ফতুল্লা লামাপাড়ায় বিএনপির আইনজীবী নেতা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
বিএনপি নেতা এড্যা. আমিনুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে ফতুল্লার পশ্চিম লামাপাড়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখলে বাধা, মামলা দিয়ে হয়রানি, মারধর ও সন্তানদের ক্ষতির হুমকির অভিযোগ করেছেন এ কে এম হোসেন। ৭ অক্টোবর বাদ আসর এক সম্মেলনে এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি নিজের ও সন্তানদের জানমালের নিরাপত্তা দাবি করেন তিনি।
অভিযোগকারী এ কে এম হোসেন জানান, তার বাবা জিয়াউল হক মাস্টারের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। পারিবারিক বিরোধের জেরে তার ছোট ভাই বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম মানিক ও তার সাঙ্গু -পাঙ্গু তাকে পৈতৃক সম্পত্তিতে যেতে এবং তা ভোগদখল করতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হোসেনের দাবি, পশ্চিম লামাপাড়া এলাকায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তির প্রায় ৩ শতাংশ ৬০ পয়েন্ট জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে তিনি সন্তানদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করেছেন। দেশে ফিরে নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসবাস ও ভোগদখলের চেষ্টা করলে তিনি বাধার মুখে পড়েন।
এ কে এম হোসেন অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তার ভাই তাকে মারধর করেন এবং হুমকি দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, “তোকে এবং তোর বংশও রাখবো না।” এ ছাড়া তার ভাই আইনজীবী হওয়ায় সেই পেশাগত প্রভাবও খাটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হোসেন বলেন, এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে এবং সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ২০১৮ সালে তিনি নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় চলে যান। দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের গত ২৩ আগস্ট নিজ বাড়িতে ফিরে উঠতে চাইলে ২৫ আগস্ট তার ছোট ভাই অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম মানিক বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ কে এম হোসেন আরও অভিযোগ করেন, আমিনুল বিএনপির আইনজীবী কমিটির নেতা তাই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি তার সন্তানদের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, কয়েক বছর আগে তার মাকে দিয়ে দলিল বাতিলের দাবিতে একটি মামলা করা হয়েছিল। তবে তার দাবি অনুযায়ী, তার মা ২০২২ সালে ওই মামলা প্রত্যাহার করে নেন।
এ কে এম হোসেন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার চিন্তা করেছি। কিন্তু এখন নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। ২৩ আগস্ট নিজ বাড়িতে উঠতে চাইলে ২৫ আগস্ট আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। এতে আমি আরও অনিরাপত্তায় পড়ে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে আমার পৈতৃক জায়গা ভোগদখলের সুযোগ এবং নিজের ও সন্তানদের জানমালের নিরাপত্তা চাই। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে যেন কেউ আমার ওপর জুলুম করতে না পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
আপনার মতামত লিখুন