বে সন্ত্রাসী চক্রের মূল হোতা শেখ সিফাত, তার সহযোগী ইমন এবং আশ্রয়দাত্রী লিজাকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন