এলপিজি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা নেই, বিপাকে ভোক্তা
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোক্তাদের অভিযোগের শেষ নেই। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, ওজন কম দেওয়া, বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং সরবরাহ সংকটের কথা বলে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর অভিযোগ প্রায়ই উঠছে। এর মধ্যেই এলপিজির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে নগর ও শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের গ্যাসের অনিশ্চয়তা এবং নতুন সংযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার ব্যবহার করছে। ফলে এলপিজির দাম বাড়লে সরাসরি বাড়তি ব্যয় বহন করতে হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, এলপিজির ক্ষেত্রে শুধু দাম বাড়াই সমস্যা নয়; দাম নির্ধারণ ও বাজারে তা বাস্তবায়নের মধ্যেও বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসে বা নির্দিষ্ট সময়ে দাম ঘোষণা করলেও অনেক বিক্রেতা সেই নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করেন না। কোথাও ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয়, আবার কোথাও সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে বাড়তি দাম দাবি করা হয়।
একই সঙ্গে খালি সিলিন্ডার ফেরত দেওয়া, নতুন সিলিন্ডার নেওয়া কিংবা ডেলিভারি চার্জের নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে একজন ভোক্তা কাগজে-কলমে যে দামে এলপিজি কেনার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা ব্যয় করছেন।
এ পরিস্থিতিতে শুধু নতুন করে মূল্য ঘোষণা করলেই হবে না। এলপিজি বাজারে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে। নির্ধারিত দামের তালিকা প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ওজন ও সিলিন্ডারের মান পরীক্ষা করে অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে এলপিজির দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, পরিবহন ও অন্যান্য খরচের প্রভাব থাকলেও এর পুরো বোঝা যেন ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অযৌক্তিক প্রভাব কমানো প্রয়োজন।
সবচেয়ে বড় কথা, এলপিজি এখন আর বিলাসী পণ্য নয়—এটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন রান্নার প্রয়োজনীয় জ্বালানি। তাই এলপিজির মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
দাম বাড়ানোর পাশাপাশি যদি বাজারে নৈরাজ্য চলতেই থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হবে। একদিকে বাড়বে রান্নার খরচ, অন্যদিকে বাড়তি দামের কারণে সংসারের অন্যান্য ব্যয়ও সংকুচিত করতে হবে।
তাই এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ঘোষণার পাশাপাশি বাজারের নৈরাজ্য বন্ধ, নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি, সঠিক ওজন নিশ্চিত, কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। Otherwise, শুধু দাম নির্ধারণ করে দিলেই ভোক্তার স্বস্তি ফিরবে না।
আপনার মতামত লিখুন