অভিযুক্ত লিংকনের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও জাল দলিল তৈরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের
দীর্ঘদিনের বকেয়া দোকানভাড়া দাবি করায় দোকান মালিকের ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসাদুজ্জামান ওরফে লিংকন নামের এক ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার পদুঘর স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির উপস্থিতিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে অভিযুক্তের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত লিংকনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও জাল দলিল সংক্রান্ত নানা প্রতারণার তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে পদুঘর স্ট্যান্ড সংলগ্ন ১০ শতাংশ জমিতে ১৬টি টিনশেড দোকান নির্মাণ করেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। প্রায় ৮-৯ বছর আগে আসাদুজ্জামান লিংকন মৌখিকভাবে মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাড়ায় তিন শাটারের দুটি দোকান নেন। পরবর্তীতে তিনি দোকান দুটিকে একীভূত করে ছয় শাটারের একটি বড় দোকানে রূপান্তর করেন।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম সুমন (৪৬) জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর বাবা সম্পত্তি ও দোকান দেখভালের দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভাড়াটিয়া লিংকনকে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত চুক্তি সম্পাদনের অনুরোধ জানানো হলে তিনি নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন এবং বিগত চার মাস ধরে সম্পূর্ণ ভাড়া দেওয়া বন্ধ রাখেন।
সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যায় সুমন দোকানে গিয়ে চার মাসের বকেয়া ভাড়া দাবি করলে লিংকন তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। দোকান খালি করে দেওয়ার তাগিদ দিলে লিংকন ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ঘটনার পর সুমনের পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পঞ্চায়েত কমিটির দ্বারস্থ হয়। ভাড়াটিয়ার উগ্র আচরণ ও অনৈতিক দখলের চেষ্টা বিবেচনা করে স্থানীয় মাতব্বর ও পঞ্চায়েত কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সর্বসমক্ষে দোকানটিতে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর এলাকায় খোঁজ নিয়ে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান লিংকনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার হাজী তাজুল ইসলামের সম্পত্তি ও দোকানগুলোর ওপর লিংকনের লোলুপ দৃষ্টি ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় অসাধু দলিল লেখক ও ভূমিদস্যু চক্রের সাথে যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র ও জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম সুমন বাদী হয়ে অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান লিংকন (৪৪)—পিতা: মৃত মো. এমদাদুল হক, সাং- দক্ষিণ কুলচরিত্র, থানা- বন্দর—এর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবারটি অনতিবিলম্বে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেদের সম্পত্তি সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন