ঢাকা   রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

ফতুল্লায় পাওয়া টাকা চাওয়ায় গৃহবধুকে হত্যা,টাকা-স্বর্নালংকার লুট



ফতুল্লায় পাওয়া টাকা চাওয়ায় গৃহবধুকে হত্যা,টাকা-স্বর্নালংকার লুট

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ডিআইটি মাঠ সংলগ্ন ঋষিবাড়ি এলাকায় ঘরে প্রবেশ দুই সন্তানের জননীকে মাথায় আঘাত করে নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার লুটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া প্রান্ত নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। প্রান্তের দেয়া আঘাতের পর ঢাকার একটি বেসরকারী ক্লিনিকে মৃত্যবরন করেন অলকা চক্রবর্তী। তিনি ঋষিবাড়ি এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক দিলিপ চক্রবর্তীর স্ত্রী।

নিহত অলকা চক্রবর্তীর স্বামী দিলিপ চক্রবর্তী জানান, কেরানীগঞ্জের কাউটাইল ঋষিবাড়ি এলাকার তপন দাসের ছেলে প্রান্ত দাস প্রায় ৫ বছর যাবত তার এ ফার্মেসীতে কাজ করে আসছে। দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে আমাদের সকলের সাথে প্রান্ত’র সাথে সুসর্ম্পক গড়ে উঠে। সেই সুবাদে প্রান্ত তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রচুর টাকা কর্জ নেয় সে নিজে একটি ফার্মেসী দেয়া জন্য। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে উচ্চ শিক্ষার বিদেশে থাকায় তাদের খরচের জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন হলে অলকা চক্রবর্তী তার পাওনা টাকার জন্য প্রান্তকে চাপ প্রয়োগ করলে সে তা দিতে গড়িমসি করে আসছে। টাকা দেয়ার মিথ্যা অযুহাতে শুক্রবার ২৩ অক্টোবর রাতে দোকানের কাজ শেষে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরলে তার পিছু পিছু প্রান্ত দাসও তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় আমার স্ত্রী অলকা ঘরে করতেই প্রান্ত তাকে প্রথমে দেয়ালের সাথে মাথায় সজোরে আঘাত করে। মাথায় আঘাতের পর অলকা ঘরের মেঝেতে লুটে পড়লে প্রান্ত তার স্ত্রীকে বুকে এবং দেহের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে। এ সময় অলকার গায়ে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্নালংকার এবং ঘরের অলমারিতে থাকা প্রায় নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় প্রান্ত। আশপাশের লোকজনের কাছে শুনে আমি দ্রুত ঘরে দেখতে পাই আমার স্ত্রী অলকা ঘরে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে দ্রুত আমার স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে আমার স্ত্রীকে একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নিয়ে যাই। পথিমধ্যে আমার স্ত্রী তিনবার বমিও করেছে। সেখানে কর্মরত চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে আইসিইউতে রাখে। পরে গভীর রাতে চিকিৎসকরা জানান আমার স্ত্রী বেঁেচ নেই। তারা বলেন,আমার স্ত্রীর মাথায় আঘাতের পরিমানটা বেশী হওয়ার কারনে তার ব্রেনে আঘাত করেছে।

এদিকে প্রান্ত’র গ্রেফতার ও বিচারের দাবী নিজ চেম্বারে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন দিলিপ চক্রবর্তী। শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদেরকে অলকার স্বামী দিলিপ জানান,আমার স্ত্রীকে হত্যার পর আমাকেও হুমকী দিচ্ছে প্রান্ত। আপনার স্ত্রীর মরদেহ পেষ্টমর্টেম করেছেন কিনা এবং প্রান্ত’র বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমার দুই ছেলে-মেয়ে দেশের বাহিরে থেকে পড়াশুনা করছে। এখানে আমি ছাড়া কেউ নেই। স্ত্রীর এভাবে চলে যাওয়ার পর আমি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ি। আমাদের ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যু হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে লাশ দাহ করতে হয়। পোষ্টমর্টেম করতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে বিধায় সেটা করতে পারিনি। তবে আমি থানায় যাবো প্রান্ত’র বিরুদ্ধে মামলা করতে আর একাজে আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি।

তবে স্থানীয়দের মতে টাকা-পয়সার লেনদেনের সুত্রধরেই প্রান্ত কর্তৃক এ মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে অলকা এবং প্রান্ত’র সাথে মাঝে-মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। প্রান্ত ফতুল্লা প্রাইমারী স্কুল সংলগ্নে একটি নতুন ফার্সেমী দিয়েছে তার পুরো টাকাটাই নাকি অলকার কাছ থেকে নিয়েছিল। এখন বিদেশে অবস্থারত ছেলে-মেয়ের শিক্ষা বাবদ খরচের টাকা প্রয়োজন হলে অলকা প্রান্তকে পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে তার মাঝে বিবেধ সৃষ্টি হয়। আর টাকা যেন না দিতে হয় সেজন্য প্রান্ত অলকার ঘরে ঢুকে তাকে মাথায় আঘাত করে হত্যা শেষে তার গায়ে থাকা স্বর্নালকার ও আলমারিতে থাকা টাকা দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

স্থানীয়রাও অলকা হত্যাকান্ডের মুলহোতা প্রান্ত দাসকে গ্রেফতার পরবর্তী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


ফতুল্লায় পাওয়া টাকা চাওয়ায় গৃহবধুকে হত্যা,টাকা-স্বর্নালংকার লুট

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ডিআইটি মাঠ সংলগ্ন ঋষিবাড়ি এলাকায় ঘরে প্রবেশ দুই সন্তানের জননীকে মাথায় আঘাত করে নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার লুটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া প্রান্ত নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। প্রান্তের দেয়া আঘাতের পর ঢাকার একটি বেসরকারী ক্লিনিকে মৃত্যবরন করেন অলকা চক্রবর্তী। তিনি ঋষিবাড়ি এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক দিলিপ চক্রবর্তীর স্ত্রী।

নিহত অলকা চক্রবর্তীর স্বামী দিলিপ চক্রবর্তী জানান, কেরানীগঞ্জের কাউটাইল ঋষিবাড়ি এলাকার তপন দাসের ছেলে প্রান্ত দাস প্রায় ৫ বছর যাবত তার এ ফার্মেসীতে কাজ করে আসছে। দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে আমাদের সকলের সাথে প্রান্ত’র সাথে সুসর্ম্পক গড়ে উঠে। সেই সুবাদে প্রান্ত তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রচুর টাকা কর্জ নেয় সে নিজে একটি ফার্মেসী দেয়া জন্য। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে উচ্চ শিক্ষার বিদেশে থাকায় তাদের খরচের জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন হলে অলকা চক্রবর্তী তার পাওনা টাকার জন্য প্রান্তকে চাপ প্রয়োগ করলে সে তা দিতে গড়িমসি করে আসছে। টাকা দেয়ার মিথ্যা অযুহাতে শুক্রবার ২৩ অক্টোবর রাতে দোকানের কাজ শেষে তার স্ত্রী বাড়ি ফিরলে তার পিছু পিছু প্রান্ত দাসও তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় আমার স্ত্রী অলকা ঘরে করতেই প্রান্ত তাকে প্রথমে দেয়ালের সাথে মাথায় সজোরে আঘাত করে। মাথায় আঘাতের পর অলকা ঘরের মেঝেতে লুটে পড়লে প্রান্ত তার স্ত্রীকে বুকে এবং দেহের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে। এ সময় অলকার গায়ে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্নালংকার এবং ঘরের অলমারিতে থাকা প্রায় নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে যায় প্রান্ত। আশপাশের লোকজনের কাছে শুনে আমি দ্রুত ঘরে দেখতে পাই আমার স্ত্রী অলকা ঘরে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে দ্রুত আমার স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে আমার স্ত্রীকে একটি বেসরকারী ক্লিনিকে নিয়ে যাই। পথিমধ্যে আমার স্ত্রী তিনবার বমিও করেছে। সেখানে কর্মরত চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে আইসিইউতে রাখে। পরে গভীর রাতে চিকিৎসকরা জানান আমার স্ত্রী বেঁেচ নেই। তারা বলেন,আমার স্ত্রীর মাথায় আঘাতের পরিমানটা বেশী হওয়ার কারনে তার ব্রেনে আঘাত করেছে।

এদিকে প্রান্ত’র গ্রেফতার ও বিচারের দাবী নিজ চেম্বারে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন দিলিপ চক্রবর্তী। শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদেরকে অলকার স্বামী দিলিপ জানান,আমার স্ত্রীকে হত্যার পর আমাকেও হুমকী দিচ্ছে প্রান্ত। আপনার স্ত্রীর মরদেহ পেষ্টমর্টেম করেছেন কিনা এবং প্রান্ত’র বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমার দুই ছেলে-মেয়ে দেশের বাহিরে থেকে পড়াশুনা করছে। এখানে আমি ছাড়া কেউ নেই। স্ত্রীর এভাবে চলে যাওয়ার পর আমি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ি। আমাদের ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যু হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে লাশ দাহ করতে হয়। পোষ্টমর্টেম করতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে বিধায় সেটা করতে পারিনি। তবে আমি থানায় যাবো প্রান্ত’র বিরুদ্ধে মামলা করতে আর একাজে আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি।

তবে স্থানীয়দের মতে টাকা-পয়সার লেনদেনের সুত্রধরেই প্রান্ত কর্তৃক এ মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে অলকা এবং প্রান্ত’র সাথে মাঝে-মধ্যে কথা কাটাকাটি হতো। প্রান্ত ফতুল্লা প্রাইমারী স্কুল সংলগ্নে একটি নতুন ফার্সেমী দিয়েছে তার পুরো টাকাটাই নাকি অলকার কাছ থেকে নিয়েছিল। এখন বিদেশে অবস্থারত ছেলে-মেয়ের শিক্ষা বাবদ খরচের টাকা প্রয়োজন হলে অলকা প্রান্তকে পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে তার মাঝে বিবেধ সৃষ্টি হয়। আর টাকা যেন না দিতে হয় সেজন্য প্রান্ত অলকার ঘরে ঢুকে তাকে মাথায় আঘাত করে হত্যা শেষে তার গায়ে থাকা স্বর্নালকার ও আলমারিতে থাকা টাকা দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

স্থানীয়রাও অলকা হত্যাকান্ডের মুলহোতা প্রান্ত দাসকে গ্রেফতার পরবর্তী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানান।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত