বাংলাদেশে হামের প্রকোপ, শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতার আহ্বান
বাংলাদেশে ২০২৬ সালে হামের প্রকোপ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ব্যাপক নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বছরের শুরুতে দেশজুড়ে দ্রুত হারে হাম ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুদের সুরক্ষায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নজরদারি জোরদার করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ২৬ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত দেশে ১৮ হাজার ২১৯টি সন্দেহজনক হাম রোগীর ঘটনা, ২ হাজার ৮৯৭টি পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী এবং ১৬৪টি সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়; এর মধ্যে ৩০টি মৃত্যু নিশ্চিত হামজনিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময়ে ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।
পরবর্তীতে ১৪ জুন পর্যন্ত WHO-এর প্রতিবেদনে ৮৫ হাজার ৯৫১টি সন্দেহজনক হাম রোগী এবং ১০ হাজার ৩২৩টি পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর তথ্য উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে ৫৬০টি সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু এবং ৯২টি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সাধারণত উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। হাম শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
হামের প্রকোপ মোকাবিলায় সরকার ২০২৬ সালে দেশব্যাপী measles-rubella (MR) টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ে উচ্চঝুঁকির ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রাখা, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং জ্বর ও ফুসকুড়িসহ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।WHO বলছে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান।
আপনার মতামত লিখুন