বাঁশখালীতে শান্তি ফিরছে: দীর্ঘদিনের সংঘাত মেটাতে এমপি জহিরুল ইসলামের মধ্যস্থতা
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় সরল ইউনিয়নের সরকারি খাসজমি, লবণ মাঠ ও চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে চলে আসা দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী বিরোধ নিরসনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় বিবদমান পক্ষগুলোকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মীমাংসা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রেক্ষাপট
সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডসহ উপকূলীয় সমুদ্র চর এলাকায় সরকারি খাসজমি ও চিংড়ি ঘেরের আধিপত্য নিয়ে যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে অতীতে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলি বর্ষণ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ গত ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর লবণ মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হন। এছাড়া পশ্চিম সরল এলাকায় মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের বিরোধের জেরে দোকানদার ও পথচারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বারবার অবনতি হওয়ায় স্থানীয়রা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।
শান্তি আলোচনার উদ্যোগ
এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে গত রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় বাঁশখালী জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে প্রথম দফায় মীমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার উপস্থিত ছিলেন।
এমপি ও প্রশাসনের কঠোর বার্তা
বৈঠকে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, "আমরা এই সমস্যার স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান চাই। শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উভয় পক্ষকে পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।"
বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "রাষ্ট্রে বসবাস করতে হলে রাষ্ট্রের আইন মানতেই হবে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা নষ্ট করা যাবে না।"
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
বৈঠকে উভয় পক্ষকে প্রতিনিধি মনোনীত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় দফা আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। উপকূলীয় এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বাঁশখালীর সর্বস্তরের জনগণ।
আপনার মতামত লিখুন