নারায়ণগঞ্জে ডিক্রীরচর খেয়াঘাটের ইজারার টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে কারা তদন্তের দাবী
কাজকর্ম করেননা এমনকি নেই ব্যবসা বানিজ্য তারপরও বিএনপির পদ ব্যবহার করে খেয়াঘাট,গরুর হাট,সরকারী খাল সংলগ্ন জমি হতে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করা,পরিষদের উন্নয়নের কাজ ভাগিয়ে নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাকির হোসেনের দুই সিপাহশালার আব্দুর রহমান ও মাহবুব আলম জুলহাস।
এদের চাটুকারিতা ও কানভারী করার কারনে দুঃসময়ে জাকির চেয়ারম্যানের পাশে থাকা মানুষ গুলো আজ দুরে সরে গেছে। রহমান ও জুলহাস মুখী হয়ে পড়েছে জাকির চেয়ারম্যান। তাদের অপকর্মের দায়ভার নিতে হবে জাকির চেয়ারম্যানকে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।
আব্দুর রহমান হলেন,আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও মাহবুব আলম জুলহাস সহ সভাপতি। নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে পারদর্শী হলেও দলীয় কর্মসূচী পালন করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেন। জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করতে পারেননি।
জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪. কমের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে আব্দুর রহমান ও জুলহাসের আর্থিক অনিয়ম,দলের কর্মসূচী পালনে চরম ব্যর্থতা,দলীয় বিভেদ সৃষ্টি, ডিক্রীরচর খেয়াঘাট কমদামে ইজারা এনে কয়েকগুন বেশী দামে অন্যত্র ইজারা দেয়া। যা সরকারী আইন কানুন বিরোধী।
এছাড়াও গরুর হাটের নামে অংশীদারদের হক মেরে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুর রহমান ও জুলহাসের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,জাকির হোসেন চেয়ারম্যানের আশকারা ও শেল্টার পেয়ে দিনদিন তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নের নামে ডিক্রীরচর খেয়াঘাট সদর উপজেলা হতে মাত্র ৮/৯ লাখ টাকা দিয়ে নিয়ে আসলেও পরে জাকির চেয়ারম্যান, আব্দুর রহমান,মাহবুব আলম জুলহাস গং চলতি বছর সেই খেয়াঘাট ইয়াসিনকে ৯২ লাখ টাকায় দ্বিতীয় বার ইজারা দেয়। যা সরকারী টেন্ডার আইন বিরোধী। বাকী ৮২ লাখ টাকা আব্দুর রহমান,মাহবুব আলম জুলহাস, আব্দুল ওয়াহাব সরকার গং হাতিয়ে নিচ্ছে।
চলতি বছর ডিক্রীরচর খেয়াঘাটের ইজারা নেন আলীরটেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার শাহীন রাজুর ছোট ভাইয়ের শ্বশুর ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল ওয়াহাব সরকার।
মতিউর রহমান মতি চেয়ারম্যান থাকাকালে তার লোকজন দিয়ে এভাবে মসজিদ মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো। যা বর্তমান জাকির চেয়ারম্যানের শাসনামলে বেশী মাত্রায় উক্ত টাকা লুটপাট করে নিচ্ছে রহমান, জুলহাস গং চক্র।
একটি সুত্র হতে জানা যায়,গত বছর ডিক্রীরচর খেয়াঘাটে অস্থায়ী পশুর হাটের টাকা কালেকশনের ২ টি বই সরিয়ে ফেলে রহমান ও জুলহাস। ২ টি বইয়ের আদায় কৃত টাকার পরিমান হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। গত বছর সেই টাকা চুরি করায় শেয়ার হোল্ডারদের লস গুনতে হয়।
আব্দুর রহমান ৯ টি মাদ্রাসায় বছরে ৩০০০০/ টাকা করে দিচ্ছেন বললেও ৩ টি মাদ্রাসা সেই টাকা পায়। বাকী গুলো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
চলতি বছর শেয়ার হোল্ডারদের সর্তকতার কারনে অস্থায়ী পশুর হাটের টাকা রহমান ও জুলহাস চুরি করতে না পারায় সাড়ে ৫২ লাখ টাকা আয় হয়েছে।
অথচ গত বছর লস দেখানো হয়েছিল।
সচেতন এলাকাবাসী প্রকাশ্যে মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক উন্নয়নের নামে আনা ডিক্রীরচর খেয়াঘাট হতে আয়কৃত গত ১০ বছরে প্রায় ৮ কোটি টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে বা কার কার পকেটে গেছে সে হিসাব দিতে রহমান ও জুলহাস সহ জাকির চেয়ারম্যানের কাছে দাবী জানিয়েছেন।
অন্যথায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একটি তদন্ত টিম গঠন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও খেয়াঘাট পরিচালনা কমিটির অন্যতম হোতা আব্দুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ৯ টি মাদ্রাসাকে বছরে ৩০ হাজার টাকা করে ২৭০০০০/ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু ৯ টি মাদ্রাসার নাম বলেননি।
আলীরটেক ইউনিয়ন বিএনপি সহ সভাপতি মাহবুব আলম জুলহাস এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৯৭২৪০৭৫@@) একাধিকবার ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মুঠোফোনে জানতে ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন