নারায়ণগঞ্জে ব্যাবসায়ীর অফিসে ভাংচুর, তালা ঝুলিয়েছে এমপি পুত্র আশার লোকজন
বন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্যে আবুল কালামের ছেলে ও বিএনপি নেতা আবুল কাউছার আশার লোকজনের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, মারধর ও অফিসে তালা ঝুলানোর অভিযোগ উঠেছে।
আজ সকালে এ ঘটনার সময়ে আশা নিজেও উপস্থিত ছিলেন জানান ভুক্তভোগী নারগিস মাকসুদ। তিনি বলেন ক্ষমতা অপব্যবহার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জিম সরাতে বাধ্য করা, অফিসে ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন এমপি পুত্রের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে আবুল কাউছার আশা। প্রসঙ্গত, নারগিস মাকসুদের স্বামী মাকসুদ হোসেন গত সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ছিলেন।
নারগিস মাকসুদ জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপির ছেলে আশা ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার ও ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নানাভাবে অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন।
তাদের জায়গায় ছেলে একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম (জিম) গড়ে তোলেন। কিন্তু এমপি-পুত্র আশার প্রতিহিংসামূলক আচরণের শিকার হয়ে সেই জিম সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তারা। জিম না সরালে তাদের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মামলা দায়ের করা হবে। কোনো আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পরবর্তীতে এক সপ্তাহের মধ্যে তারা জিমের সমস্ত সরঞ্জাম সরিয়ে নেন।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, জিম সরিয়ে নেওয়ার পরও ক্ষান্ত হননি। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তারা বল প্রয়োগ করে আমার ছেলে মাহামুদুল হাসান শুভ'র অফিসে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং সেখানে কর্মরত ম্যানেজারদের মারধর করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এছাড়া, মিথ্যা মামলায় আমাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পেপার মিলের সাথে জমি সংক্রান্ত ঘটনা অন্য বিষয় হওয়া সত্ত্বেও এমপির ছেলে কেন বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করছেন এবং অফিসে তালা ঝোলাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওই ভুক্তভোগী।
এ অবস্থায় নিজের পরিবার ও ব্যবসার নিরাপত্তাসহ ন্যায়বিচারের স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে এমপি পুত্র আবুল কাউছার আশাকে কল করলে তিনি জানান, আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে গিয়েছি। পরে কি হয়েছে আমার জানা নেই।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন জানান, আমরা খবর পেয়ে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে এসেছি কোন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে অবগত নই। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নিবো।
আপনার মতামত লিখুন