ঢাকা   শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধির হাতে হাতকড়া, সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদ



কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধির হাতে হাতকড়া, সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদ

 বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর ২০২৬: দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি আসাদ সবুজকে গতকাল গভীর রাতে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর দুই হাতে হাতকড়া পরিয়ে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা নেই। দূ:খজনক বিষয় হলো তাকে গ্রেপ্তার করে ডোপ টেস্ট করানো হয়। তবে টেস্টে মাদকাসক্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। 

একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার, পরবর্তীতে ডোপ টেস্ট, পেছনে হাতকড়া ব্যবহার যা গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। কথিত একটি চাঁদাবাজি মামলায় কেবল সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা জনসমক্ষে অপমানিত করার উদ্দেশ্যে হাতকড়া ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ মামলার অপরাপর ১০/১২ জন বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তারা অধিকাংশ জামিনে রয়েছেন। 

বাংলাদেশের পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB)-এর ৩৩০ প্রবিধানে হাতকড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও সংযমের নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাতকড়া ব্যবহারের বিরুদ্ধে।

বিএমএসএফ মনে করে, একজন সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরানোর আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে এর আইনগত ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে হাতকড়া পরানো হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশের সিদ্ধান্ত কতটা আইনসম্মত ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিএমএসএফের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাতকড়া ব্যবহারের আইনগত যৌক্তিকতা যাচাই, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং কোনো ধরনের অমানবিক বা অপমানজনক আচরণ হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সংগঠনটি আরও মনে করে, সাংবাদিকের পেশাগত স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানবাধিকার সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন প্রয়োগের নামে সাংবাদিকসহ কোনো নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

সাংবাদিকের মর্যাদা রক্ষায় পুলিশের নিকট আইনসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধির হাতে হাতকড়া, সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদ

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

 বৃহস্পতিবার, ১লা অক্টোবর ২০২৬: দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি আসাদ সবুজকে গতকাল গভীর রাতে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর দুই হাতে হাতকড়া পরিয়ে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা নেই। দূ:খজনক বিষয় হলো তাকে গ্রেপ্তার করে ডোপ টেস্ট করানো হয়। তবে টেস্টে মাদকাসক্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। 


একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার, পরবর্তীতে ডোপ টেস্ট, পেছনে হাতকড়া ব্যবহার যা গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। কথিত একটি চাঁদাবাজি মামলায় কেবল সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা জনসমক্ষে অপমানিত করার উদ্দেশ্যে হাতকড়া ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ মামলার অপরাপর ১০/১২ জন বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তারা অধিকাংশ জামিনে রয়েছেন। 


বাংলাদেশের পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB)-এর ৩৩০ প্রবিধানে হাতকড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও সংযমের নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাতকড়া ব্যবহারের বিরুদ্ধে।


বিএমএসএফ মনে করে, একজন সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরানোর আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে এর আইনগত ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে হাতকড়া পরানো হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশের সিদ্ধান্ত কতটা আইনসম্মত ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


বিএমএসএফের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাতকড়া ব্যবহারের আইনগত যৌক্তিকতা যাচাই, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং কোনো ধরনের অমানবিক বা অপমানজনক আচরণ হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


সংগঠনটি আরও মনে করে, সাংবাদিকের পেশাগত স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানবাধিকার সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন প্রয়োগের নামে সাংবাদিকসহ কোনো নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

সাংবাদিকের মর্যাদা রক্ষায় পুলিশের নিকট আইনসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত