ঢাকা   বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানের জেরে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিবন্ধী মেয়েকে মারধর ও মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ



বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানের জেরে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিবন্ধী মেয়েকে মারধর ও মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে মারধর এবং তাঁর মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হাফেজা (৪৩)। 

গত ১০ অক্টোবর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের বাক্সরাইল এলাকায় পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎

‎এ ঘটনায় হাফেজা বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে একই এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. ইকবাল (৪৮), মো. দেলোয়ার (৪০), তাঁর মেয়ে লাভলি (৩৯) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

‎

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাফেজার মেয়ে হ্যাপি (২৮) শারীরিক প্রতিবন্ধী ও স্ট্রোকের রোগী। জমিজমা নিয়ে হ্যাপি ও তাঁর স্বামী মো. সাকিলের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত শত্রুতা আরও বেড়েছে বলে দাবি করেছেন হাফেজা। সেই বিরোধের জের ধরে তাঁর মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

‎

‎হাফেজার অভিযোগ, গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মেয়ে হ্যাপি লাঙ্গলবন্দের বাক্সরাইল এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাঁর স্বামী নাশতা আনতে বাইরে গেলে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে হ্যাপিকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ ঘটনায় কাউকে কিছু জানালে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎

‎এরপর একই দিন সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা হাফেজার বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় লাভলি তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং মারধরের একপর্যায়ে তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে দাবি করেন হাফেজা। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে, তাঁর মেয়ে ও জামাতাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

‎

‎এ ছাড়া অভিযুক্তরা মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন হাফেজা। পরে স্থানীয় লোকজন আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

‎

‎হাফেজা তাঁর অভিযোগে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

‎

‎তবে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত শত্রুতার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের বক্তব্যও জানা যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানের জেরে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিবন্ধী মেয়েকে মারধর ও মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে মারধর এবং তাঁর মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। জমিজমা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সূত্রপাত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হাফেজা (৪৩)। 

গত ১০ অক্টোবর উপজেলার লাঙ্গলবন্দের বাক্সরাইল এলাকায় পৃথক সময়ে এসব ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎

‎এ ঘটনায় হাফেজা বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে একই এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. ইকবাল (৪৮), মো. দেলোয়ার (৪০), তাঁর মেয়ে লাভলি (৩৯) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

‎

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাফেজার মেয়ে হ্যাপি (২৮) শারীরিক প্রতিবন্ধী ও স্ট্রোকের রোগী। জমিজমা নিয়ে হ্যাপি ও তাঁর স্বামী মো. সাকিলের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত শত্রুতা আরও বেড়েছে বলে দাবি করেছেন হাফেজা। সেই বিরোধের জের ধরে তাঁর মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

‎

‎হাফেজার অভিযোগ, গত ১০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মেয়ে হ্যাপি লাঙ্গলবন্দের বাক্সরাইল এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাঁর স্বামী নাশতা আনতে বাইরে গেলে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে হ্যাপিকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ ঘটনায় কাউকে কিছু জানালে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎

‎এরপর একই দিন সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা হাফেজার বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় লাভলি তাঁর চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং মারধরের একপর্যায়ে তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে দাবি করেন হাফেজা। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে, তাঁর মেয়ে ও জামাতাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

‎

‎এ ছাড়া অভিযুক্তরা মাদক দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন হাফেজা। পরে স্থানীয় লোকজন আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

‎

‎হাফেজা তাঁর অভিযোগে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

‎

‎তবে মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত শত্রুতার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বন্দর থানা পুলিশের বক্তব্যও জানা যায়নি।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত