ঢাকা   বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
বাংলার শিরোনাম

জাতির দুর্ভাগ্য শ্রমিকের সমস্যার সমাধান হয় না -আতিকুর রহমান



জাতির দুর্ভাগ্য শ্রমিকের সমস্যার সমাধান হয় না -আতিকুর রহমান
“আমরা কোনো কার্ড ভিক্ষা চাই না, ন্যায্য অধিকার ও ইনসাফ চাই”: অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা শ্রমিকরা কোনো কার্ড ভিক্ষা চাই না; আমরা ন্যায্য অধিকার ও ইনসাফ চাই। ইনসাফ দিন, বৈষম্য দূর করুন এবং অধিকার ফিরিয়ে দিন। কোনো কার্ড না হলেও আমাদের সমস্যা নেই। আমরা কাজ, উপযুক্ত মজুরি এবং একজন মানুষ হিসেবে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার চাই।”

শনিবার (১৬ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগ এলাকার একটি মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘থানা দায়িত্বশীল সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান দেশের শ্রমিকদের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে সাড়ে ৭ কোটি শ্রমিক রয়েছে। এদের কল্যাণের কথা সবাই মুখে বললেও দুর্ভাগ্যবশত শ্রমিকের মূল সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। এখনো ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার কথা বলা হলেও দেশের কোথাও তা পুরোপুরি চালু নেই; অনেক জায়গায় শ্রমিকদের ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।”

শ্রমিকদের নানা হয়রানির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শ্রমিক আন্দোলন হলেও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ হয়নি। যখন-তখন শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এমনকি উৎসবের দিনগুলোতেও মালিকরা শ্রমিকদের ছুটি দিতে চান না, যা চরম অমানবিক।” তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দ্রুতই একটি বাজেট প্রস্তাবনা দেওয়া হবে।

ফেডারেশনের ভিন্নধর্মী কর্মপন্থা উল্লেখ করে এই শ্রমিকনেতা বলেন, “শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রচলিত ধারার কোনো শ্রমিক আন্দোলন নয়। আমরা শ্রমিক ও মালিকের সুসম্পর্ক চাই। ইন্ডাস্ট্রি টিকলে শ্রমিকের চাকরি থাকবে, আর মালিক টিকলে শ্রমিকরা বেতন পাবে। আমরা শ্রমিকের পাশাপাশি মালিকদের স্বার্থও দেখবো।” তিনি আরও বলেন, “চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১২০ জন শ্রমিক জীবন দিয়েছেন। অথচ দেশের সবচেয়ে বৈষম্যের শিকার এই শ্রমিকরাই। আজও নারী-পুরুষের বেতনে বৈষম্য রয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেওয়া হয় না।”

বর্তমান সরকারকে সংস্কারবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার যে প্রকৃত অর্থে সংস্কারবিরোধী, তার প্রমাণ হলো তারা শ্রম আইনের কোনো সংস্কার মানেনি। আমরা বিগত দেড় বছর বহু বৈঠক করে শ্রম আইনের দুটি জায়গায় সংস্কার এনেছিলাম। কিন্তু তারা পার্লামেন্টে আলোচনা না করেই সেই পরিবর্তন বাতিল করে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।” তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “শ্রমিক লীগ এখন শ্রমিক দল সেজে চাঁদাবাজি, লুটপাট বা দখলবাজি করবে—তা আমরা হতে দেব না। কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে নেতা সেজে শ্রমিক শোষণ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানান, বিপ্লবের সুফল ঘরে তোলার জন্য আগামী দিনে শ্রমিকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়ন বৃদ্ধি করে ঘরে ঘরে শ্রমিক কল্যাণের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন মাওলানা আব্দুশ শাকুর।

এ সময় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান, মহানগর সহ-সভাপতি মুন্সি আব্দুল্লাহ ফয়সুল, মহানগর সেক্রেটারি সোলাইমান হোসাইন মুন্না, জেলা সেক্রেটারি মো. রেদোয়ানুল আজিম, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ খোরশেদ আলম রবিনসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

বাংলার শিরোনাম

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


জাতির দুর্ভাগ্য শ্রমিকের সমস্যার সমাধান হয় না -আতিকুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা শ্রমিকরা কোনো কার্ড ভিক্ষা চাই না; আমরা ন্যায্য অধিকার ও ইনসাফ চাই। ইনসাফ দিন, বৈষম্য দূর করুন এবং অধিকার ফিরিয়ে দিন। কোনো কার্ড না হলেও আমাদের সমস্যা নেই। আমরা কাজ, উপযুক্ত মজুরি এবং একজন মানুষ হিসেবে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার চাই।”

শনিবার (১৬ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগ এলাকার একটি মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘থানা দায়িত্বশীল সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান দেশের শ্রমিকদের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে সাড়ে ৭ কোটি শ্রমিক রয়েছে। এদের কল্যাণের কথা সবাই মুখে বললেও দুর্ভাগ্যবশত শ্রমিকের মূল সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। এখনো ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টার কথা বলা হলেও দেশের কোথাও তা পুরোপুরি চালু নেই; অনেক জায়গায় শ্রমিকদের ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়।”

শ্রমিকদের নানা হয়রানির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শ্রমিক আন্দোলন হলেও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ হয়নি। যখন-তখন শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। এমনকি উৎসবের দিনগুলোতেও মালিকরা শ্রমিকদের ছুটি দিতে চান না, যা চরম অমানবিক।” তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দ্রুতই একটি বাজেট প্রস্তাবনা দেওয়া হবে।

ফেডারেশনের ভিন্নধর্মী কর্মপন্থা উল্লেখ করে এই শ্রমিকনেতা বলেন, “শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রচলিত ধারার কোনো শ্রমিক আন্দোলন নয়। আমরা শ্রমিক ও মালিকের সুসম্পর্ক চাই। ইন্ডাস্ট্রি টিকলে শ্রমিকের চাকরি থাকবে, আর মালিক টিকলে শ্রমিকরা বেতন পাবে। আমরা শ্রমিকের পাশাপাশি মালিকদের স্বার্থও দেখবো।” তিনি আরও বলেন, “চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১২০ জন শ্রমিক জীবন দিয়েছেন। অথচ দেশের সবচেয়ে বৈষম্যের শিকার এই শ্রমিকরাই। আজও নারী-পুরুষের বেতনে বৈষম্য রয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেওয়া হয় না।”

বর্তমান সরকারকে সংস্কারবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার যে প্রকৃত অর্থে সংস্কারবিরোধী, তার প্রমাণ হলো তারা শ্রম আইনের কোনো সংস্কার মানেনি। আমরা বিগত দেড় বছর বহু বৈঠক করে শ্রম আইনের দুটি জায়গায় সংস্কার এনেছিলাম। কিন্তু তারা পার্লামেন্টে আলোচনা না করেই সেই পরিবর্তন বাতিল করে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।” তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “শ্রমিক লীগ এখন শ্রমিক দল সেজে চাঁদাবাজি, লুটপাট বা দখলবাজি করবে—তা আমরা হতে দেব না। কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে নেতা সেজে শ্রমিক শোষণ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

জুলাই বিপ্লবে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানান, বিপ্লবের সুফল ঘরে তোলার জন্য আগামী দিনে শ্রমিকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়ন বৃদ্ধি করে ঘরে ঘরে শ্রমিক কল্যাণের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন মাওলানা আব্দুশ শাকুর।

এ সময় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান, মহানগর সহ-সভাপতি মুন্সি আব্দুল্লাহ ফয়সুল, মহানগর সেক্রেটারি সোলাইমান হোসাইন মুন্না, জেলা সেক্রেটারি মো. রেদোয়ানুল আজিম, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ খোরশেদ আলম রবিনসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।


বাংলার শিরোনাম

সম্পাদকঃ মোঃ ইউসুফ আলী প্রধান । নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ রানা
কপিরাইট © ২০২৬ বাংলার শিরোনাম । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত