নারায়ণগঞ্জে অ স্ত্র-হে রো ইনসহ ‘কোবরা গ্রুপের’ প্রধান গ্রে প্তা র
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘কোবরা গ্রুপ’ বা ‘সোহেল গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান সোহেল খন্দকারকে বিদেশি রিভলবার, গুলি ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
এর আগে ১১ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার মিশনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল খন্দকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, পাঁচটি গুলি, ৭০ পুরিয়া (১০ গ্রাম) হেরোইন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার কাঠেরপুল ও আশপাশের এলাকায় মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। একাধিক গোপন আস্তানা ও মাদক বিক্রির স্থান পরিচালনার মাধ্যমে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের লেনদেন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।
তার কর্মকাণ্ডের কারণে কাঠেরপুলসংলগ্ন এলাকা মাদকের অন্যতম আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে দাবি এসআরবির।
সংস্থাটির দাবি, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে সোহেল একাধিক কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। এসব বাহিনীর সদস্যদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দিয়ে এলাকায় নিয়মিত মহড়া চালাতেন তিনি। অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় পোশাক কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঝুটের গোডাউন মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বাহিনীর সদস্যরা গোডাউনে লুটপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও ঝুট লুট করে নিয়ে যেতেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
এসআরবি আরো জানায়, সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ ১৫টির বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার মামলাতেও তিনি আসামি। এর আগেও একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।
তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন বলে দাবি সংস্থাটির।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, সোহেল খন্দকারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে আবেদন করেছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে তদন্ত করে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করার সুপারিশ করা হবে।
সোহেলের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধীরা সাধারণত সুবিধাবাদী হয়ে থাকে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সোহেলের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এসআরবির এ কর্মকর্তা আরো বলেন, গ্রেপ্তার সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন