বন্দরে ‘গ্রামীণ মানবিক উন্নয়ন সংস্থা’র নামে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারক চক্র উধাও
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম হাজীপুর এলাকা থেকে ‘গ্রামীণ মানবিক উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
২৫ অক্টোবর রবিবার চক্রটির মূলহোতা অফিস গুটিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার শতাধিক সহজ-সরল মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে ‘গ্রামীণ মানবিক উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচয়ে একটি প্রতারক চক্র পশ্চিম হাজীপুর এলাকার সেতু নামের এক নারীর বাড়িতে আস্তানা গেড়ে বসে। পরে এলাকার সাধারণ নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন লোভনীয় ঋণ ও সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয় এবং সেতুকেই সেই দলের নেত্রী বানানো হয়।
এরপর থেকে শুরু হয় সুকৌশলে ফরম পূরণ ও কিস্তি তোলার কাজ। এভাবে পশ্চিম হাজীপুর ছাড়াও কল্যাণ্দী, নবীগঞ্জ, আলীরটেক, সাপের চর, ডিগ্রির চর ও কাঠপট্টিসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে ফরম পূরণের ও কিস্তির নামে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরবর্তীতে হঠাৎ করেই টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় প্রতারকরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা ও প্রধান ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তাঁর ব্যবহৃত ভিজিটিং কার্ডে ‘গ্রামীণ মানবিক উন্নয়ন সংস্থা’ (নম্বর: M.R.ANO001420012600680) এবং ‘জাতীয় শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ মূলক সংস্থা’ (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত) লেখা ছিল। ভিজিটিং কার্ডে অফিসের বর্তমান ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল— চর শিবপুর (কাঠপট্টি), সদর, নারায়ণগঞ্জ।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা পরে ওই ঠিকানায় গিয়ে দেখতে পান, অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। প্রতারণার শিকার অসহায় গ্রাহকরা এখন সর্বস্ব হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে, প্রতারক চক্রের মূল হোতা আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তাদের সন্ধান বা ধরিয়ে দিতে পারলে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আপনার মতামত লিখুন